'লকডাউনে বাড়িতে থেকে অনেকেই বোর ফিল করছেন। আবার অনেকের এটা খেতে ইচ্ছে করছে, ওখানে যেতে ইচ্ছে করছে। তাদেরকে বলি, কিন্তু কখনও 'হোম লেস ফিল' করেছেন কি। আপনারা আর যাই হোক বাড়ির সকলের সঙ্গেই তো আছেন।' সোশ্য়ালমিডিয়ায় বলতে গিয়ে এক  চিকিৎসক জানালেন তার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা। যিনি এই মুহূর্তে করোনা রোগীর সেবা করতে গিয়ে কীভাবে সমাজের কাছে হেনস্থা হয়েছেন এবং পাশাপাশি কতটা অমানবিকতার পরিচয় পেয়েছেন সকলের থেকে সেই কথাই তিনি শেয়ার করেছেন। ইতিমধ্য়েই ওই মহিলা চিকিৎসকের ভিডিও বার্তাটি ভাইরাল।

শহরে দেদার শব্দবাজি ফাটানোর অভিযোগ, মোট ৯৮ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ


রাজ্য়ের ওই চিকিৎসক বলেন যে,  'লকডাউনে চিকিৎসাকেন্দ্রে এসেছিলাম সহকর্মীর গাড়িতে। কিন্তু ফেরার সময় কোনও গাড়ি পাইনি যে আমায় নিয়ে যেতে রাজি হয়েছে। তার একমাত্র কারণ আমি করোনা রোগীর চিকিৎসা করছি। পাশাপাশি এরপর সংক্রমণ হওয়ায় সম্ভাবনায়  আমি নিজেই বাড়ি ফিরিনি। হঠাৎ জানতে পারি যে রাজ্য় সরকারের উদ্য়োগে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য় কর্মীদের জন্য় গেস্ট হাউজের ব্য়বস্থা করে দেওয়া হয়েছে। এরপর আমি হাসপাতাল থেকে কিছুটা দূরে পুরো শুনশান এলাকায় ৫০০ বিঘা জমির মাঝে একটা গেস্টহাউজে শুধুমাত্র আমি একাই রাত কাটিয়েছি। এদিকে পরপর কদিন বলতে গেলে না ঘুমিয়েই কাটছে। তার কারণ কখন আবার ডাক আসে হাসপাতাল থেকে।'

আরও পড়ুন, বাড়িতে আলো জ্বালাতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী, মোমবাতি হাতে রাস্তায় অতি উৎসাহীরা

অপরদিকে ওই চিকিৎসক জানান,' মাঝে এক বন্ধু বাড়িতে যাব বলে ঠিক করেছিলাম। সেই বন্ধু যে জায়গায় ভাড়া নিয়েছে, আমি যাব জানতে পেরে বাড়ির মালিক তালা লাগিয়ে দেয়। এখানেই শেষ নয় সেই মালিক এটা পর্যন্ত আমার বন্ধুকে মনে করিয়ে দেয়, অনেকেই ভাড়াটেদের বাড়ি থেকে বার করে দিয়েছে, তাই সে কথাটা মনে রাখা উচিত। পাশাপাশি হাসপাতাল চত্ত্বরে খাবারের দোকান থেকে শুরু করে চেনা মানুষরা পর্যন্ত ওই যে 'করোনা' যাচ্ছে বলে দূরে সরে যাচ্ছে। তাই আমার মনে হয় সমাজের একাংশ মানুষ তাদের মানবিকতা হারিয়েছেন। এরপরে তাই সেই কাকিমা-জেঠুরা তাদের ছেলেমেয়েদের ডাক্টার বানানোর স্বপ্ন দেখলে যেনও এই পরিস্থিতির কথা মাথায় রাখেন।'

 

 

 রাজ্য়ে করোনায় আক্রান্ত এবার এক নার্স, পরিবারকে কোয়ারেনটাইনে থাকার নির্দেশ স্বাস্থ্য দফতরের

করোনা আক্রান্তদের এমআর বাঙ্গুরে স্থানান্তর ঘিরে তুলকালাম, অভিযোগ নিয়ে অবস্থান বিক্ষোভে নার্সরা

পাঁচিল টপকালেই ভাইরাস এক্সপার্ট সেন্টার, তবুও মুখ ফিরিয়ে মেডিক্য়াল কলেজ