NSE Mega IPO: অবশেষে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) তাদের প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকার আইপিও-র জন্য সেবি-র কাছে খসড়া পত্র (DRHP) জমা দিয়েছে। এই আইপিওটি সম্পূর্ণ 'অফার ফর সেল' (OFS) ভিত্তিক।

NSE Mega IPO: ভারতের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম অধ্যায়ের সূচনা হলো। প্রায় এক দশক ধরে ঝুলে থাকার পর অবশেষে দেশের বৃহত্তম স্টক এক্সচেঞ্জ, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ অফ ইন্ডিয়া (NSE) তাদের আইপিও আনার জন্য বাজার নিয়ামক সংস্থা সেবি (SEBI)-র কাছে খসড়া পত্র বা 'ড্রাফট রেড হেরিং প্রসপেক্টাস' (DRHP) জমা দিয়েছে. এই মেগা পাবলিক ইস্যুর মোট আকার প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা ($৩ বিলিয়ন) হতে পারে বলে বাজার সূত্রের খবর. এই আইপিও-তে দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI) অন্যতম প্রধান শেয়ার বিক্রেতা (Selling Shareholder) হিসেবে অংশ নিচ্ছে.

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

সম্পূর্ণ 'অফার ফর সেল' (OFS) ভিত্তিক আইপিও

সেবির কাছে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, এই আইপিওটি সম্পূর্ণভাবে একটি অফার ফর সেল (OFS) হতে চলেছে. এর অর্থ হলো, এই পাবলিক ইস্যুর মাধ্যমে এনএসই (NSE) নিজে কোনো নতুন মূলধন বা ফ্রেশ ক্যাপিটাল সংগ্রহ করবে না. পরিবর্তে, এক্সচেঞ্জের বর্তমান ১০টি বড় প্রাতিষ্ঠানিক শেয়ারহোল্ডার তাদের হাতে থাকা মোট ১৪,৮৯,২০,২৬০টি (প্রায় ১৪.৯ কোটি) ইক্যুইটি শেয়ার বাজারের সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বিক্রি করে নিজেদের অংশীদারি কমাবে.

বিক্রেতাদের তালিকায় শীর্ষে SBI ও অন্যান্য বড় সংস্থা

স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (SBI): নথিমতে, এসবিআই তাদের নিজস্ব পোর্টফোলিও থেকে সর্বোচ্চ ২.৪৮ কোটি শেয়ার বাজারে ছাড়তে চলেছে. এর পাশাপাশি এসবিআই-এর সহযোগী শাখা SBI Capital Markets আরও ৫৩.৬২ লক্ষ শেয়ার বিক্রি করবে. অর্থাৎ এসবিআই গ্রুপই এই আইপিও-র সবচেয়ে বড় অংশীদারিত্ব বিক্রেতা.

অন্যান্য প্রধান বিক্রেতা: এসবিআই ছাড়া এমএস স্ট্র্যাটেজিক মরিশাস (১.৬০ কোটি শেয়ার), টাইগার গ্লোবাল (১.৪৮ কোটি শেয়ার), কানাডা পেনশন প্ল্যান ইনভেস্টমেন্ট বোর্ড (১.১৯ কোটি শেয়ার), অ্যারান্ডা ইনভেস্টমেন্টস মরিশাস (১.১২ কোটি শেয়ার) এবং ব্যাঙ্ক অফ বরোদা (১.১০ কোটি শেয়ার) এই অফারে অংশ নিচ্ছে.

কারা শেয়ার বেচছে না: উল্লেখ্য, এনএসই-র একক বৃহত্তম অংশীদার (১০.৭২% শেয়ারের মালিক) লাইফ ইন্সুরেন্স কর্পোরেশন বা LIC এই আইপিও-তে তাদের কোনো শেয়ার বিক্রি করছে না.

কেন এক দশক ধরে আটকে ছিল এই আইপিও?

এনএসই প্রথম ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসে ১০,০০০ কোটি টাকার আইপিও-র জন্য আবেদন করেছিল. কিন্তু সেই সময় কুখ্যাত 'কো-লোকেশন' (Co-location) কেলেঙ্কারি এবং অ্যালগো-ট্রেডিং বিতর্কের জেরে সেবি এই প্রক্রিয়া স্থগিত করে দেয়. দীর্ঘ আইনি লড়াই এবং পরিকাঠামো সংস্কারের পর, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সেবি এনএসই-কে আইপিও আনার জন্য সবুজ সংকেত (NOC) দেয়, যার চূড়ান্ত রূপ দেখা গেল এই DRHP জমার মাধ্যমে.

এনএসই-র শক্তিশালী আর্থিক খতিয়ান-

খসড়া পত্রে এনএসই জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে ইক্যুইটি ডেরিভেটিভস ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে তারা শীর্ষস্থানে রয়েছে. ২০২৬ অর্থবর্ষে (FY26) কোম্পানির কার্যক্ষমতা থেকে আয় হয়েছে ১৬,৬০১ কোটি টাকা এবং নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে রেকর্ড ১০,৩০২ কোটি টাকায়. এই বিশাল আর্থিক বৃদ্ধির কারণে আনলিস্টেড বা ধূসর বাজারে (Grey Market) ইতিমধ্যেই এনএসই-র বাজার মূল্য ৫ লক্ষ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে.

বিশেষ তথ্য: কোডাক মাহিন্দ্রা ক্যাপিটাল, জেএম ফাইন্যান্সিয়াল, মরগ্যান স্ট্যানলি, এবং সিটি ব্যাঙ্কের মতো বিশ্বখ্যাত মার্চেন্ট ব্যাংকাররা এই আইপিও-র লিড ম্যানেজার হিসেবে কাজ করছে. সেবির চূড়ান্ত অনুমোদনের পর আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই খুচরো বিনিয়োগকারীরা এই আইপিও-তে আবেদনের সুযোগ পাবেন.