ধারাভির আর সেই প্রাণ নেই বললে বোধহয় খুব একটা ভুল হবে না। গোটা দেশের সঙ্গেই লকডাউনে সামিল এই এশিয়ার বৃহত্তম এই বস্তি। বর্তমানে দেশের করোনাভাইরাসের অন্যতম হটস্পট বললেও ভুল হবে না। এই ধারাভি থেকে এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ১৩৮ জনের হদিশ পাওয়া গেছে। বর্তমানে যা নিয়ে রীতিমত চিন্তিত মহারাষ্ট্র প্রশাসন। এই অবস্থায় পরীক্ষার আগেই হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন প্রয়োগের সিন্ধান্ত নিয়েছে গ্রেটার মুম্বই পুরসভা। মুম্বই মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের অতিরিক্ত কমিশনার সুরেশ কাকানি জানিয়েছেন চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই নির্দিষ্ট পরিমাণে ওষুধ প্রয়োগ করা হবে।  এড়া পরিস্থিতি মোকাবিলায় আর কোনও রাস্তা দেখছে না বলেও জানিয়েছে প্রশাসন। 

গত ২৫ মার্চ থেকে গোটা করোনাভাইরাস সংক্রমণ রুখতে গোটা দেশেই লকডাউন চলছে। কিন্তু তারও কয়েক দিন আগে থেকেই করোনাভাইরাসের দাপটে জনজীবন প্রায় স্তব্দ হয়েগিয়েছিল দেশের বাণিজ্য নগরীর। যার প্রভাব পড়েছিল ধারাভির লক্ষাধিক বাসিন্দার মধ্যে। বর্তমানে ঘরে খাবার বাড়ন্ত। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার ত্রাণের ওপর নির্ভর করেই দিন কাটাতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। অনেকে আবার ত্রাণ পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের কথায় কাজ নেই, খাবারা নেই আছে শুধু দুঃখ আর হতাশা। 

মহারাষ্ট্র প্রশাসনের হিসেব অনুযায়ী ধারাভিতে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের বাস। চরম ঘিঞ্জি এলাকায়। যেখানে একটা শৌচাগার ব্যবহার করেন প্রায় ৮০ জন। এক গ্যালন জল কেনার জন্য খরচ করতে হয়ে প্রায় ২৫ টাকা। একেকটা ঝুপড়ি বাড়িতে সাত আট জন ঠাসাঠাসি করে দিন গুজরান করেন। সেখানে শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা বিলাসিতা ছা়ড়া আর কিছুই নয় বলেই জানালেন এলাকায় কাজ করা এক স্বেচ্ছাসেবী। ধারাভির জনঘনত্বই ঘুম ছুটিয়েছে উদ্ধভ ঠাকরে প্রশাসেনর। 

আরও পড়ুনঃ করোনা সংকটের মাঝেই ভারতকে হুঁশিয়ারি চিনের, নতুন এফডিআই নীতির সমালোচনা ...

অরও পড়ুনঃ লকডাউন আমান্য করেই রীতিমত বিপর্যয় ডেকে আনছে, মুম্বই, কলকাতা, জয়পুরকে সতর্ক করল কেন্দ্র ...

অরও পড়ুনঃ করোনা মোকিবালায় সাফল্য কুড়িয়ে লকডাউন ইস্যুতে কেন্দ্রের সঙ্গে সংঘাতের পথে কেরল, হোটেল আর যান চলাচলে ...

স্থানীয় প্রশানেক তরফ থেকে জানান হয়েছে ইতিমধ্যেই ধারাভির যেসব বাসিন্দাদের অ্যান্টি ম্যালেরিয়াল ওষুধ দেওয়া হবে তাদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি চলছে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ। দুএক দিনের মধ্যেই ধারাভির বাসিন্দাদের মধ্যে ওষুধ প্রয়োগ করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও স্থানীয় প্রশাসনের তরফ থেকে জানান হয়েছে।