Parenting Tips: মোবাইল আর কাজের ভিড়ে আমরা ভাবি সন্তান তো ভালোই আছে। কিন্তু দিনের কিছু নির্দিষ্ট সময়ে বাচ্চারা বাবা-মাকে ভীষণভাবে খোঁজে। সেই সময়ে পাশে না থাকলে ছোট্ট মনের মধ্যে জমে যায় একাকীত্ব।

Parenting Tips: সকালে অফিসের তাড়া, রাতে ফোন আর টিভি। এর মাঝে সন্তানকে "খেয়েছিস?", "পড়া হয়েছে?" জিজ্ঞাসা করেই দায়িত্ব শেষ ভাবি। কিন্তু শিশু মন এত সোজা নয়। ওদেরও দিনের কিছু সময় আছে যখন ওরা শুধু আপনার গলা, আপনার স্পর্শ আর আপনার মনোযোগ চায়। আর ঠিক সেই সময়ে আপনি ব্যস্ত থাকলে ওদের মনে তৈরি হয় একটা ফাঁকা জায়গা। যার নাম একাকীত্ব।

মনোবিদরা বলেন, সন্তান বড় হওয়ার জন্য শুধু খাবার আর ভালো স্কুলই যথেষ্ট নয়। ওদের চাই "উপস্থিত" বাবা-মা। আর দিনের ৫টা সময় আছে যখন বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি বাবা-মাকে খোঁজে।

প্রথম সময়টা হল *সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর*। সারারাত পর বাচ্চা যখন ঘুম ভেঙে ওঠে, তখন ওর চোখ প্রথমে খোঁজে মা বা বাবাকে। এই সময় ২ মিনিট জড়িয়ে ধরা, "গুড মর্নিং সোনা" বলাটাই ওকে সারাদিনের সাহস দেয়। আপনি যদি এই সময় ফোন ঘাঁটেন বা তাড়াহুড়ো করেন, তাহলে বাচ্চা সারাদিনই অনিশ্চিত বোধ করে।

দ্বিতীয় সময়টা হল *স্কুল থেকে ফেরার পর*। সারাদিনের গল্প, টিচারের বকা, বন্ধুর সাথে ঝগড়া - সব জমে থাকে। বাচ্চা দরজা দিয়ে ঢুকেই প্রথমে বলে "মা শোনো"। এই সময় টিভি বন্ধ করে ১০ মিনিট শুধু ওর কথা শুনুন। ওকে কেটে দিলে ও বুঝে যায় ওর কথা বলার মতো কেউ নেই।

তৃতীয় সময়টা হল *রাতে পড়তে বসার সময়*। পড়া শুধু পড়া নয়, এটা বাচ্চার কাছে একটা যুদ্ধ। এই সময় পাশে বসে "পারবি, আমি আছি" বললে ওর আত্মবিশ্বাস ১০ গুণ বেড়ে যায়। একা ছেড়ে দিলে পড়ার প্রতি ভয় আর বিরক্তি জন্মায়।

চতুর্থ সময়টা হল *রাতে ঘুমোনোর আগে*। দিনের শেষে বালিশে মাথা রাখার পর বাচ্চারা সবচেয়ে নরম থাকে। এই সময় ৫ মিনিটের গল্প, গায়ে হাত বুলিয়ে দেওয়া বা "আই লাভ ইউ" বলাটা ওদের মনে নিরাপত্তা দেয়। ফোন হাতে ঘুমোতে গেলে ওরাও শেখে ফোনই সঙ্গী।

আর পঞ্চম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হল *যখন বাচ্চা অসুস্থ বা মন খারাপ করে*। জ্বর, পড়া না পারা বা বন্ধুর সাথে ঝগড়া - ছোট কারণেই ওদের দুনিয়া ভেঙে পড়ে। এই সময় "ডাক্তার দেখাবো পরে" বা "কাঁদিস না" না বলে পাশে বসে মাথায় হাত রাখুন। এই ১০ মিনিটই ওকে বোঝায় যে পৃথিবীতে ওর একটা নিরাপদ জায়গা আছে।

সন্তানকে সময় দেওয়া মানে সারাদিন ওর সাথে আঠার মতো লেগে থাকা নয়। দিনের এই ৫টা ছোট্ট সময়ে যদি আপনি "উপস্থিত" থাকেন, তাহলে আপনার সন্তান কোনোদিন একা বোধ করবে না। মনে রাখবেন, বড় হয়ে ওরা আপনার দেওয়া খেলনা বা দামি স্কুলের কথা মনে রাখবে না। মনে রাখবে, খারাপ লাগলে কে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়েছিল।

আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।