লকডাউনের জেরে আটকে পড়েছে নাবালক ছেলে। ভাঙাচোরা সাইকেলে চেপেই বিহার থেকে দুর্গাপুরে যাচ্ছেন এক ব্যক্তি! ররিবার রাতে তিনি পৌঁছন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে। সোমবার ভোরে ফের গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন তিনি।

আরও পড়ুন: করোনা গুজবে 'একঘরে', মানসিক চাপে আত্মহত্যা করলেন যুবক

কী ব্যাপার? নেপাল সীমান্ত লাগোয়া বিহারের প্রত্যন্ত গ্রাম খোড়াগাও-এ থাকেন মুস্কিল ঋষিদেব। তাঁর ছেলে নরেশের বয়স মোটে বারো বছর। পরিবারের আর্থিক অবস্থা একেবারেই ভালো নয়। কাজের সন্ধানে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়েছে নরেশও। জানা গিয়েছে,  ছত্তিশগড় যেতে দিয়ে কলকাতাগামী ট্রেনে উঠে পড়ে তাঁরা! মাঝপথে নিজেদের ভুল বুঝতে ট্রেন থেকে নেমে পড়েন সকলেই। এদিকে ততদিনে করোনা আতঙ্কে দেশজুড়ে জারি হয়ে গিয়েছে লকডাউন। বাস-ট্রেন তো সবই তো বন্ধ, তাহলে বাড়ি ফিরবে কী করে! পুলিশের নজর এড়িয়ে হাঁটা ছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। আর তাতেই ঘটে বিপত্তি। পরিবারের লোকেদের দাবি, হাঁটতে হাঁটতে একসময়ে দলের বাকীদের থেকে আলাদা হয়ে যায় নরেশ। টানা আটদিন অভুক্ত ছিল সে। শেষপর্যন্ত এক সহৃদয় ব্যক্তি ডেকে খাবার দেয়, তাঁর মোবাইল থেকেই বাড়ির লোককে নিজের দুর্দশা কথা জানায় ওই বালক।  

আরও পড়ুন:লকডাউনেও তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষ, গার্ডেনরিচে ত্রাণ বিলি নিয়ে চলল গুলি

আরও পড়ুন: বিপদে গরিব মানুষদের সহায়, করোনা আতঙ্কের মাঝে মানবিকতার নজির কাশ্মীরি শালওয়ালার

মুস্কিল ঋষিদেবের দাবি, ফোনে দুর্গাপুরে নাম বলেছিল নরেশ। সম্বল বলতে ওইটুকুই! এক আত্মীয়কে সঙ্গে নিয়ে ভাঙাচোরা সাইকেলে চেপেই ছেলেকে খুঁজতে বেরিয়ে পড়েছে তিনি। সঙ্গে এক বস্তা মুড়ি, গায়ে দেওয়ার একটি পাতলা চাদর।  রবিবার তাঁরা পৌঁছন উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে, রাত কাটিয়েছেন দেবীনগর এলাকায় ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া একটি শেডের তলায়। এদিকে এই ঘটনার খবর পৌঁছেছে পুলিশের কাছেও। নরেশ ঋষিদেবের সন্ধান চালাচ্ছে আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের কর্তারাও।