বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হতেই কোনও বিজয় মিছিল করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন বিশেষ নির্বাচনী রোল পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। প্রাথমিক ট্রেন্ডে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত, দুই দলই প্রায় ১১২টি আসনে এগিয়ে।

সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা শুরু হতেই স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হল, কোনও বিজয় মিছিল করা যাবে না। একথা জানিয়েছেন বিশেষ নির্বাচনী রোল পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গুপ্ত বলেন, "...সব অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে। কিছু সিসিটিভি ক্যামেরা প্রযুক্তিগত কারণে ৫-১০ মিনিটের জন্য কাজ করেনি...আজ কোনও বিজয় মিছিল করা যাবে না।"

বিভিন্ন রাজ্যের প্রাথমিক ট্রেন্ড

সকাল ৯টা নাগাদ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ট্রেন্ড আসতে শুরু করে। তাতে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) এবং তৃণমূল কংগ্রেসের (অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস) মধ্যে জোরদার টক্করের ছবিটা স্পষ্ট হয়। প্রাথমিক ট্রেন্ড অনুযায়ী, দুই দলই প্রায় ১১২টি আসনে একে অপরকে টেক্কা দিচ্ছে। যদিও নির্বাচন কমিশন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ট্রেন্ড প্রকাশ করেনি।

এরপর নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত রাজ্যে ১৫৬টি আসনে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। আর ৮৪টি আসনে এগিয়ে রয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। BGPM,AJUP,AISF ও সিপিএম- একটি করে আসনে এগিয়ে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত খাতাই খুলতে পারেনি কংগ্রেস। যদিও সকালের দিকে কিছুটা এগিয়ে ছিল অধীর চৌধুরী। তারপর থেকে পিছনে শুরু করে কংগ্রেস।

নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রায় সর্বত্রই বিজেপি প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছে। যে দক্ষিণবঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিত সেই দক্ষিণবঙ্গেও পদ্মফুটতে শুরু করেছে বলেও দাবি বিজেপি নেতাদের।

তামিলনাড়ুতে ডিএমকে (দ্রাবিড় মুনেত্রা কাঝাগম) নেতৃত্বাধীন জোট এআইএডিএমকে-জোটের থেকে সামান্য এগিয়ে রয়েছে। ডিএমকে প্রায় ৫৫টি আসনে এবং বিরোধী শিবির প্রায় ২৫টি আসনে এগিয়ে। অন্যদিকে, আসামে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট কংগ্রেস জোটের থেকে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। এনডিএ ৬৯টি আসনে এবং বিরোধী জোট ১৯টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।

বিজেপি প্রার্থীর কারচুপির অভিযোগ

এদিকে, পশ্চিমবঙ্গের নোয়াপাড়া কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং গণনা কেন্দ্রে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, স্ট্রং রুম খোলার ঘোষণা যখন করা হচ্ছিল, তখন তাঁকে বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্টকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, এটা জালিয়াতির চেষ্টা হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের কাছে যাবেন এবং লিখিত অভিযোগ দায়ের করবেন।

এএনআই-কে তিনি বলেন, "এখনও পর্যন্ত প্রার্থী বা নির্বাচনী এজেন্ট গণনা কেন্দ্রে পৌঁছায়নি, আর ওরা ঘোষণা করে দিচ্ছে যে স্ট্রং রুম খোলা হচ্ছে। এটা জালিয়াতির চেষ্টা। আমরা এখনই অভিযোগ জানাব, আমরা পর্যবেক্ষকের কাছে যাচ্ছি।"

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা

গণনা শুরু হতেই পশ্চিমবঙ্গের মালদহে সাঁজোয়া গাড়ি নিয়ে টহলদারি শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, কেরালা, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরিতেও গণনা প্রক্রিয়া শুরুর আগে দ্রুত স্ট্রং রুম খোলা হয়।