না সোনার কাপ নয়। শেষ পর্যন্ত ভারতীয় দলের হাতেও রইল সেই চায়ের কাপই। বিশ্বকাপ ২০১৯-এর বৃষ্টি-বিঘ্নিত সেমিফাইনালে ভারতের বিশ্বকাপ জেতার স্বপ্ন এবারের মতো ধুয়ে গেল ভারতের বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন। বুধবার খেলা শুরু হওয়ার পর নিউজিল্যান্ডকে ২৩৯/৮ রানে বেঁধে রেখেছিল ভারত। কিন্তু ভারতের রান তাড়াটা শুরু হয় হয় দুঃস্বপ্নের মতো। প্রথম ৫ রানের মধ্যেই প্রথম তিন ব্য়াটসম্য়ানকে ফিরে গিয়েছিলেন প্যাভিলিয়নে। শেষ দিকে জাদেজা স্বপ্ন দেখালেও শেষ রক্ষা হল না। ২২১রানেই অলআউট হয়ে গেল ভারত। পরাজিত হল ১৮ রানে।

এদিন দিনের শুরুটা কিন্তু বেশ ভাল হয়েছিল ভারতের জন্য। ৪৬.১ ওভারে ২১১/৫ রান নিয়ে ব্য়াট করতে শুরু করে ২৩৯/৮ রানে ব্ল্যাক ক্যাপসরা তাদের ইনিংস শেষ করে। হাতে থাকা ২৩ বলে তীব্র মারার পরিকল্পনা ছিল কিউইদের। কিন্তু ২৮ রানের বেশি যোগ করতে পারেননি। হারায় ৩ উইকেট। টেলর ৭৪ রান করেন। ২টি উইকেট নেন ভুবনেশ্বর কুমার। আর রস টেলরকে জাদেজার রানআউট করেছিলেন।

কিন্তু রান তাড়ার শুরু থেকেই ভারতকে পিছনেরর পায়ে ঠেলে দেন কিউই পেসাররা। ৪ ওভার না শেষ না হতেই মাত্র ৫ রানের মধ্যে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান প্রথম তিন ব্যাটসম্য়ান রোহিত শর্মা (১), বিরাট কোহলি (১) ও লোকেশ রাহুল (১)। রোহিত ও রাহুল মার্ক উটের শিকার। আর বিরাটকে ফিরিয়ে দেন বোল্ট।  

আরও পড়ুন - ম্যাঞ্চেস্টারে জাদেজার অসি চালনা! ইলিয়ট হতে কি পারবেন

আরও পড়ুন - ইন্দ্রপতন, শুরুতে জোর ধাক্কা! ৪ ওভারে মুড়িয়ে গেল ভারতীয় ব্যাটিং-এর মাথা

আরও পড়ুন - শেষ ২৩ বলে এল ২৮ রান, পড়ল ৩ উইকেট! কিউইদের পরিকল্পনা বানচাল করলেন জাদেজা

এরপর একদিকে ঋষভ পন্থ সাবলীল ভাবে খেললেও অপর প্রান্তে অতিরিক্ত রক্ষণাত্বক ব্যাটিং-এর খোলসে ঢুকে গিয়েছিলেন দীনেশ কার্তিক। ২৫টি বল খেলে ৬ রান করে তিনিও ফিরে যান। ২৪ রানে ৪ উইকেট পড়ার পর একটা ভাল জুটির দরকার ছিল। আর সেটাই করে দেখাচ্ছিলেন পন্থ (৩২) ও হার্দিক পাণ্ডিয়া (৩২)। কিন্তু, পন্থ বোঝালেন, তাঁর এখনও পরিণতি আসেনি। স্যান্টনারের বলে অযথা হাওয়ায় মারতে গিয়ে উইকেট ছুঁড়ে দিলেন তিনি। প্রায় একইভাবে পাণ্ডিয়াও আউট হন।

এখান থেকেই প্রায় গত বিশ্বকাপের গ্র্যান্ট ইলিয়ট হয়ে উঠছিলেন তিনি। একদিকে ধোনি উইকেট ধরে রেখেছিলেন। অন্যদিকে একটি দুর্দান্ত ইনিংস খেলছিলেন জাদেজা। খারাপ বল পেলেই চার-ছয়ও মারছিলেন। ৪২তম ওভারে দেখা গেল তাঁর অসিন নাচানো সেলিব্রেশনও। কেরিয়ারের ১১তম অর্ধশতরান করলেন তিনি। ৪টি ছয় ও ৪টি চার মেরে ৫৯ বলে ৭৭ রান করলেন তিনি। অন্য প্রান্তে ধোনিও ৭২ বলে ৫০ রান করলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা করতে পারলেন না।