Parenting Tips একটি ছেলের জীবনে তার বাবার বলা কথার গুরুত্ব অনেক। বাবার প্রতিটি কথা ছেলের চিন্তাভাবনা এবং ভবিষ্যতের উপর গভীর প্রভাব ফেলে। তাই ছোটবেলা থেকেই ছেলের সঙ্গে কিছু বিষয়ে বাবার খোলাখুলি কথা বলা দরকার। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সেই বিষয়গুলি কী কী।
সন্তানকে মানুষ করার ক্ষেত্রে বাবার ভূমিকা খুব বিশেষ। বিশেষ করে ছেলেরা বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের মনের ভাব প্রকাশ করতে চায় না, লুকিয়ে রাখে। এই সময়ে বাবার বলা কিছু কথা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারে এবং জীবনকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে দিতে পারে। টাকা-পয়সা, পড়াশোনা বা কেরিয়ার নিয়ে পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি কিছু মানবিক মূল্যবোধ শেখানোও বাবার দায়িত্ব। তাই প্রত্যেক বাবার তাঁর ছেলেকে যে ৫টি জরুরি কথা বলা উচিত, তা এখানে আলোচনা করা হল।
26
বলুন, 'তুমি যেমনই হও, আমি তোমায় ভালোবাসি'
সন্তানের মনে এই বিশ্বাস তৈরি করা জরুরি যে বাবা-মায়ের ভালোবাসা তার সাফল্যের উপর নির্ভর করে না। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করলে বা জিতলে প্রশংসা করলে, সন্তানের মনে হতে পারে যে, 'আমি কিছু করলে তবেই বাবা ভালোবাসবে'। তাই ছেলে যখন সফল হয় শুধু তখনই নয়, বরং যখন সে হেরে যায়, ভুল করে বা হতাশ থাকে, তখনও বাবার উচিত তার পাশে দাঁড়ানো। ছেলেকে বলুন, 'তুমি যেমনই হও, তোমার জন্য আমার ভালোবাসা কখনও কমবে না'। এই কথাটি তাকে মানসিক নিরাপত্তা দেবে।
36
মনের ভাব প্রকাশ করতে শেখান
দুঃখ, ভয়, রাগ বা একাকীত্ব—এই অনুভূতিগুলো ছেলেদেরও হয়। সেগুলো লুকিয়ে রাখাটা পৌরুষের লক্ষণ নয়। বাড়িতে এমন পরিবেশ তৈরি করুন যাতে ছেলে তার বাবার সঙ্গে মন খুলে কথা বলতে পারে। ছেলে দুঃখ পেলে, 'এইটুকু বিষয়ে কাঁদছিস কেন?' বলে তাকে থামিয়ে দেবেন না। বরং তাকে ভরসা দিন যে, 'যেকোনও সমস্যায় আমার সঙ্গে কথা বলতে পারিস, আমি তোর পাশে আছি'।
বাচ্চারা ভুল করবে, এটাই স্বাভাবিক। পড়াশোনা, খেলা বা বন্ধুত্ব—সব অভিজ্ঞতা থেকেই তারা শেখে। প্রতিবার ভুল করলেই যদি বাবা রেগে গিয়ে বকাবকি করেন, তাহলে ছেলে ভয়ে সত্যি কথা লুকাতে শুরু করতে পারে। এর বদলে, কী ভুল হয়েছে তা তাকে বুঝিয়ে বলুন। 'কী হয়েছে? পরের বার যাতে এমন না হয়, তার জন্য কী করা যায়?'—এই প্রশ্নগুলো করলে তার সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়বে। বাবাকে নিজের আচরণের মাধ্যমে শেখাতে হবে যে, ভুল স্বীকার করা দুর্বলতা নয়, বরং প্রয়োজনে ক্ষমা চাওয়া একটা বড় গুণ।
56
সবাইকে সম্মান করতে শেখান
শুধু পড়াশোনা, চাকরি বা টাকা-পয়সা থাকলেই একজন ভালো মানুষ হওয়া যায় না। সে অন্যদের সঙ্গে কেমন ব্যবহার করে, কীভাবে কথা বলে এবং তাদের সীমানাকে কতটা সম্মান করে, সেটাও খুব জরুরি। বাড়িতে মা, বোন, বন্ধু, বয়স্ক মানুষ বা বাড়ির পরিচারিকা—সকলকে সম্মান করার অভ্যাস বাবাকে নিজের আচরণের মাধ্যমে শেখাতে হবে। বিশেষ করে মহিলাদের প্রতি সম্মান এবং তাদের ব্যক্তিগত পরিসরকে গুরুত্ব দেওয়ার শিক্ষা ছোটবেলা থেকেই দেওয়া উচিত।
66
সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করুন
ছেলের হয়ে সব সিদ্ধান্ত বাবা নিয়ে দেবেন, এটা ঠিক নয়। বরং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তৈরিতে তাকে সাহায্য করা বেশি জরুরি। কী পড়বে, কোন পেশায় যাবে বা কাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করবে—এই সব বিষয়ে বাবা পথ দেখাতে পারেন। কিন্তু ছেলের আগ্রহ, প্রতিভা এবং মতামতেরও মূল্য দিতে হবে। 'আমি তোকে পথ দেখাব, কিন্তু নিজের জীবনটা তোমাকেই গড়তে হবে'—বাবার মুখে এই ধরনের কথা শুনলে ছেলে ভরসা পায় যে, প্রয়োজনে বাবা তার পাশে থাকবেন।