ইডি তাদের আবেদনে ঘটনার একটি বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের সময় যা ঘটেছিল, তাকে একটি মুখোমুখি সংঘাত বলে বর্ণনা করেছে।

আইপ্যাক কাণ্ডে এবার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি আবেদন দায়ের করেছে তারা। তাদের অভিযোগ, কয়লা কেলেঙ্কারি মামলায় তাদের তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাধা দিয়েছেন। তাদের আবেদনে, কেন্দ্রীয় সংস্থাটি এই ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং বলেছে যে রাজ্য প্রশাসনের দ্বারা একটি সুষ্ঠু ও স্বাধীন তদন্ত করার অধিকার খর্ব করা হয়েছে। ইডি তাদের আবেদনে ঘটনার একটি বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছে এবং রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধারের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানের সময় যা ঘটেছিল, তাকে একটি মুখোমুখি সংঘাত বলে বর্ণনা করেছে। ইডি শীর্ষ আদালতের কাছে হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়ে বলেছে যে, বিচারবিভাগের সুরক্ষা ছাড়া কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো এমন রাজ্যগুলিতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়।

আইপ্যাক-কাণ্ডে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছে ইডি। শুক্রবার সেই মামলা উঠলেও শুনানি হয়নি। বিচারপতি শুভ্রা যোষ মামলার শুনানি ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত মুলতুবি করে দিয়েছেন। পরে দ্রুত শুনানি ও বিচারপতি বদলের অনুরোধ জানায় ইডি। যদিও সেই আবেদন খারিজ করে দেন কলাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধানবিচারপতি সুজয় পাল।

এদিকে,রাজ্য সরকার শনিবার আগেই সুপ্রিমকোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করেছে। কারণ, তাদের আশঙ্কা ছিল যে ইডি ওই মামলা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যেতে পারে। ইডির বক্তব্য একতরফা ভাবে যাতে না শোনা হয়, তাই জন্য দাখিল করা হল ক্যাভিয়েট। ক্যাভিয়েট হল একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ, যার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য না শুনে কোনও বিষয়ে আদেশ না দেওয়ার জন্য আবেদন করা হয়। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য ইডি-কে কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি দেওয়ার আগে আদালতের সামনে তাদের বক্তব্য তুলে ধরা।

গোটা ঘটনার সূত্রপাত কয়লা পাচার কেলেঙ্কারির তদন্তে আইপ্যাকের অফিস ও কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি। ইডি দাবি করেছে যে প্রায় ১০ কোটি টাকা হাওয়ালা চ্যানেলের মাধ্যমে আইপ্যাকে পাঠানো হয়েছিল এবং ২০২২ সালের গোয়া বিধানসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূল কংগ্রেস ওই পরামর্শদাতা সংস্থাকে টাকা দিয়েছিল।