তৃণমূলে সংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক অসিত মজুমদারের দ্বন্দ্ব বারবারই প্রকাশ্যে চলে আসে। ভোটে সেই পরিস্থিতি যেন আর তৈরি না হয়, তারজন্য বিধায়ক আর সাংসদের মধ্যেকার সমস্যা মেটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের প্রবীণ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। 

তৃণমূলে সংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক অসিত মজুমদারের দ্বন্দ্ব বারবারই প্রকাশ্যে চলে আসে। আর তাতে বারবার বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। ভোটের আর সেই পরিস্থিতি যেন আর তৈরি না হয়, তারজন্য বিধায়ক আর সাংসদের মধ্যেকার সমস্যা মেটানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের প্রবীণ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তারপরই কল্যাণ একই ছাদের তলায় নিয়ে আসেন সাংসদ আর বিধায়ককে। মিটিং এর মধ্যেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধায়ক অসিত মজুমদারের ভুয়সী প্রশংসা করে বলেন রচনা খুব ভালো মেয়ে , খুব ভালো কাজ করছে লোকসভায়। অন্যদিকে অসিত মজুমদারও খুব ভালো কাজ করে কিন্তু ওর মুখ ভালো নয়। ও লোকের কথা বেশি শোনে। দুজনে কেউ যেন কান পাতলা না হয় । একজোট হয়ে কাজ করো ঠিক করে। তারপরই তিনি দুজনের উদ্দেশ্যে বলেন, পরে দুজনকে লাঠি দেবো তারপর মারামারি করবে।

চুঁচুড়ায় SIR নিয়ে আলোচনা

চুঁচুড়া বিধানসভায় এসআইআর নিয়ে আলোচনা সভা ছিল। সেখানে বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে চুঁচুড়ায় সাংসদ বনাম বিধায়কের যে লড়াই বন্ধ করার আবেদন জানান সাংসদ। এদিন মিটিং শেষে কল্যাণ বলেন, SIR- এর বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন চলবে। চুঁচুড়ায় দ্বন্দ্ব মিটেছেন বলে দাবি করেন তিনি। এও জানান দল থাকবে থাকলে সবকিছু হবে। ঝামেলা করলে কিছু হবে না।

চুঁচুড়ায় একাধিক বার তৃণমূল বিধায়ক সঙ্গে সরাসরি দ্বন্দে জড়িয়েছেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়।দাবী করেছিলেন বিধায়কের কোন অনুষ্ঠানে তিনি যাবেন না। কিন্তু কল্যাণ বন্দোপাধ্যায়ের অনুরোধে তৃণমূলের সাংগঠনিক মিটিং এ আসেন হুগলির সাংসদ রচনা।তিনি বলেন, আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ২০২৬ এর নির্বাচন। সেখানে একসঙ্গে লড়াই করতে হবে। এই পরিস্থিতিতে এসে কার সঙ্গে কার মতোবিরোধ দেখলে হবে না। দলের সবাইকে সবকিছু কর্মসূচি জানাতে হবে। মে মাস পর্যন্ত আমরা দলে একত্রিত হয়ে কাজ করব নির্বাচনের জন্য। অসিত মজুমদারের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা মেটাতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে মতবিরোধ হতে পারে আমাদের সঙ্গে। আগামী দিনে যাতে না হয় তার চেষ্টা করব।

চুঁচুড়ায় দলীয় আলোচনার মধ্যেই সকলকে সম্মান দেওয়ার জন্য প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন চেয়ারম্যান অমিত রায়। পরে তিনি বলেন সম্মান দিলে সম্মান পাবে। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কে হারাবার জন্য অনেকে চেষ্টা করেছে। কিন্তু আমরা প্রাণপাত করে লড়াই করে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কে জিতিয়েছি। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কে নিয়েই কাজ করার ব্যাপারে ইঙ্গিত দেন বিধায়ককে। আমরা কাউকে অসম্মান করিনি।আমরা সবাই মিলে চাই একসঙ্গে কাজ করার। আমাদের নিয়ে কাজ করলে আমরাও কাজ করব বলে দাবী প্রাক্তন চেয়ারম্যানের।