- Home
- Business News
- Other Business
- অটল পেনশন যোজনা: ৭ টাকা জমিয়ে মাসে ৫০০০ টাকা পেনশন পান, জেনে নিন এই দুর্দান্ত স্কিমের কথা
অটল পেনশন যোজনা: ৭ টাকা জমিয়ে মাসে ৫০০০ টাকা পেনশন পান, জেনে নিন এই দুর্দান্ত স্কিমের কথা
বার্ধক্যে আর্থিক সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটি প্রকল্প নিয়ে এসেছে, যা অটল পেনশন যোজনা নামে পরিচিত। এই প্রকল্পে বিনিয়োগে মাসে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া যায়। এই স্কিমের যোগ্যতা, প্রিমিয়াম এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

বার্ধক্যের ভরসা, স্বামী-স্ত্রী উভয়ের জন্য পেনশন, এখনই আবেদন করুন!
অটল পেনশন যোজনা: বর্তমান সময়ে মানুষ দৈনন্দিন খরচের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও অনেক বেশি চিন্তিত। বিশেষ করে বার্ধক্যে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী থাকার জন্য আগে থেকেই পরিকল্পনা করছেন। এর জন্য কেউ ব্যাংকে টাকা জমান, আবার কেউ এসআইপি বা এফডি-র মতো পথ বেছে নেন। তবে, অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী এবং সাধারণ মানুষের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার একটি বিশেষ প্রকল্প চালাচ্ছে, যার নাম অটল পেনশন যোজনা।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে অবসরের পর, অর্থাৎ ৬০ বছর বয়স হলে প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ পেনশন পাওয়া যায়। কেন্দ্রীয় সরকার এই প্রকল্পটি অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে পরিচালনা করছে। বর্তমানে দেশজুড়ে বহু মানুষ এই প্রকল্পে যোগ দিয়েছেন। এই স্কিমের মাধ্যমে মাসে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই প্রকল্পটি আসলে কী? কারা যোগ্য? কীভাবে আবেদন করতে হবে? সেই সব বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাক।
আসলে কী এই অটল পেনশন যোজনা?
অটল পেনশন যোজনা (APY) হল ভারতীয় নাগরিকদের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক প্রবর্তিত একটি পেনশন প্রকল্প, বিশেষ করে অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের জন্য। পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (PFRDA) এই প্রকল্পটি তত্ত্বাবধান করে। এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হল বার্ধক্যে মানুষকে আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করা।
এই প্রকল্পে যোগদানকারীরা ৬০ বছর বয়সের পর তাদের জমার উপর ভিত্তি করে প্রতি মাসে পেনশন পান। এর ফলে অবসরের সময় তারা একটি স্থিতিশীল আয়ের উৎস পান। এই প্রকল্পে কমপক্ষে ২০ বছর বিনিয়োগ করতে হয়। অন্যান্য পলিসির তুলনায় এর প্রিমিয়াম অনেক কম এবং বয়স অনুযায়ী তা পরিবর্তিত হয়।
অটল পেনশন যোজনার যোগ্যতা ও শর্তাবলী
অটল পেনশন যোজনায় যোগদানের জন্য কিছু যোগ্যতা থাকা প্রয়োজন। যেমন:
- বয়স: আবেদন করার সময় ব্যক্তির বয়স ১৮ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: যেকোনো ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসে একটি সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক।
- আধার ও মোবাইল: যোগাযোগের জন্য আধার নম্বর এবং মোবাইল নম্বর দেওয়া ভালো।
- অন্যান্য শর্ত: আয়কর প্রদানকারীরা এই প্রকল্পে যোগদানের জন্য অযোগ্য। এছাড়া, ইপিএফ (EPF)-এর মতো অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় থাকা ব্যক্তিরা এই প্রকল্পে সরকারের সহ-অবদান পাবেন না। শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকরাই এর জন্য যোগ্য।
অটল পেনশন যোজনায় প্রিমিয়াম কত? পেনশন কত পাওয়া যাবে?
