জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর একটি ক্লাবঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়।

জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে এক তরুণীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই একটি ক্লাবঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। এই ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে মৃতার পরিবার। বিশেষ করে, সময়মতো নিখোঁজ ডায়েরি গ্রহণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। যদিও পুলিশ এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার সকালে ধূপগুড়ি এলাকার বাসিন্দা ২২ বছর বয়সী রঞ্জিতা রায় ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে বাড়ি থেকে বের হন। তাঁর সঙ্গে স্বামী ও সাত মাসের সন্তান থাকলেও ব্যাঙ্কে ভিড় এবং শিশুর অসুস্থতার কারণে স্বামী সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। রঞ্জিতা একাই ব্যাঙ্কে থেকে যান। পরে দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তিনি বাড়ি না ফেরায় পরিবারের উদ্বেগ বাড়তে থাকে।

স্বামীর অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর তাঁরা ধূপগুড়ি থানায় গিয়ে নিখোঁজ ডায়েরি করতে চান। কিন্তু সেখানে তাঁদের জানানো হয়, ২৪ ঘণ্টা পূর্ণ না হলে মিসিং ডায়েরি নেওয়া সম্ভব নয়। এই কারণে গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।

পরদিন ভোরে ধূপগুড়ির গিলান্ডি সেতু সংলগ্ন একটি ক্লাবঘরের ভিতর থেকে রঞ্জিতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

মৃতার পরিবারের বক্তব্য, ব্যাঙ্ক থেকে টাকা তোলার পর রঞ্জিতা শেষবার ফোনে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। এরপর হঠাৎ তাঁর সঙ্গে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে পরিবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মৃতার বোনের দাবি, যেভাবে দেহটি উদ্ধার হয়েছে, তা নিয়ে তাঁদের সন্দেহ রয়েছে এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) জানিয়েছেন, পরিবারের অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। তাঁর দাবি, মঙ্গলবার রাতেই নিখোঁজ ডায়েরি নথিভুক্ত করা হয়েছিল এবং পরদিন মৃতার ছবি জমা দিতে বলা হয়। পুলিশ অভিযোগ নিতে অস্বীকার করেছে—এমন কোনও লিখিত অভিযোগও তাঁদের কাছে আসেনি বলে তিনি জানান।

বর্তমানে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালানো হচ্ছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের পাশাপাশি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে মৃতার পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।