পনের বলি হলেন গৃহবধু। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য় ছড়াল  বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট থানার জিরাকপুর এলাকায়। পণের চাহিদা পূরণ করতে না পারায় বছরে একুশের মুক্তা আইচকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠল শ্বশুর ও শাশুড়ি বিরুদ্ধে। শ্বশুর ও শাশুড়ি বিরুদ্ধে  বসিরহাট থানা অভিযোগ দায়ের করেন মৃতার বাপের বাড়ি তরফে। এরপরই অভিযুক্ত শ্বশুর -শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

আরও পড়ুন, ঠিক যেন জাদুকর, সাইকেলকে মোটর সাইকেল বানিয়ে তাক লাগালো বর্ধমানের যুবক


সূত্রের খবর,  বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট থানার জিরাকপুরে, বছরে একুশের মুক্তা আইচ বিয়ে হয়েছিল চন্দ্রশেখর আইচের সঙ্গে। সেই সময় মুক্তার বাপেরবাড়ি থেকে সাধ্যমত আসবাবপত্র নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চলতে থাকে। গতকাল রবিবার রাত্রিবেলা ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃতদের পরিবারের অভিযোগ, অতিরিক্ত না দিতে পারায় তাদের মেয়েকে শ্বাসরোধ করে খুন করে ঝুলিয়ে দিয়েছে। শ্বশুর ও শাশুড়ি বিরুদ্ধে  বসিরহাট থানা অভিযোগ দায়ের করলে শশুর সুকুমার আইচ শাশুড়ি আলো আইচ কে  গ্রেপ্তার করে পুলিশ। 

আরও পড়ুন, ফেরাতে হাল-আসুক লাল, পুরুলিয়ায় বার্তা মহম্মদ সেলিমের

উল্লেখ্য়, এরআগেও পনের বলি হয়েছিলেন বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ থানা এলাকার অন্তঃসত্ত্বা বধু। সেবারও বছর উনিশের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ পাপিয়া মন্ডল কে শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছিল স্বামী শাশুড়ি শ্বশুরের বিরুদ্ধে। বিয়ের সময় সাধ্যমত সোনার গয়না আসবারপত্র নগদ ৫০,০০০ টাকা দিয়েছিল জামাইকে। বিয়ের পর থেকে আরও বেশি বাপের বাড়িতে টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হয় বধূকে। এমনকি ওই গৃহবধূ পাপিয়াকে মানসিক যন্ত্রণা এবং মারধর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। পাশাপাশি সন্তান নিতে চাইলে বধু পাপিয়া সেটাও বাধা দেয় বলে অভিযোগ, স্বামী শ্বশুর বাড়ির লোকে বিরুদ্ধে। এমনকি বাপের বাড়িতে আসতে নিষেধ করে ওই বধূকে। ফোনে শারীরিক মানসিক অত্যাচারের পুরো ঘটনাটাই পাপিয়া তার বাবাকে বারবার জানাতে থাকে। শেষমেষ পনের বলি হয়েছিলেন ওই  অন্তঃসত্ত্বা বধু। ফের সেই একই মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল বসিরহাট মহকুমার বসিরহাট থানার জিরাকপুরে। গৃহবধুর মুক্তা আইচের মৃত্য়ুর ঘটনায় ধৃত শ্বশুর -শাশুড়িকেকে আজ সোমবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হয়েছে।