West Bengal Election Result: হাতে গোনা আর একদিনের অপেক্ষা। তারপরই জানা যাবে বাংলার শাসনভার কার দখলে। কে বসছেন ছাব্বিশের কুর্শিতে। আগামী ৪ মে বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা। তার আগে গণনা কেন্দ্রগুলিতে বাড়ছে নিরাপত্তায় জোর। বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।
West Bengal Election Result: সোমবার বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা। বাংলার কুর্শি কার দখলে তা জানতেনিরাপত্তায় জোর। বাংলায় গণনাকেন্দ্র কমে ৭৭, কড়া নজরদারিতে থাকছে কিউআর কোড। ২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের পর এবার সবার নজর গণনার দিকে। কিন্তু তার আগেই বড়সড় রদবদল ঘটাল নির্বাচন কমিশন। ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে এবং স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা নিশ্ছিদ্র করতে রাজ্যে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে দিল কমিশন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে যেখানে ১০৮টি গণনাকেন্দ্র ছিল, এবার তা কমে দাঁড়াল মাত্র ৭৭-এ।
কমিশনের লক্ষ্য: নিশ্ছিদ্র সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা
প্রাথমিকভাবে গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৭ রাখার প্রস্তাব থাকলেও, শেষ মুহূর্তে নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার স্বার্থে তা আরও ১০টি কমানো হয়েছে। কমিশনের যুক্তি, গণনাকেন্দ্রের সংখ্যা কম হলে সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও প্রযুক্তির মাধ্যমে নজরদারি চালানো অনেক সহজ হয়। ২৩টি জেলার মধ্যে জেলা সদরগুলিতে ৩৫টি এবং মহকুমা স্তরে ৪২টি কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
এক নজরে জেলাওয়াড়ি গণনাকেন্দ্র:
উত্তর ২৪ পরগনা: রাজ্যের সর্বোচ্চ ৩৩টি আসনের জন্য থাকছে ৭টি কেন্দ্র।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ৩১টি আসনের জন্য ৬টি কেন্দ্র।
কলকাতা: মোট ৫টি কেন্দ্র (উত্তরে ১টি এবং দক্ষিণে ৪টি)।
মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার ও হুগলি: ৫টি করে কেন্দ্র।
ঝাড়গ্রাম, কালিম্পং ও আলিপুরদুয়ার: ১টি করে গণনাকেন্দ্র।
প্রযুক্তির ছোঁয়া: আইকার্ডে QR কোড
এবারের গণনায় কারচুপি রুখতে বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে কমিশন। গণনাকেন্দ্রে প্রবেশের জন্য কাউন্টিং এজেন্টদের দেওয়া হবে QR কোড যুক্ত বিশেষ আইডেন্টিটি কার্ড। এই কোড স্ক্যান করেই কেন্দ্রে ঢুকতে হবে। নিয়ম অনুযায়ী, একবার ভেতরে প্রবেশ করলে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত আর বাইরে বেরোনো যাবে না।
গণনার নিয়মাবলী
আগামী ৪ মে সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোটগণনা। কমিশনের গাইডলাইন অনুযায়ী:
১. প্রথমে পোস্টাল ব্যালট গণনা করা হবে।
২. কাউন্টিং এজেন্টরা সঙ্গে রাখতে পারবেন কেবল ১৭সি (17C) ফর্ম, পেন এবং সাদা কাগজ।
৩. মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম নিয়ে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৪. প্রতিটি টেবিলের গণনা শেষে রিটার্নিং অফিসার তা খতিয়ে দেখে সিলমোহর দেবেন এবং সরাসরি কমিশনের পোর্টালে তথ্য আপলোড করা হবে।
রাজনৈতিক বিতর্ক
গণনার ঠিক আগে কেন্দ্রের সংখ্যা কমিয়ে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তে সরব হয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ অগ্রবাল অবশ্য জানিয়েছেন, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনে এই সংখ্যা আরও কমতে পারে। আজ রাত থেকেই তিলোত্তমার বিভিন্ন গণনাকেন্দ্র এবং স্ট্রংরুমের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে পারেন সিইও। গোটা রাজ্য এখন তাকিয়ে ৪ মে-র দিকে, যখন এই ৭৭টি কেন্দ্র থেকেই নির্ধারিত হবে বাংলার আগামী পাঁচ বছরের ভাগ্য।
আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


