মমতার চিঠির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে  চিঠি লিখলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। চিঠিতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা যাবতীয় অভিযোগের পাল্টা অভিযোগ করেছেন। 

মমতার চিঠির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Election Commissioner Gyanesh Kumar) চিঠি লিখলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। চিঠিতে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা যাবতীয় অভিযোগের পাল্টা অভিযোগ করেছেন। ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মমতার উদ্বেগকে কাল্পনিক বলে অভিহিত করেছেন তিনি। শুভেন্দুর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আতঙ্কিত, কারণ SIR প্রক্রিয়াটি তাঁর ২০২৬ সালের স্বপ্নের জন্য একটি মরণঘণ্টা।

৩ জানুয়ারি বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision) সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। চিঠিতে তিনি ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার ত্রুটিগুলো সংশোধন করার জন্য অথবা রাজ্যে এই প্রক্রিয়াটি বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করেছেন। মমতা অভিযোগ করেছেন যে ভারতের নির্বাচন কমিশনের (ECI) আধিকারিকরা আইটি সিস্টেমের অপব্যবহার করেছেন। তিনি দাবি করেন, সঠিক অনুমোদন ছাড়াই ব্যাকএন্ড থেকে ভোটারদের নাম মুছে ফেলা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, কমিশনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত যে কোনও অবৈধ, নির্বিচার বা পক্ষপাতমূলক কার্যকলাপের জন্য ECI-কে সম্পূর্ণভাবে দায়ী থাকতে হবে। চিঠিতে তিনি লিখেছেন, 'জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের অধীনে উপযুক্ত বিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের (EROS) জ্ঞান বা অনুমোদন ছাড়াই, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে আইটি সিস্টেমের অপব্যবহারের মাধ্যমে ব্যাকএন্ড থেকে ভোটারদের নাম মুছে ফেলার গুরুতর অভিযোগও রয়েছে। এটি গুরুতর প্রশ্ন তোলে যে কে এবং কোন আইনি ক্ষমতাবলে এই ধরনের পদক্ষেপের অনুমোদন দিয়েছে। ECI-কে তার তত্ত্বাবধান বা নির্দেশে পরিচালিত যে কোনও অবৈধ, নির্বিচার বা পক্ষপাতমূলক কাজের জন্য সম্পূর্ণরূপে দায়ী থাকতে হবে।'

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন যে, প্রায় প্রতিদিনই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশাবলী জারি করা হচ্ছে এবং তা প্রায়শই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা ও টেক্সট বার্তার মতো মাধ্যমে করা হচ্ছে। তিনি লিখেছেন, 'এত বড় এবং সাংবিধানিক গুরুত্বের একটি কাজের জন্য বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও কোনও যথাযথ লিখিত বিজ্ঞপ্তি, সার্কুলার বা বিধিবদ্ধ আদেশ জারি করা হচ্ছে না। এই ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা বা জবাবদিহিতার কোনও সুযোগ রাখে না।' মমতা ফ্যামিলি রেজিস্টার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা বিহারে এসআইআর অনুশীলনের সময় একটি বৈধ পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছিল। তাঁর মতে, এখন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয় থেকে কোনও আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি বা বিধিবদ্ধ আদেশ ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে এটিকে বাতিল করা হচ্ছে। তিনি এই বেছে বেছে এবং নাম বাদ দেওয়াকে বৈষম্য এবং স্বেচ্ছাচারিতার গুরুতর উদ্বেগ হিসাবে বর্ণনা করেছেন।

সোমবার নির্বাচন কমিশনে পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছেন বিজেপি নেতা ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। সেই চিঠি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন তিনি। তিনি লিখেছেন, 'বাস্তবে, নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগটি (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) তৃণমূল কংগ্রেসের নোংরা গোপনীয়তাগুলো সামনে নিয়ে আসছে, ভুয়ো ভোটার, মৃত ব্যক্তিদের নাম এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারী, যাদের তারা বছরের পর বছর ধরে নির্বাচন কারচুপির জন্য সুরক্ষা দিয়ে আসছে। এটা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আতঙ্কিত, কারণ SIR প্রক্রিয়াটি তাঁর ২০২৬ সালের স্বপ্নের জন্য একটি মরণঘণ্টা।'