বুধবার দুপুরে তৃণমূল ভবনে উপস্থিত হন খগেন মুর্মুর প্রথম স্ত্রী অরুণা মার্ডি। মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও বিরবাহা হাঁসদার মাঝখানে বসেন তিনি। তৃণমূলের দলীয় পতাকা তাঁর হাতে তুলে দিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী।
তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন মালদা উত্তরের বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মুর প্রথম স্ত্রী অরুণা মার্ডি। বুধবার কলকাতার তৃণমূল কংগ্রেস ভবনে তিনি শাসকদলে যোগ দেন। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও বনমন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদার উপস্থিতিতে অরুণা তৃণমূলের পতাকা হাতে তুলে নেন। এদিকে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু জানিয়েছেন, অরুণার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই, সেটা আবার গত ১২-১৩ বছর ধরেই। অরুণা আলাদা থাকেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
বুধবার দুপুরে তৃণমূল ভবনে উপস্থিত হন খগেন মুর্মুর প্রথম স্ত্রী অরুণা মার্ডি। মন্ত্রী ব্রাত্য বসু ও বিরবাহা হাঁসদার মাঝখানে বসেন তিনি। তৃণমূলের দলীয় পতাকা তাঁর হাতে তুলে দিলেন রাজ্যের দুই মন্ত্রী। রাজ্যের শাসকদলে যোগ দিয়ে অরুণা আদিবাসীদের হয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছেন। এটাও জানিয়েছেন যে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজ তাঁর ভাল লাগে। সেই কাজে তিনি যুক্ত হচ্ছেন। অরুণা বলেন, 'দিদির কাজ ভাল লাগে। সেই জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কাজের জন্য আমি তৃণমূলে যোগ দিয়েছি। আমি এতদিন সিপিএমের হয়ে মহিলা সমিতি করেছি, পরে বিজেপির হয়েও কাজ করেছি। আমি কোনও জায়গা পাইনি। এসসি, এসটি পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মহিলারা যারা অবহেলিত, সুযোগসুবিধা থেকে বঞ্চিত, তাঁদের জন্য আমি কাজ করতে চাই। সেজন্য আমি এই দলে যোগ দিলাম।'
অরুণা আদিবাদী সম্প্রদায়ের মহিলাদের উন্নয়নের জন্য এবার থেকে তৃণমূলের হয়ে কাজ করবেন বলে জানিয়েছেন। যদিও তাঁর স্বামী খগেন মুর্মুর দাবি, আদিবাসীরা তৃণমূলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তিনি বলেন,'তৃণমূল নোংরা রাজনীতি করছে। ওদের থেকে আদিবাসীরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, তৃণমূল আদিবাসীদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। আমাকে যেভাবে মারা হয়েছিল নাগরাকাটায়, খুন করার চেষ্টা হয়েছিল, রক্ত ঝরিয়েছিল। ২০ দিন হাসপাতালে ছিলাম, ৪ দিন আইসিইউ-তে ছিলাম। এখনও আমার দিল্লিতে এইমসে চিকিৎসা হচ্ছে। আমরা চারটে দাঁত ভাঙা আছে। চোখের নীচে হাড় জোড়া লাগেনি এখনও। আদিবাসীরা একটাও ভোট দেবে না তৃণমূলকে। অরুণা আমাদের বাড়িতে থাকে না। দীর্ঘদিন ধরে আলাদা থাকে। তৃণমূল কংগ্রেসকে আমরা বরদাস্ত করব না। হারানোর জন্য যা করতে হয় তাই করব।'
খগেন মুর্মুর সঙ্গে রাজনৈতিক মতপার্থক্য প্রসঙ্গে অরুণা বলেন, 'খগেন মুর্মু বর্তমানে বিজেপির সাংসদ হলেও এর আগে তিনি সিপিএম করতেন এবং সেখান থেকে বিজেপিতে গেছেন। ভারতীয় রাজনীতিতে ভিন্ন মত বা আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান নতুন কিছু নয়। ভবিষ্যতে মনে হলে খগেন মুর্মুও তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন।' জবাবে খগেন বলেন, 'ওটা ওর বানানো কথা, ওর নিজের কথা। ওর সঙ্গে আমার কোনও সম্পর্ক নেই। ১২-১৩ বছর আমরা একসঙ্গে থাকিও না। ও যেটা করেছে সেটা মেনে নিতে পারব না। আমি ধিক্কার জানাচ্ছি।'


