খিদের পেটে ঠান্ডা মাথায় কী আর চুরি করা যায়। তার উপর বাড়িতে কেউ নেই। নগদ টাকাপয়সার সঙ্গে ঘরে চাল, ডালও মজুত করা ছিল। ফাঁকা বাড়িতে তাই আর বিশেষ লাজলজ্জা না পেয়েই ভাত ফুটিয়ে খেয়ে গেল চোর। শনিবার সকালে বাড়ি ফিরে এই কাণ্ড দেখে কার্যত হা! তদন্ত করতে এসে একই অবস্থা পুলিশকর্মীদেরও। 

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছএ দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার নরেন্দ্রপুরের পূর্ব আদর্শনগর এলাকায়। বাড়িতে একাই থাকেন শেফালী সর্দার। তাঁর স্বামী আগেই মারা গিয়েছেন, ছেলেও কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। শেফালীদেবীর মেয়ে অর্চনা সর্দার কাছেই উত্তরায়ণপল্লিতে থাকেন। শুক্রবার রাতে মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন শেফালীদেবী। বৃষ্টি নামায় রাতে সেখানেই থেকে যান তিনি। আর সেই সুযোগেই ফাঁকা বাড়িতে ঢুকে নিশ্চিন্তে চুরি করে চোর। 

আরও পড়ুন- ফাঁকা বাড়িতে চোরের সঙ্গে লড়াই, মায়ের দামি গয়না বাঁচাল খুদে

আরও পড়ুন- চুরি করতে এসে আধার কার্ড ফেলে গেল চোর, ছোট্ট ভুলেই সোজা গারদে

শনিবার সকালে বাড়ি ফিরে ঘর লন্ডভন্ড দেখে চুরির কথা বুঝতে পারেন শেফালীদেবী। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর সন্তানসম্ভবা মেয়ের চিকিৎসার জন্য পয়তাল্লিশ হাজার টাকা রেখে গিয়েছিলেন জামাই। তা বাদেও নগদ হাজার তিনেক টাকা ছিল। এ সবই আলমারি ভেঙে নিয়ে গিয়েছে চোর। পাশাপাশি বেশ কিছু সোনার গয়নাও চুরি হয়েছে। 

এর পরেই বোঝা যায়, চুরি করতে এসে ভাত রান্না করেও খেয়েছে চোর। কিন্তু শুধু ভাত কি আর খাওয়া যায়, তাই সঙ্গে কিছুটা পেয়াঁজ ভাজাও করে খায় সে। রান্না করা ভাত, পেয়াঁজ ভাজা সবই কিছুটা করে রয়ে গিয়েছে। ঘরে থাকা চালের পাত্র থেকে চাল নিয়েই চোর রান্না করেছে, সে প্রমাণও মিলেছে। তবে ফ্রিজে রান্না করা খাবার থাকলেও তাতে হাত দেয়নি সে। শুধু তাই নয়, ঘরে আলো কম থাকায় বাথরুমের আলো খুলে ঘরে লাগিয়ে নিশ্চিন্তে হাত সাফাই করে চোর। কার্যত সর্বস্ব খুইয়ে মাথায় হাত পড়েছে শেফালীদেবীর। খবর পেয়ে এ দিন সকালে ঘটনাস্থলে যায় নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।