শমীক ভট্টাচার্য বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেস দুর্নীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। 

ED-র তল্লাশি I-PAC-এর কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি আর অফিসে। আর সেখানে গিয়েই প্রয়োজনী নথি নিজের জিম্মায় নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোাধ্যায়। তা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্যসভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পদের প্রভাব খাটিয়ে এই কাজ করেছেন। এর পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকার অধিকার নেই।

শমীক ভট্টাচার্যের প্রতিক্রিয়া

বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য মমতার কাজের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, মমতা নথি কেড়ে নিয়েছেন। যা একদমই অনুচিৎ কাজ। পাল্টা ইডি কেন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে নথি ছিনিয়ে নেয়নি সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের উত্তরে শমীক বলেন, মমতা নথি কেড়ে নিয়েছেন। এর পাল্টা ইডি একজন মুখ্যমন্ত্রী একজন মহিলার কাছ থেকে নথি কেড়ে নিচ্ছে। এই দৃশ্য মোটেই শোভন নয়। গণতন্ত্রে এমন না হওয়াই কাম্য। তারপরই তিনি বলেন, মমতা যা করেছেন তা অনুচিৎ। শমীক আরও বলেন, তিনি বা তাঁর দল বিজেপি ইডির মুখপাত্র নয়। তবে তাঁদের কাছে যা তথ্য রয়েছে, তা হল প্রমাণ হাতে পাওয়ার পরই আইন মেনে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছিল ইডি। কিন্তু তাতে বাধা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর থেকে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও হার্ডডিস্ক নিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে দিয়েছে যে তৃণমূল কংগ্রেস দুর্নীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত এবং অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করছে। কয়লা কেলেঙ্কারি ও হাওয়ালা সংক্রান্ত তদন্তে তৃণমূলের একাধিক নেতা ও পুরো ব্যবস্থাই জড়িত রয়েছে বলেও তিনি জানান। তিনি বলেন, অবৈধ খনন, সরকারি চাকরি বণ্টন থেকে শুরু করে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে।

শমীক বলেন, তদন্ত প্রক্রিয়াকে আড়াল করতে মুখ্যমন্ত্রী অযৌক্তিকভাবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আক্রমণ করেছেন, যা নজিরবিহীন। আদালতের নির্দেশে চলা তদন্তে হস্তক্ষেপ করা একদিকে আদালত অবমাননা, অন্যদিকে কর্তব্যরত আধিকারিকদের উপর আক্রমণ এবং প্রমাণ লোপের শামিল বলে তিনি মন্তব্য করেন। অতীতেও রাজীব কুমার ও ফিরহাদ হাকিম সংক্রান্ত ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, আজকের ঘটনা সেই ধারাবাহিকতারই চরম উদাহরণ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট করেন, ইডি বা সিবিআই কেন তদন্ত করছে তা সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিষয়, বিজেপি তাদের মুখপাত্র নয়। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে অধিকাংশ তদন্তই মহামান্য আদালতের নির্দেশে চলছে এবং প্রতিটি তদন্ত আটকাতে রাজ্য সরকার সাধারণ মানুষের করের টাকা খরচ করে বারবার সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পরাজিত হয়েছে।

শমীক ভট্টাচার্য আরও জানান, ভবিষ্যতে রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ করে জানানো হবে গত ১৪ বছরে দুর্নীতিগ্রস্তদের বাঁচাতে কত হাজার কোটি টাকা নামী আইনজীবীদের ফি হিসেবে ব্যয় করা হয়েছে। তিনি একে সাধারণ ও প্রান্তিক মানুষের করের টাকার অপরাধমূলক অপব্যবহার বলে আখ্যা দেন।

শেষে তিনি বলেন, ফৌজদারি তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় এই ধরনের অনধিকার হস্তক্ষেপ কোনো সুস্থ সমাজ মেনে নিতে পারে না। মুখ্যমন্ত্রীর সাংবিধানিক পদমর্যাদা থাকা সত্ত্বেও তাঁর এই আচরণে পশ্চিমবঙ্গের সম্মান ক্ষুণ্ণ হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এই বিষয়টি গভীরভাবে উপলব্ধি করবেন এবং আগামী নির্বাচনে তার প্রতিফলন ঘটাবেন।