তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব নিয়ে যে বিবাদ তৈরি হয়েছে, সেই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে বিস্তারিত জবাব দিল দল। সোমবার দলের সিনিয়র নেতা কল্যাণ ব্যানার্জি জানিয়েছেন, বর্তমান জাতীয় কার্যকরী কমিটির মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৈধ। ঋতব্রত ব্যানার্জির তোলা অভিযোগকে তিনি ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) অন্দরে নেতৃত্ব নিয়ে যে বিবাদ চলছে, সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে (ECI) বিস্তারিত জবাব দিল দল কালীঘাটপন্থীরা। সোমবার দলের সিনিয়র নেতা কল্যাণ ব্যানার্জি জানিয়েছেন, দলের জাতীয় কার্যকরী কমিটি ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৈধ।

কমিশনে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল
প্রসঙ্গত, সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (AITC) সাংগঠনিক কাঠামো এবং ব্যাঙ্কে স্বাক্ষরকারী কারা হবেন, তা নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, দুই শিবিরের থেকেই জবাব তলব করেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই প্রেক্ষাপটেই এই জবাব জমা দেওয়া হল। কমিশনের দফতরে গিয়েছিলেন কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্যায়,সাগরিকা ঘোষ- তৃণমূল নেতারা।
কল্যাণের জবাব
দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের কল্যাণ বলেন, "ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন আমাদের কাছে জবাব চেয়েছিল। আমরা আজ তার বিস্তারিত উত্তর জমা দিয়েছি।" কল্যাণ জানান, অভিযোগ করা হয়েছিল যে AITC কমিটি এবং জাতীয় কার্যকরী কমিটির মেয়াদ তিন বছরের এবং তা ২০২৫ সালে শেষ হয়ে গেছে।
তিনি ব্যাখ্যা করে বলেন, ২০০০ সালে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর দলের গঠনতন্ত্র সংশোধন করা হয়। তখন জাতীয় কার্যকরী কমিটির মেয়াদ তিন বছর থেকে বাড়িয়ে চার বছর করা হয়েছিল। পরে ২০০৬ সালে তা আরও বাড়িয়ে পাঁচ বছর করা হয়।
কল্যাণের কথায়, "শেষবার নির্বাচন হয়েছিল ২০২২ সালে। তাই স্বাভাবিকভাবেই AITC এবং জাতীয় কার্যকরী কমিটির মেয়াদ পাঁচ বছর, অর্থাৎ ২০২৭ সাল পর্যন্ত থাকবে। সুতরাং, কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, এই অভিযোগটা ভুল এবং দলের গঠনতন্ত্র বিরোধী।"
অভিযোগকারীদের অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই তৃণমূল নেতা। তিনি বলেন, "যদি আপনারা বলেন যে ২০২৫ সালের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্বই নেই, তাহলে আপনারা নির্বাচনে লড়লেন কেন? আপনাদের তো পদত্যাগ করা উচিত। একদিকে দলের অস্তিত্ব নেই বলবেন, আবার সেই দলের প্রতীকে ভোটেও লড়বেন, এটা তো হতে পারে না। যদি আপনাদের কথাই ঠিক হয়, তাহলে তো আপনাদের জেতাটাই একটা বড় জালিয়াতি। আপনাদের এখনই পদত্যাগ করা উচিত।"
কল্যাণ আরও অভিযোগ করেন যে, অন্য গোষ্ঠী যেভাবে আলাদা কমিটি তৈরি করেছে, তা সম্পূর্ণ দলীয় সংবিধানের পরিপন্থী এবং "জালিয়াতি"। তিনি বলেন, "একটা জালিয়াতির পথ নেওয়া হয়েছে। যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, তা জালিয়াতিরই ফল। এটা পুরোপুরি অসৎ কাজ। ওরা AITC-র স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। ওরা শুভেন্দু অধিকারী, মুখ্যমন্ত্রী এবং তাঁদের পুলিশ অফিসারদের সমর্থনে বেআইনিভাবে পার্টি অফিস দখল করছে। এটা খুব খারাপ হচ্ছে।"
উল্লেখ্য, গত ২ জুলাই নির্বাচন কমিশন দুই শিবিরকেই সোমবার, ৬ জুলাই, বিকেল সাড়ে পাঁচটার মধ্যে তাদের জবাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। ঋতব্রত ব্যানার্জির নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী দলের প্রতীক এবং প্রশাসনের উপর নিজেদের অধিকার দাবি করায় তৃণমূলের অন্দরে এই ফাটল আরও গভীর হয়েছে।


