বেশ কয়েক মাস ধরে নজিরবিহীন কাণ্ড হুগলি জেলায়। দিলীপ যাদব তৃণমূলের জেলা সভাপতি হওয়ার পর থেকে দলীয় সংগঠনে ডামাডোল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছিল বলে অভিযোগ। এমনকি, বেশ কয়েকটি জায়গায় তৃণমূল বনাম তৃণমূল মিছিল হতে দেখা গিয়েছিল। কারণ, সভাপতি দিলীপ যাদব ওই এলাকার বিধায়ক বা মন্ত্রীদের না জানিয়েই দলীয় কর্মসূচি ঠিক করছিলেন বলে অভিযোগ। দিলীপের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায় অপরূপা পোদ্দারকেও। এই অবস্থায় দলের শীর্ষ নেতৃত্বের হস্তক্ষেপে জট কাটল হুগলি জেলা তৃণমূলে।

আরও পড়ুন-ব্যস্ত রাস্তায় দলছুট হাতির 'দাদাগিরি', তাড়া খেয়ে জখম ১, প্রাণরক্ষা অ্যাম্বুল্যান্স চালকের

কয়েক মাস আগে দিলীপ যাদবকে হুগলি জেলা তৃণমূলের সভাপতি হিসেবে মনোনিত করে দল। তারপর থেকেই দলের অন্দরে মতানৈক্য সামনে আসতে থাকে। কিছু দিন আগে আরামবাদে দলীয় কর্মসূচিতে দলের একাংশের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। সভাপতি দিলীপ যাদবের বিরুদ্ধে দলের নির্দেশ না মানার অভিযোগ ওঠে। এই অবস্থায় কলকাতার শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে অভিযোগ যায়। সমস্যা সমাধানে কলকাতায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের অফিসে বৈঠক হয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের নির্দেশে কোর কমিটি গঠন করা হয়। এবার থেকে হুগলি জেলায় দলের যাবতীয় কর্মসূচি ঠিক করবে আচ সদস্যের এই কোর কমিটি। কোর কমিটি রয়েছেন, জেলার দুই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্য়ায়, অপরূপা পোদ্দার। দুই মন্ত্রী তপন দাশগুপ্ত ও অসীমা পাত্র। বিধায়ক বেচারাম মান্না, প্রবীর ঘোষাল, স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব।

আরও পড়ুন-রেলকর্মীর শ্লীলতাহানি-মারধরের অভিযোগ, দিদিকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত নির্যাতিতার ভাই

আরও পড়ুন-দুর্গা প্রতিমা তৈরির বরাত নেই, বিকল্প রোজগারের পথে নিয়ে মুখোশ-মাস্ক তৈরি শিল্পীদের

এরপরই, শনিবার সাংসদ কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্য়ায় হুগলি জেলা তৃণমূলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বলেন, ''জেলায় ঐক্যবদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস। দলের মধ্যে কোনও মতানৈক্য বা বিভেদ নেই। সবাই একসঙ্গে মিলে কাজ করব। গত লোকসভায় তৃণমূল যেসব জায়গায় পিছিয়ে সেখানে ঝাঁপিয়ে পড়ে ঐক্য়বদ্ধভাবে কাজ করবে তৃণমূল কংগ্রেস। বিজেপিকে রুখতে জেলা জুড়ে ঝাঁপাবে হুগলি জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব''।