এক সপ্তাহ আগে সরকার জানিয়েছিল, লকডাউনের সময় বাড়ানো হবে নাকিন্তু, গত একসপ্তাহে অনেকটাই বদলে গিয়েছে পরিস্তিতিলকডাউন উঠে গেলেও থাকতে পারে চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞাকোথাও কোথাও বাড়তে পারে লকডাউনের সময়সীমাও 

কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সচিব রাজীব গৌবা এক সপ্তাহ আগেই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর কোনও পরিকল্পনা নেই সরকারের। কিন্তু, গত একসপ্তাহে অনেকটাই বদলে গিয়েছে পরিস্তিতি। বেশ কয়েকটি রাজ্য-ও কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে বলেছে করোনা-নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন বলে শোনা যাচ্ছে। কাজেই, ১৪ এপ্রিল সারা দেশে চলমান লকডাউন উছে গেলেও এই সংক্রমণের বিস্তার রোধে জরুরি ব্যবস্থা হিসাবে লোক-চলাচলের উপর চাপানো কঠোর নিষেধাজ্ঞাগুলি তারপরেও জারি থাকবে বলেই সরকারি সূত্রের খবর। ওই সূত্র আরও জানিয়েছে, দেশের কোথাও কোথাও বাড়তে পারে লকডাউনের সময়সীমাও।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ভারতে কোভিড-১৯ আক্রান্তের সংক্যা গত এক সপ্তাহের অত্যন্ত দ্রুত হারে বেড়েছে। সোমবার সকালে আক্রান্তের সংখ্যা ৪,০০০ছাপিয়ে গিয়েছে। আক স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী এদিন সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১০৯। গত চার দিনে আক্রান্তের সংখ্যা আগের থেকে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। যে কারণে ফের ভারতে করোনাভাইরাস সংক্রণের লেখচিত্রটি বেশ খাড়া হয়ে উপরে উঠছে। এই পথ ধরেই এই লেখ আগামি কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকলে ভারতের হাসপাতালগুলিতে উপচে পড়বে কোভিড-১৯ রোগী।

'লকডাউনের সময় বেড়ে ৪ মে', তৈরি থাকুন মোদীর ভাইরাল স্ক্রিনশট-এর জন্য

করোনাভাইরাস আসলে সরকারের চক্রান্ত, বিস্ফোরক পোস্ট করে শ্রীঘরে গেল যুবক

পলাতক মহিলার দেওয়া ঠিকানাও ভুয়ো, করোনা-জেহাদির ভয়ে সন্ত্রস্ত গোটা শহর

এখনও পর্যন্ত এই লেখ চিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের করোনাাক্রান্তের লেখ চিত্রের তুলনায় অনেকটাই কম খাড়া। কিন্তু, মাথায় রাখতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই মুহূর্তে সারা বিশ্বে কোভিড-১৯ সংক্রমণের কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে। কিন্তু, এশিয়ার যেসব জায়গায় করোনাভাইরাস তার খেল দেখিয়েছে, সেই সিঙ্গাপুর কিংবা জাপানের মতো দেশগুলির আক্রান্তের হারের থেকে ভারতের আক্রান্ত হওয়ার হার অনেকটাই বেশি। তাই ২১ দিনের লকডাউনেই কররোনা-কে পরাজিত করা যাবে, এমন তত্ত্বে আর থাকতে পারছে না কেন্দ্র। তা যতই ভূভারত মোম জ্বালিয়ে, পটকা ফাটিয়ে, পার্টি করে এপ্রিল মাসে দেওয়ালি পালন করুক।

তবে, সারা দেশে লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানো বা ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় করোনাভাইরাস-কে প্রতিহত করা যেতে পারে ঠিকই, কিন্তু তলে তলে তীব্র খাদ্যাভাব, অনাহারের মতো পুরোনো সমস্যাগুলি মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়ে য়েতে পারে বলে ইতিমধ্যেই সতর্ক করেছে রাষ্ট্রপুঞ্জ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্ব বানিজ্য সংস্থা। কাজেই সরকার-কে করোনাভাইরাস'এর সঙ্কটের মোকাবিলার পাশাপাশি এই সমস্যাগুলির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হচ্ছে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে সারা দেশে করোনা-নিষেধাজ্ঞা দারি রাখার বিকল্প হিসাবে দেশের কোভিড -১৯ হটস্পট হিসাবে চিহ্নিত হওয়া এলাকাগুলিতে লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর কতা ভাবা হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পক্ষ থেকে ইতিমধ্য়েই সারা দেশে কমপক্ষে ২০টি করোনাভাইরাস হটস্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। আরও ২২টি এলাকা রয়েছে সম্ভাব্য হটস্পটের তালিকায়।

সূত্রটি জানিয়েছে, সোমবারই এই বিষয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-কে পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা হবে। লকডাউনের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তিনিই নেবেন। এদিকে এদিন সকালেই বিজেপির কার্যকর্তাদের দেওয়া নির্দেশে যেভাবে মোদী করোনাভাইরাস-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ বলেছেন, তাতে এই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।