বাড়ির মধ্যেই প্রেমিক এবং তার দলবলকে নিয়ে নিজের স্বামীকেই খুন করার অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। নৃশংস এই ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুরের ইসালমপুরে। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। তদন্তে নেমে অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটকে করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ইসলামপুর থানার পুলিশ। 

স্থানীয় সূত্রে খবর, এ দিন বিকেলে দুই মেয়েকে নিয়ে লিচু বাগান এলাকার বাড়িতে ছিল মহম্মদ জামির নামে ওই ব্যক্তি। নাজির নিজেও একজন দাগী অপরাধী বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। সেই সময় তাঁর স্ত্রী নাজনারা বেগমও বাড়িতেই ছিল।  বিকেল চারটে নাগাদ বড় মেয়েকে সিগারেট কিনতে পাঠান তিনি। মৃতের মেয়ে জানিয়েছে, বাড়ি থেকে বেরনোর সময় ছ' জন অচেনা লোককে মোটরবাইক নিয়ে বাড়িতে ঢুকতে দেখে সে। এর কিছুক্ষণ পরে বাড়ি ফিরে এসে বাবাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ওই কিশোরী। তাঁর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছে বলেই অনুমান তদন্তকারীদের। 

পুলিশ সূত্রে খবর, বাড়িতে থাকা সত্ত্বেও নাজনারা নামে ওই মহিলা কেন দুষ্কৃতীদের কোনও বাধা দিল না বা চেঁচিয়ে সাহায্য করল না তা নিয়েই সংশয় দানা বাঁধে। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রে খবর, মৃত জামির নিজেও একজন দাগী আসামী। কয়েকদিন আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে সে। জামিরের মোট তিনটি বিয়ে বলে জানা গিয়েছে। জামির জেলে থাকার সময়ে নাজনারার সঙ্গে অন্য এক যুবকের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের অনুমান, প্রেমিকের সঙ্গে ছক কষে জামিরের স্ত্রীই তাকে খুন করেছে। 

মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। খুনের সঙ্গে কারা কারা যুক্ত, জানতে অভিযুক্ত স্ত্রীকে টানা জেরা করা হচ্ছে।