আবারও নতুন করে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। বিহারে এক বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ বড়ুয়া মোড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে একাধিক গাড়ি।
আবারও নতুন করে উত্তপ্ত মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। বিহারে এক বাংলার পরিযায়ী শ্রমিককে মারধরের অভিযোগ বড়ুয়া মোড়ে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে একাধিক গাড়ি। শনিবার সকালে বিক্ষোভকারীরা বেলডাঙা স্টেশন লাগোয়া রেলগেটেও ভাঙচুর চালান। ভেঙে ফেলা হয় স্টেশনের কাছে থাকা রেলের সিগন্যাল। এর ফলে শনিবারও সেখানে ট্রেন পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। লালগোলা সেকশনে ট্রেন চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। কৃষ্ণনগর থেকে লালগোলা সেকশনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পূর্ব রেল। রেলের সম্পত্তি রক্ষায় অতিরিক্ত বাহিনী পাঠানো হচ্ছে।
এদিকে, কালকের মতো আজও খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হন একজন সাংবাদিক ও তাঁর সঙ্গে থাকা চিত্রসাংবাদিক। শুক্রবার অশান্ত বেলডাঙায় খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অন্তত ১২ জন কর্মী। পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে মোতায়েন থাকলেও উত্তেজিত জনতাকে বাগে আনতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে।
অশান্তির সূত্রপাত হয় শুক্রবার সকালে। বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ (৩০) ঝাড়খণ্ডে ফেরিওয়ালার কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামে তাঁর মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছোয়। ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের দাবি, যুবককে পিটিয়ে খুন করার পর তাঁর দেহ ঘরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ওই পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ গ্রামে ফেরে। তার পরেই দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারি ও শাস্তির দাবি চেয়ে রাস্তা ও ট্রেন অবরোধ করেন বিক্ষোভকারীরা। ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।
গোটা ঘটনা নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের দিকে আঙুল তোলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। উত্তরবঙ্গ যাওয়ার আগে বেলডাঙা নিয়ে মুখ খোলেন মমতাও। তিনি বিজেপিকে আক্রমণ করেন। বলে, ডাবল ইঞ্জিনের সরকার যেখানে আছে, সেখানেই এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। তবে তিনি শান্তি বজায় রাখার বার্তা দেন। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের পাশে থাকার বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বিজেপি রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে বলে এ দিন অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, 'বিজেপি দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। বিজেপির প্ল্যান। নিজেরা ভোটে পারবে না, তাই ঘোঁট পাকাচ্ছে। পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর যে অত্যাচার হচ্ছে, আমরা সেটা মাথায় রেখেছি। এমনকী কেসও করেছি। আমরা পরিবারগুলোক সাহায্য করছি। আপনারা শান্ত থাকুন। ধৈর্য ধরুন। কোর্টে কেস আছে, কোর্টের উপর ভরসা রাখুন। আশা করছি বিচার পাওয়া যাবে। পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে পরিযায়ী শ্রমিককে। ন্যক্কারজনক ঘটনা। ডাবল ইঞ্জিন সরকারের রাজ্যে অত্যাচার করা হচ্ছে। আমরা বিষয়টি দেখছি। কোর্টে মামলা হয়েছে। আমি ওই সব পরিবারের পাশে আছি।'
শুভেন্দু অধিকারী শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন, 'ফারাক্কা থেকে চাকুলিয়া পর্যন্ত যে আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি দেখা যাচ্ছে, তা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙায় জাতীয় সড়কটি প্রায় ৩ ঘণ্টা ধরে সমাজবিরোধীদের দ্বারা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ রয়েছে। অবিরাম পাথর ছোড়া হচ্ছে। ট্রেনগুলো জোর করে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এলাকাটি দুষ্কৃতী, গুন্ডা ও মাস্তানদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এখনও পর্যন্ত পুলিশের কোনও পদক্ষেপের চিহ্ন নেই। হাজার হাজার যাত্রী আটকে পড়েছেন, যারা ভীতসন্ত্রস্ত এবং খাদ্য ও জল ছাড়াই রয়েছেন। কোনও পরিত্রাণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। আমি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি-কে বাহিনী মোতায়েন করে এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি। বার্তাটি খুবই স্পষ্ট যে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে এবং সমাজবিরোধী ও দাঙ্গাবাজরা দখল নিচ্ছে, যাদের প্রতি শাসক তৃণমূল কংগ্রেস পার্টির সমর্থন রয়েছে, যাতে তারা স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার জন্য যখন যা খুশি করার অবাধ সুযোগ পায়।'


