গৃহবধূর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জের। প্রেমিকের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ চব্বিশ পরগণার বিষ্ণুপুরের খাঁকড়ামুড়ি মুকুন্দপুর এলাকায়। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত স্ত্রী সোনালি মণ্ডলকে আটক করেছে পুলিশ। ওই গৃহবধূর প্রেমিক পলাতক। 

এ দিন সকালে মুকুন্দপুর হাটখোলার মাঠ এলাকাতে নিজের ঘরের মধ্যে থেকেই সুদীপ মণ্ডল নামে এক যুবকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সুদীপের স্ত্রীর দাবি, তার স্বামী আত্মহত্যা করেছেন। যদিও, এই দাবি উড়িয়ে মৃতের পরিবারের অভিযোগ, ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে  খুন করা হয়েছে সুদীপকে। পরে তাঁর দেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। মৃতের স্ত্রী সোনালি মণ্ডল এবং তাঁর প্রেমিক বাবুসোনা মণ্ডল মিলেই এই কাণ্ড ঘটিয়েছে বলে মৃত যুবকের পরিবারের অভিযোগ। 

আরও পড়ুন- চুরির ফাঁকেই গরম ভাত রেঁধে খেল চোর, নরেন্দ্রপুরে তাজ্জব গৃহস্থ- পুলিশ, দেখুন ভিডিও

আরও পড়ুন- স্ত্রীর উপরে সন্দেহের জের, মাথা কেটে নিয়ে সোজা থানায় স্বামী

প্রায় ষোল বছর আগে সোনালির সঙ্গে প্রেম করেই বিয়ে হয় সুদীপের। দু' জনেই একই এলাকার বাসিন্দা। ওই দম্পতির ১২ বছর এবং ৩ বছরের দু'টি কন্যাসন্তানও রয়েছে। অভিযোগ, প্রায় তিন বছর ধরে নিজের বাপের বাড়ি এলাকার এক যুবক বাবুসোনা মণ্ডলের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল সোনালি। সেকথা জানতে পেরে প্রতিবাদ করেছিলেন সুদীপ। এ নিয়ে দম্পতির মধ্যে অশান্তিও হতো। এ দিন সকালে সোনালিই সবাইকে ঘটনার কথা জানায়। মৃতের পরিবারের

অভিযোগ, নিজের প্রেমিকের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে সোনালিই সুদীপকে খুন করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যার তত্ত্ব খাড়া করছে। তাঁদের দাবি, সুদীপের মৃতদেহে ধুলো লেগেছিল। এ ছাড়াও যেভাবে দেহ ঝুলছিল, তাতে খুনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতেই মৃতের স্ত্রীকে আটক করে জেরা শুরু করে বিষ্ণুপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্ত সোনালি মণ্ডলের দাদা ভাস্কর নস্কর বলেন, 'আমার বোনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার উপযুক্ত শাস্তি হোক।' দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি মৃতের স্ত্রীকে জেরা করেও প্রকৃত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে। খোঁজ চলছে ওই গৃহবধূর প্রেমিকেরও।