উত্তম দত্ত, হুগলি: 'দিদিকে বলো'-র প্রচারে কত কী না করছেন তৃণমূল নেতারা। কিন্তু হুগলির খানাকুলের এক উঠতি যুব তৃণমূল নেতা যা করলেন, এমন পরিকল্পনা হয়তো প্রশান্ত কিশোরের মাথাতেও আসেনি। 'দিদিকে বলো'-র প্রচারে এবার আস্ত একটা ফুটবল দল নামিয়ে দিলেন খানাকুলের যুব তৃণমূল নেতা নজিবুল করিম। 

খানাকুলে গত কয়েক বছর ধরেই বছরের এই সময় খানাকুল প্রফেশনাল ফুটবল লিগ নামে একটি টুর্নামেন্ট হয়। এলাকায় জনপ্রিয় এই টুর্নামেন্ট প্রায় দু' মাস ধরে চলে। অংশ নেয় ৩২টি দল। সেখানেই একটি দল নামিয়েছেন নজিবুল। তৃণমূল নেতার ওই ফুটবল টিমের নাম 'রামচন্দ্রপুর দিদিকে বলো ফুটবল ক্লাব।' দলের স্লোগান 'চলো খেলি দিদিকে বলি।'

নজিবুলের ফুটবল টিমের খেলোয়াড়রা শুক্রবারই প্রথম মাঠে নেমেছিলেন। পরিচিত ফুটবল জার্সির বদলে খেলোয়াড়দের গায়ে ছিল 'দিদিকে বলো' গেঞ্জি। সাধারণত এই গেঞ্জি পরেই 'দিদিকে বলো' কর্মসূচির প্রচার করেন তৃণমূল নেতা- কর্মীরা। গেঞ্জিতে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি থেকে শুরু করে 'দিদিকে বলো'- র হেল্পলাইন নম্বর সবই ছিল। 

নজিবুল বলেন, 'এই ক্লাবের উদ্দেশ্য হচ্ছে দিদির এই কর্মসূচিকে তুলে ধরা। ফুটবল ম্যাচে হাজার হাজার দর্শক আসেন,  তাঁদের কাছে খেলার মাধ্যমেই কর্মসূচির প্রচারও হব। আমাদের ফুটবলাররা সবাই তৃণমূল ছাত্র পরিষদের কর্মী।' বিরোধীরা অবশ্য কটাক্ষ করে বলছেন, গ্রামে গ্রামে গিয়ে নেতারা সাধারণ মানুষের বাড়িতে খেয়ে, রাত কাটিয়েও 'দিদিকে বলো' কর্মসূচি সফল করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তাই এখন ফুটবল দল নামাতে হচ্ছে। 

বছর চল্লিশের যুব তৃণমূল নেতা নজিবুল এখন খানাকুলে তৃণমূলের অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামী বলে এলাকায় পরিচিত নজিবুল জেলা পরিষদেরও সদস্য। খানাকুলের তৃণমূল বিধায়ক ইকবাল আহমেদকে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় দেখা যায় না বলে অভিযোগ। আগে যাও বা তিনি মাঝেমধ্যে আসতেন, অসুস্থতার কারণে এখন একেবারেই নিজের বিধানসভায় যান না তিনি। ফলে বকলমে বিধায়কের দায়িত্ব সামলে মানুষের অভাব, অভিযোগ সবই শুনে সামাল দেন নজিবুল। এ হেন দাপুটে তৃণমূল নেতার ফুটবল দলকে ঘিরে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহও ছিল তুঙ্গে। কিন্তু টুর্নামেন্টের প্রথম খেলাতেই ৪-০ গোলে পরাজিত হয়েছে নজিবুলের দল! তাতে অবশ্য এতটুকু দমছেন না যুব তৃণমূল নেতা। তাঁর আশা, দলের নাম যখন 'দিদিকে বলো', খেলোয়াড়রা ঠিক ঘুরে দাঁড়াবেই।