দুর্দান্ত বললেও কম বলা হবে। এভাবেই ইনিংসের শুরুটা হয়েছিল ভারতের। জুটিতে ১৭৬ তুলে দিয়েছিলেন রোহিত শর্মা (১০৪) ও কেএল রাহুল (৭৭)। ৩০ ওবারের শেষএ ভারত ছিল ১৮০/১। এখান থেকে হেসে খেলে ৩৪০-৩৫০ রান ওঠার কথা ছিল। কিন্তু ভোগালেন সেই শেষের দিকের ব্য়াটসম্যানরা। দীনেশ কার্তিক, ভুবনেশ্বর কুমারকে জুড়েও লাভ হল না। শেষ ১০ ওভারে মাত্র ৬৩ রান উঠল ৫ উইকেটের বিনিময়ে। ফলে ৫০ ওভার শেষে ৩১৪/৯ স্কোরেই থামল ভারতের ইনিংস।

মঙ্গলবার দুর্দান্ত ব্য়াটিং প্রদর্শন করলেন রোহিত ও রাহুল। ঝুঁকি না নিয়েও প্রথম থেকেই দ্রুত রান করছিলেন ভারতের দুই গোড়াপকত্তনকারী ব্য়াটসম্য়ান। আগের ম্য়াচে প্রথম পাওয়ার প্লে-তে উঠেছিল ১ উইকেটে ২৮ রান। এদিন হল বিনা উইকেটে ৬৩।

চলতি বিশ্বকাপে এতদিন পর্যন্ত রোহিতের চেনা আগ্রাসী খেলা দেখা যায়নি। এদিন চলতি বিশ্বকাপের চতুর্থ শতরানের পথে একেবারে প্রথম থেকেই হিটম্য়ানের মেজাজে ব্য়াট করলেন তিনি। শুরুতে ৯ রানের মাথায় একটি সুযোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই ক্যাচ ফেলে দেন তামিম। আর তারপর তাঁর ব্য়াট থেকে এল ৭টি চার ও ৫টি ছয়। মাত্র ৯০ বলে এদিন শতরান পূর্ণ করেন তিনি। সাধারণত রোহিত শর্মার হাত থেকে বড় বড় শতরান আসে। এদিন কিন্তু সেঞ্চুরি হওয়ার পরই মনোসংযোগে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় ১০৪ রানেই আউট হয়ে গেলেন। তিনি আউট হওয়ারপ পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি রাহুলও (৭৭)।

তখনও ম্যাচের দখল পুরোপুরি ছিল ভারতের হাতে। এক ওভারেই খেলা ঘুরিয়ে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। ৩৯তম ওভারে পর পর তিনি বিরাট কোহলি ও হার্দিক পাণ্ডিয়াকে ফিরিয়ে দেন। ঘোরালেন পর পর পাঁচ ইনিংসে অর্ধশতরান করার পর বা শতরান হারানোর পর এদিন কোহলির অবদান ২৬। আর হার্দিক আজ একেবারে শূন্য।

তবে, চার নম্বরে নেমে দুর্দান্ত খেলছিলেন ঋষভ পন্থ। সাকিবের বলে এদিন তিনি বিশ্বকাপে তাঁর প্রথম অর্ধশথরানটা ফেলে এলেন মাত্র ২ রানের জন্য়। তিনি কিন্তু চার নম্বরে দ্বিতীয় ম্য়াচেই দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছেন।

আরও পড়ুন -  ইতিহাস গড়লেন রোহিত! সাঙ্গাকে ছুঁয়ে ব্যাটন তুলে নিলেন দাদার হাত থেকে

আরও পড়ুন - ভারত বনাম বাংলাদেশ ক্রিকেট প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সবচেয়ে স্মরণীয় ও বিতর্কিত পাঁচ মুহূর্ত

আরও পড়ুন - বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল - জায়গা বাকি তিনটি, লড়ছে পাঁচ দল

দলের ব্যাটিং গভীরতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এদিন দীনেশ কার্তিক ও ভুবনেশ্বর কুমারকে খেলানো হয়। কিন্তু তাঁদের অবদান যথাক্রমে ৮ ও ২। আর অপর প্রান্তে অসহায় ধোনি করলেন ৩৩ বলে ৩৫। মারলেন ৪টি চার।

বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল মুস্তাফিজই। ৫৯ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিলেন তিনি। সাকিব ১ উইকেট নিলেন মাত্র ৪১ রান দিয়ে। ১টি উইকেট পেলেন রুবেল হোসেনও।