শেষবার বিশ্বকাপ ক্রিকেট নতুন চ্যাম্পিয়ন পেয়েছিল ১৯৯৬ সালে। অর্জুন রণতুঙ্গার নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা কাপ জিতেছিল। তারপর থেকে চারবার অস্ট্রেলিয়া আর একবার ভারত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। যারা কিনা আগেও বিশ্বকাপ জেতার স্বাদ পেয়েছে। কিন্তু, বিশ্বকাপ ২০১৯ ফের একটি নতুন চ্যাম্পিয়ন পেতে চলেছে। বুধবার ফাইনালে পা রেখেছিল নিউজিল্যান্ড। আর পরের দিনই অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে পরাজিত করে ফাইনালে জায়গা পাকা করল ইংল্যান্ড। দুই দলের যেই জিতুক, তারা প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হবে।

এদিন গোটা ম্যাচে একবারও নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া করেনি ইংল্যান্ড। প্রথম সেমিফাইনালে অন্তত বোলিং-এর সময় ভারতেরই প্রাধান্য ছিল। এমনকী ব্যাটিং-এর সময়ও জয়ের কাছাকাছিই ছিল মেন ইন ব্লু। কিন্তু ক্যাঙ্গারুদের একেবার সব বিভাগে পিছনে ফেলল ইংল্যান্ড।

আরও পড়ুন - ছিটকে গেল হেলমেট, চিবুক ফেটে রক্তারক্তি! ভয়ঙ্কর বাউন্সার আর্চারের, দেখুন ভিডিও

আরও পড়ুন - অস্ট্রেলিয়া ছিটকে গেলেও ইতিহাসে উঠে গেলেন স্টার্ক! ছাপিয়ে গেলেন ম্যাকগ্রাকেও

আরও পড়ুন - গাপ্টিলের ক্ষেপণাস্ত্রে ভাঙল ১৩০ কোটি ভারতীয় হৃদয়! ঘুঁচল না ২ ইঞ্চির দূরত্ব - দেখুন ভিডিও

বল হাতে একেবারে আগুন ঝড়ালেন জোফ্রা আর্চার, ক্রিস ওকস-রা। গোটা টুর্নামেন্টে গাদা গাদা রান করা ওয়ার্নার-ফিঞ্চকে শুরুতেই ফিরিয়ে দিয়ে প্রথম থেকেই অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাটফুটে ঠেলে দিয়েছিলেন তাঁরা। আবার মাঝের ওভারে এসে উইকেট নিয়ে গেলেন স্পিনার আদিল রশিদও।

অজি ব্য়াটসম্য়ানদের মধ্যে একমাত্র স্টিভ স্মিথ (৮৫) ও আর্চারের বলে চিবুক ফেটে যাওয়া অ্য়ালেক্স কেরি (৪৬) রান পেলেন। তাঁদের বাদ দুই অঙ্কের ঘরে রান করেছেন শুধুমাত্র ম্যাক্সওয়েল (২২) ও স্টার্ক (২৯)।

এরপর ব্যাট করতে নেমে অজি বোলারদের ম্যাচে ফেরার কোনও সুযোগই দিলেন না ইংরেজ ব্য়াটাররা। দুই গোড়া পত্তনকারী জেসন রয় (৮৫) ও বেয়ারস্টো (৩৪) মিলেই ১৭ ওভারে ১২৪ রান তুলে দেন। বিশেষ করে বলতে হবে রয়ের কথা। ৯টি চার ও ৫টি ছয়ের সাহায্যে মাত্র ৬৫ বলের ধুন্ধুমার ইনিংস খেললেন তিনি। বেয়ারস্টোকে এলবিডব্লু আউট করেন স্টার্ক।

এর ফলে এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের নজির গড়লেন তিনি। আর রয় অবশ্য আউট হলেন একটি বিতর্কিত ক্যাচ আউটে। যা নিয়ে মাঠের মধ্যেই আম্পায়ার ধর্মসেনা বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিলেন ইংরেজ ব্য়াটসম্য়ান। তিনি  আউট হওয়ার সময় ইংল্যান্ডের স্কোর ছিল ২০ ওভারে ১৪৭/২। বাকি কাজটা সহজেই সেরে ফেললেন জো রুট (৪৯*) ও অইন মর্গান (৪৫*)।

গ্রুপ পর্বের মাঝে হঠাৎ কয়েকটি হেরে যাওয়ার পর থেকে কিন্তু একেবারে চ্যাম্পিয়নের মতোই লাগছে এই ইংরেজ দলকে। ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং - কোথাও কোনও খুঁত পাওয়া যাচ্ছে না।