তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে চান। বাংলাদেশ প্রশাসনকে ইমরান খানের এই ইচ্ছের কথা জানিয়েছিল পাক সরকার। সেই মতই বুধবার দুই রাষ্ট্রপ্রধানের কথা হবে তা আগেই স্থির ছিল। সূচি অনুযায়ী বুধবার বেলা একটা নাগাদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফোন করেন পাক প্রধানমন্ত্রী। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে দু'জনের মধ্যে কথা হয়। 

পাকিস্তানের করোনা পরিস্থিতি দিনে দিনে খারাপ হচ্ছে। তবে এদিন ইমরান হাসিনার সঙ্গে বাংলাদেশের করোনা ও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তবে এর বাইরে দুই রাষ্ট্রপ্রধানের মধ্যে অন্য কোনও বিষয়ে কথা হয়েছে কিনা তা এখনও জানা যায়নি।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চাইছে পাকিস্তান, হাসিনার সঙ্গে ফের ফোনালাপ ইমরানের

হাসিনার প্রেস সচিব জানান, কুশলাদি বিনিময়ের পর ইমরান খান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে বাংলাদেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ও এর মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক গৃহীত উদ্যোগ সম্পর্কে জানতে চান। প্রত্যুত্তরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর সরকার করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় এবং এর চিকিৎসা ক্ষেত্রে যে সকল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন। এরপর ইমরান খান শেখ হাসিনার কাছে বাংলাদেশের বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কেও জানতে চান।

পুরনো শত্রুতা ভুলে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছে পাকিস্তান। সাম্প্রতিক ঘটনা সেদিকেই ইশারা করছে। 
গত বছর অক্টোবরে ৪ দিনের ভারত সফরে এসেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই সফরের ঠিক একদিন আগেই হাসিনাকে ফোন করেছিলেন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। হাসিনার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজ নিতেই এই সৌজন্যমূলক ফোন বলে জানান হয়। এখানেই অবশ্য থেমে থাকেননি ইমরান। চলতি বছর মার্চে বাংলাদেশের স্বাধীনতা উপলক্ষে হাসিনাকে চিঠি লেখেন ইমরান। চিঠিতে তাঁর বক্তব্য ছিল, ‘পাকিস্তানের জনগণ ও সরকার এবং আমার নিজের পক্ষ থেকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আন্তরিক অভিনন্দন জানাচ্ছি।’

আরও পড়ুন: রেডারের আওতার বাইরে থেকে চিনের উপর নজর, সেনার হাতে ডিআরডিও তুলে দিল অত্যাধুনিক 'ভারত'

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর খোঁজ ১০ মাস পর ফের নিজের উদ্যোগেই হাসিনাকে এবার ফোন করলেন ইমরান। গত দুই বছরের বেশি বাংলাদেশের পাকিস্তানি দূতাবাসে কোনও রাষ্ট্রদূত ছিল না। সেখানে সম্প্রতি রাষ্ট্রদূত নিয়োগ করেছে ইসলামাবাদ। গত সপ্তাহেই  ঢাকায় পাকিস্তানের নতুন রাষ্ট্রদূত ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে দেখা করেছেন। এছাড়া পররাষ্ট্র মন্ত্রকের অন্যান্য কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন ওই রাষ্ট্রদূত।

 জানা যাচ্ছে ঢাকায় আসার আগে গত ডিসেম্বরে ইমরান আহমেদ সিদ্দিকী পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আরিফ আলভির সঙ্গে দেখা করতে যান। সেই সময় পাক  রাষ্ট্রপতি তাকে বাংলাদেসে কাশ্মীর ইস্যু বেশি করে প্রচার করার জন্য নির্দেশ দেন। 

একদা ভারত ঘনিষ্ঠ  বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়ছে চিনের। গত কয়েকবছরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে চিন। এমনকি চিনে করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার হলে প্রথমে তা ঢাকা পাবে বলেই শেখ হাসিনাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জিনপিং প্রশাসন। এই অবস্থায় বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভাল করে তোলার ছক কষছে পাকিস্তানও। ভারতকে  চাপে রাখতেই চিন ও তার বন্ধু পাকিস্তানেরনজর রয়েছে বাংলাদেশ প্রীতি, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।