আশিষ মণ্ডল, বীরভূম: 'পঞ্চায়েত নির্বাচন না করিয়ে ভুল হয়েছে। এবার করাব।' দলের কর্মিসভায় স্বীকার করে নিলেন বীরভূমে তৃণমূলের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডল। বৃহস্পতিবার আবার সভা চলাকালীন মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান তৃণমূল কর্মীদের একাংশ। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় আবারও। কোনওমতে পরিস্থিতি সামাল দেন নেতারা।

আরও পড়ুন: মেদিনীপুরে শক্তি বাড়ছে সিপিএমের, বিক্ষোভ মিছিলে দশ হাজার লোক

বীরভূমের সাঁইথিয়া ব্লকের মাঠপলসা, বনগ্রাম অঞ্চলের কর্মীদের নিয়ে তৃণমূলের সম্মেলন ছিল বৃহস্পতিবার। সম্মেলনে শুরুতে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই বিভিন্ন বুথে দলের হারের কারণ জানতে চান অনুব্রত। বনগ্রাম পঞ্চায়েতের ১৪২ নম্বর বুথ সভাপতি শান্ত মণ্ডল বলেন,  'অঞ্চল সভাপতি কোভিড মণ্ডল কোন সভা ডাকেন না। কখনও ব্লক সভাপতি সাবের আলি খান, তো কখনও প্রধান, তো কখনও আবার অঞ্চল সভাপতির পক্ষ নেন। তাই আমাদের হার হয়েছে।' এরপরই মেজাজ হারিয়ে অনুব্রত মাইক কেড়ে নিয়ে কার্যত ঘাড় ধরে সভা থেকে বের করে দেন বুথ সভাপতিকে। স্থানীয় ব্লক সভাপতি ও তাঁর অনুগামীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর সভা থেকে বেরিয়ে যায় স্থানীয় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের একাংশ। কোনওমতে পরিস্থিতি সামাল দেন তৃণমূলের সাইঁথিয়া শহর সভাপতি।

আরও পড়ুন: বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ, জুটমিল বন্ধের প্রতিবাদে রণক্ষেত্র টিটাগড় রোড

জানা গিয়েছে, স্থানীয় মাঠপলসা এলাকায় ১৯৮ নম্বর বুথে আবার তৃণমূল প্রার্থীর তুলনায় অনেক বেশি ভোট পেয়েছে কংগ্রেস প্রার্থী। কেন? বুথ সভাপতির সোজাসাপ্টা জবাব, 'পঞ্চায়েতের যিনি সদস্য হয়েছেন, তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভে মানুষ কংগ্রেসকে ভোট দিয়েছেন। তাছাড়া পঞ্চায়েত নির্বাচন না হওয়ায় সদস্যরা নির্বাচিত হয়ে আসেননি। এনিয়েও মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। তাই হেরেছি।' বুথ সভাপতির জবাব শুনে পঞ্চায়েত নির্বাচনে না করিয়ে যে ভুল হয়েছে, সেকথা স্বীকার করে নেন অনুব্রত। বলেন, এবার পঞ্চায়েত ভোট করাব। আপনারা নিজেদের ক্ষমতায় জিতে আসবেন।'