- Home
- Business News
- ৬ মাসে ৭ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি! বাজেটের ৪২%, রিপোর্টে চাপ বাড়ছে মোদী সরকারের
৬ মাসে ৭ লক্ষ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি! বাজেটের ৪২%, রিপোর্টে চাপ বাড়ছে মোদী সরকারের
Tax Deficit: কেয়ারএজের রিপোর্টে চাপে কেন্দ্র। চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ছ'মাসেই ঘাটতি ৭.১০ লক্ষ কোটি টাকা, যা বাজেটের ৪২.১ শতাংশ। কর আদায়, ভরতুকি ও আরবিআই লভ্যাংশ নিয়ে কী বলছে রিপোর্ট?

কেয়ারএজের রিপোর্টে চাপে কেন্দ্র
ক্রেডিট রেটিং সংস্থা কেয়ারএজের সদ্য প্রকাশিত রিপোর্টে দেশের আর্থিক পরিস্থিতির যে ছবি উঠে এসেছে, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপ বাড়ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ছ'মাসেই কেন্দ্রের ঘাটতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকায়। কর আদায়, ভরতুকি ও অন্যান্য খাতের হিসাব ধরে এই রিপোর্ট বাজেটের অঙ্কের সঙ্গে বাস্তব চিত্রের ফারাক তুলে ধরেছে।

বাজেট লক্ষ্যের ৪২.১ শতাংশ ছ'মাসেই শেষ
সাত লক্ষ দশ হাজার কোটি টাকার এই ঘাটতি গোটা বছরের প্রস্তাবিত বাজেট লক্ষ্যমাত্রার ৪২.১ শতাংশ। গত বছর একই সময়ে এই হার ছিল ৩৬.৫ শতাংশ। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে প্রথম ছ'মাসে এত বড় ঘাটতি দেখা যায়নি। অর্থাৎ বছরের অর্ধেক সময় পেরোনোর আগেই ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রার প্রায় অর্ধেক খরচ হয়ে গিয়েছে।
বছর শেষে ঘাটতি আরও বাড়তে পারে
কেয়ারএজের আশঙ্কা, অর্থবর্ষের শেষে ঘাটতি বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার থেকে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকা বেশি হতে পারে। সেক্ষেত্রে ঘাটতির পরিমাণ মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বা জিডিপির ৪.৩ থেকে ৪.৫ শতাংশে পৌঁছতে পারে। এটি এখনও রিপোর্টের অনুমান, চূড়ান্ত হিসাব নয়। তবে এই পূর্বাভাসই সরকারের আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেকটাই পিছিয়ে
বাজেটে ধরা হয়েছিল কর আদায় ৯.৪ শতাংশ বাড়বে, কিন্তু প্রথম ছ'মাসে বেড়েছে মাত্র ৬.১ শতাংশ। আয়করের ক্ষেত্রে লক্ষ্য ছিল ১৮.১ শতাংশ বৃদ্ধি, বাস্তবে হয়েছে ৮.৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে বছর শেষে মোট কর আদায়ে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার ঘাটতি হতে পারে বলে অনুমান কেয়ারএজের। কর আদায়ের যে লক্ষ্য বাজেটে বেঁধে দেওয়া হয়েছিল, তা পূরণ হচ্ছে না।
জিএসটি ও আবগারি শুল্কেও ধাক্কা
রিপোর্ট অনুযায়ী, পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) আদায় কমেছে ৫.৫ শতাংশ। আবগারি শুল্ক থেকে আয় কমেছে ২২.৩ শতাংশ, যেখানে বাজেটে ১৩.৮ শতাংশ বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছিল। এই দুই খাতের পতন সরকারের রাজস্ব আয়ে বড় প্রভাব ফেলেছে এবং ঘাটতি বাড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
ভরতুকিতে খরচ বাজেটের চেয়ে বেশি
খরচের দিকেও উদ্বেগ রয়েছে। কেয়ারএজের অনুমান, ভরতুকি খাতে খরচ বাজেটের চেয়ে ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা বেশি হতে পারে। খাদ্য ভরতুকি বেড়েছে ১৬ শতাংশ এবং সার ভরতুকি বেড়েছে ১১.২ শতাংশ। অথচ বাজেটে এই দুটি খাতেই খরচ কমার কথা বলা হয়েছিল। অর্থাৎ আয় কম, খরচ বেশি, দুই দিকের চাপই একসঙ্গে পড়েছে।
আরবিআই-এর লভ্যাংশ ও সম্পত্তি বিক্রি নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন
বিরোধীদের অভিযোগ, ঘাটতি সামলাতে সরকার এখন রিজার্ভ ব্যাংকের লভ্যাংশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। চলতি বছরে আরবিআই-এর লভ্যাংশ ধরা হয়েছে ২ লক্ষ ৯০ হাজার কোটি টাকা। পাশাপাশি সরকারি সম্পত্তি বিক্রি করে ৫৬ হাজার কোটি টাকা ইতিমধ্যেই তোলা হয়েছে, যা পুরো বছরের লক্ষ্যের ৭০ শতাংশ। আইডিবিআই ব্যাংকের শেয়ার বিক্রি করে আরও ২৬ হাজার কোটি টাকা তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
১ লক্ষ কোটির স্টেবিলাইজেশন ফান্ড নিয়ে নতুন জল্পনা
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মত, আরবিআই-এর টাকা আর সরকারি সম্পত্তি বিক্রির অর্থে ঘাটতি ঢাকার পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতকে সরকার কারণ হিসেবে দেখালেও তাঁদের বক্তব্য, কর আদায়ে পিছিয়ে পড়া, ভরতুকিতে খরচ বৃদ্ধি আর বাজেটের হিসাবের গরমিলই মূল সমস্যা। বাজেটের পর অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ১ লক্ষ কোটি টাকার "ইকনমিক স্টেবিলাইজেশন ফান্ড" ঘোষণা করেছিলেন। বিরোধীদের প্রশ্ন, তাহলে কি আগেভাগেই এই সংকটের আভাস পেয়ে ওই তহবিল তৈরি হয়েছিল? ঘাটতি সত্যিই ১ লক্ষ কোটি ছাড়ালে হয় ওই তহবিলের টাকা ব্যবহার করতে হবে, নয়তো বাজার থেকে ধার নিতে হবে।