এই প্রকল্পে ১০০০ টাকা থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার বিকল্প রয়েছে। আপনার নির্বাচিত পেনশনের পরিমাণ এবং প্রকল্পে যোগদানের সময় আপনার বয়সের উপর ভিত্তি করে প্রিমিয়াম নির্ধারিত হয়। কম বয়সে যোগ দিলে প্রিমিয়াম কম হয়।
উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি মাসে ৫০০০ টাকা পেনশন চান:
- আপনার বয়স ১৮ বছর হলে, আপনাকে প্রতি মাসে মাত্র ২১০ টাকা দিতে হবে।
- আপনার বয়স ৩০ বছর হলে, আপনাকে পরবর্তী ২০ বছরের জন্য প্রতি মাসে ৫৭৭ টাকা প্রিমিয়াম দিতে হবে।
প্রিমিয়ামের টাকা আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্ট থেকে অটো-ডেবিট পদ্ধতিতে মাসিক, ত্রৈমাসিক বা ষাণ্মাসিকভাবে পরিশোধ করা যেতে পারে। অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স না থাকলে, প্রতি ১০০ টাকা অবদানের জন্য ১ টাকা জরিমানা করা হয়।
অটল পেনশন যোজনা প্রকল্পের সুবিধাগুলি
- গ্যারান্টিযুক্ত পেনশন: ৬০ বছর বয়সের পর, সরকার প্রতি মাসে নিশ্চিত পেনশন প্রদান করে। বিনিয়োগে রিটার্ন কম হলে, সরকার সেই ঘাটতি পূরণ করে। রিটার্ন বেশি হলে, অতিরিক্ত অর্থ গ্রাহকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
- নমিনি সুবিধা: ৬০ বছর বয়সের পর গ্রাহকের মৃত্যু হলে, তার জীবনসঙ্গী একই পরিমাণ পেনশন পাবেন।
- কর্পাস ফান্ড: গ্রাহক এবং জীবনসঙ্গী উভয়ের মৃত্যুর পর, জমাকৃত সম্পূর্ণ পেনশন কর্পাস ফান্ড নমিনিকে ফেরত দেওয়া হয়।
- কর ছাড়: আয়কর আইন অনুযায়ী এই প্রকল্পে করা বিনিয়োগের উপর কর ছাড়ের সুবিধাও পাওয়া যায়।
অটল পেনশন যোজনা: আবেদন করার পদ্ধতি কী?
অটল পেনশন যোজনায় যোগদানের প্রক্রিয়া খুবই সহজ। আপনি নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করতে পারেন:
- ব্যাঙ্কে যান: আপনার সেভিংস অ্যাকাউন্ট থাকা ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের শাখায় যান।
- ফর্ম পূরণ করুন: এপিওয়াই (APY) রেজিস্ট্রেশন ফর্ম নিয়ে আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর, নাম, ঠিকানা, কাঙ্ক্ষিত পেনশনের পরিমাণ ইত্যাদি বিবরণ পূরণ করুন।
- কেওয়াইসি (KYC): ফর্মের সাথে আধারের বিবরণ দিন। এটি বাধ্যতামূলক না হলেও যোগাযোগের জন্য সহায়ক।
- অটো-ডেবিট: মাসিক প্রিমিয়াম কাটার জন্য অটো-ডেবিট বিকল্পটি বেছে নিন। ব্যাঙ্ক আপনার অ্যাকাউন্টকে এই প্রকল্পের সাথে লিঙ্ক করবে।
- নিশ্চিতকরণ: প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ হলে আপনাকে একটি রসিদ বা রেজিস্টার নম্বর দেওয়া হবে।
৬০ বছর বয়স পর্যন্ত নিয়মিত প্রিমিয়াম পরিশোধ করে আপনি আপনার বার্ধক্য সুরক্ষিত করতে পারেন। যদি ৬০ বছরের আগে প্রকল্প থেকে বেরিয়ে যেতে চান, তবে শুধুমাত্র আপনার জমা করা টাকা এবং তার উপর অর্জিত সুদ ফেরত পাবেন। সরকারের দেওয়া অংশ ফেরত পাওয়া যাবে না।

