কৃত্রিম মেধা বা AI আসায় কম মাইনের কর্মীদের চেয়ে বেশি রোজগেরে, উচ্চশিক্ষিতদের চাকরি নিয়েই টানাটানি হতে পারে। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিচ্ছে অ্যানথ্রোপিক-এর নতুন রিপোর্ট।
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) আসার পর থেকেই একটা প্রশ্ন সবার মনে ঘুরছে, 'আমার চাকরিটা থাকবে তো?' সাধারণত ভাবা হয়, নতুন প্রযুক্তি এলে কম মাইনের বা কম দক্ষতার কাজগুলোই আগে বিপদে পড়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট এই ধারণাটাই একেবারে উল্টে দিয়েছে।
বিখ্যাত AI গবেষণা সংস্থা অ্যানথ্রোপিক (Anthropic) তাদের “লেবার মার্কেট ইমপ্যাক্টস অফ এআই: এ নিউ মেজার অ্যান্ড আর্লি এভিডেন্স” (Labour market impacts of AI: A new measure and early evidence) নামের রিপোর্টে বেশ কিছু চমকে দেওয়া তথ্য সামনে এনেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, কম মাইনের চাকরির চেয়ে বেশি মাইনের, উচ্চশিক্ষিত 'হোয়াইট-কলার' (White-collar) কর্মীদেরই AI-এর কারণে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা বেশি।
কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
অ্যানথ্রোপিক-এর এই বিস্তারিত গবেষণা বলছে, AI-এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন বয়স্ক কর্মী, মহিলা, উচ্চশিক্ষিত এবং বেশি বেতন পাওয়া মানুষেরা। এই তথ্য অনেককেই অবাক করেছে।
ডেটা অ্যানালিসিস (Data Analysis), কোডিং (Coding), কাস্টমার সাপোর্ট (Customer Support) এবং কনটেন্ট রাইটিং (Writing)-এর মতো কাজে AI টুলের ব্যবহার হু হু করে বাড়ছে। এর ফলে, এই সব ক্ষেত্রে কাজ করা অভিজ্ঞ এবং বেশি মাইনের কর্মীদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। একটি কাজ কতটা মানুষের সাহায্য ছাড়া AI নিজে থেকে করতে পারে, তার ওপর ভিত্তি করেই এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে।
সত্যিই কি চাকরি যাচ্ছে?
২০২২ সালের শেষের দিকে জেনারেটিভ AI (Generative AI) প্রযুক্তি উন্নতি করলেও, সংস্থাগুলো এখনও পুরোপুরিভাবে এর ব্যবহার শুরু করেনি। গবেষকরা বলছেন, "AI-এর যা ক্ষমতা, তার তুলনায় বাস্তবে এর প্রয়োগ এখনও বেশ কম।"
তবে কিছুটা স্বস্তির খবর হল, এখনও পর্যন্ত AI-এর কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্রগুলিতে বড়সড় কোনও চাকরি ছাঁটাই হয়নি। অ্যানথ্রোপিক-এর রিপোর্ট স্পষ্ট জানাচ্ছে, ২০২২ সাল থেকে এই সব ঝুঁকিপূর্ণ চাকরিতে বেকারত্বের হার তেমন বাড়েনি।
তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ!
যদিও বড় আকারে চাকরি ছাঁটাই হচ্ছে না, নতুন চাকরির সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে AI বড় প্রভাব ফেলছে। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, যে সব ক্ষেত্রে AI-এর ব্যবহার বেশি, সেখানে তরুণ প্রজন্মের এবং ফ্রেশারদের (Freshers) জন্য কাজের সুযোগ ধীরে ধীরে কমছে।
এক কথায় বলতে গেলে, AI এখনই সবার চাকরি কেড়ে নেবে না। তবে সংস্থাগুলির নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে যে এটি একটি বড় পরিবর্তন আনবে, তা নিশ্চিত। তাই, নতুন AI টুল শিখে নিজেকে আপডেটেড রাখাই হল ভবিষ্যতে নিজের চাকরি সুরক্ষিত রাখার একমাত্র উপায়।


