করোনাভাইরাস নামটাই যেন এক গোটা বিশ্বের কাছে ত্রাস। পৃথিবীর ২০২ টিরও বেশি দেশে ইতিমধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে এই মারণ রোগের সংক্রমণ। এখনও পর্যন্ত গোটা দুনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৩ লক্ষের কাছাকাছি। মারা গিয়েছেন প্রায় ৭০ হাজার মানুষ। এই পরিসংখ্যান আপনার, আমার শিরদাঁড়ায় ভয় ধরানোর জন্য যথেষ্ট। তবে এর মাঝেও কিন্তু রয়েছে আশার আলো। পৃথিবীতে এই মারণ ভাইরাসকে সম্পূর্ণ রূপে পরাজিত করে সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাটাও কিন্তু কম নয়। কোভিড ১৯ রোগকে জয় করে এখনও পর্যন্ত স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন ২ লক্ষ ৬৫ হাজার ৮৮৭ জন মানুষ।

বিশ্বে মহামারীর থেকে অতিমারীর আকার নিয়েছে করোনাভাইরাস। ওয়ার্ল্ডওমিটারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্তের সংখ্যা গোটা বিশ্বে ১২, ৭৫, ০৩৭ জন। বর্তমানে এঁদের মধ্যে সক্রিয় কেসের সংখ্যা ৯,৩৯,৬৪৯। তারমধ্যে সিরিয়াস অবস্থা ৪৫,৮৯৯ জনের। শতাংশের হিসাবে সংখ্যাটা ৫ শতাংশ। আর করোনা সংক্রমণ হলেও আশঙ্কার মত অবস্থায় নেই ৮,৯৩,৭৫০ জন। যা শতাংশের হিসাবে ৯৫ শতাংশ।

অন্যদিকে বিশ্বে করোনা সংক্রমণনের ক্লোজড কেস রয়েছে ৩,৩৫,৩৮৮। যার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৬৯,৫০১ জনের। শতাংশের হিসাবে সংখ্যাটা ২১ শতাংশ। আর কোভিড ১৯ রোগ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২,৬৫,৮৮৭ জন। শতাংশের হিসাবে এটি হল ৭৯ শতাংশ।

করোনাভাইরাস আসলে সরকারের চক্রান্ত, বিস্ফোরক পোস্ট করে শ্রীঘরে গেল যুবক

নিয়ন্ত্রণে আসছে না সংক্রমণ, ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ছেড়ে এবার হাসপাতালে বরিস জনসন

রক্ষে পেল না বাঘমামাও, চিড়িয়াখানায় এবার করোনা সংক্রমণের শিকার ৪ বছরের নাদিয়া

বর্তমানে গোটা বিশ্বে সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রমণের ঘটনা ঘটেছে মার্কিন মুলুকে। ট্রাম্পের দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৩,৩৬,৯৫৯। মারা গিয়েছেন ৯,৬২৬ জন। এর সঙ্গেই বলতে হয় মারণ ভাইরাসকে জয় করে আমেরিকায় সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৭,৪০৭ জন মানুষও।

আমেরিকার মত স্পেনেও করোনা সংক্রমণ ভয়ের আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১,৩১,৬৪৬। মারা গিয়েছেন ১২,৬৪১। এর মধ্যেই কিন্তু সুস্থতার পথে হেঁটেছেন ৩৪,২১৯ জন।

এই প্রসঙ্গে বলতে হয় ইতালির কথাও। ইউরোপের এই দেশে এখনও পর্যন্ত সংক্রমণের সংখ্যা ১,২৮,৯৪৮। তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৫,৮৮৭ জনের। কিন্তু সব বাধা অতিক্রম করে সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাটাও কিন্তু কম নয়। স্পেনে মারণ রোগকে জয় করে ফিরে এসেছেন ২১,৮১৫ জন। 

জার্মানিতেও সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যাটা কম নয়। ইতিমধ্যে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছেন ২৫,২৮০ জন। এই প্রসঙ্গে বলতে হয় চিনের কথাও। বিশ্বে সর্বপ্রথম করোনা সংক্রমণ চিনে হলেও বর্তমানে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে এসেছে দেশটি। দেশের মোট আক্রান্ত ৮১,৭০৯ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে ৭৭,০৭৮ জন। 

করোনার মারণ থাবা পড়েছে ফ্রান্স, ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য এবং ইরানেও। তবে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক আবিষ্কার না হলেও আক্রান্তদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন চিকিৎসকরা। আর তার ফল হিসাবেই ফ্রান্সে এখনও পর্যন্ত সুস্থ হয়ে উঠেছেন ১৬,১৮৩। বয়স্কদের করোনায় ঝুঁরিপ সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকলেও, ইরানি এই মারণ ভাইরাসকে জয় করে বাড়ি ফিরেছেন এই শতায়ু মহিলা। 

ভারতেও করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বাড়লেও সুস্থ হওয়ার হারটাও কিন্তু কম নয়। এদেশে এখনও পর্যন্ত সংক্রমণের শিকার হয়েছেন ৪,২৮৮ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১১৭ জনের। আর সুস্থ হয়ে উঠেছেন ৩২৮ জন।