ধোনির মারাত্মক আগ্রাসী ব্যাটসম্যান থেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফিনিশারে পরিণত হওয়ার নেপথ্যে অবদান তার। সম্প্রতি এমনই দাবি করেছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় কোচ তথা প্রাক্তন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল। প্রাক্তন অজি তারকার এহেন মন্তব্যের পর বিতর্কও কম হয় নি। প্রশ্ন উঠেছিল চ্যাপেলের কোচিংয়ে কত দিনই বা খেলেছিলেন ধোনি। আর ধোনি বরাবরই ঠান্ডা স্বভাবের। তাহলে ফিনিশার ধোনির জন্য নিজে থেকেই কেন কৃতিত্বের দাবি জানালেন গুরু গ্রেগ। প্রাক্তন ভারতীয় কোচের এহেন বক্তব্যের পরই তার বিরুদ্ধে একযোগে আক্রমণ শানালেন সেই সময় তার দলের অন্যতম সদস্য তারকা অফ স্পিনার হরভজন সিং ও ব্য়াটসম্যান যুবরাজ সিং। 

আরও পড়ুনঃইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চান ব্রিটিশ উইকেটরক্ষক

দিন’কয়েক আগে এক সাক্ষাৎকারে চ্যাপেল দাবি করেন তাঁর জন্যই ধোনি ‘পাওয়ারফুল ব্যাটসম্যান’ থেকে ফিনিশারে পরিণত হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে চ্যাপেল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ধোনির খেলা ১৮৩ রানের ইনিংসের কথা বলেছেন। সেই ইনিংসটায় ধোনি শ্রীলঙ্কার কোনও বোলারকে দাঁড়াতেই দেননি। ধোনির দাপুটে ব্যাটিংয়ের সামনে অসহায় আত্মসমর্পন করেছিলেন সকলে। চ্যাপেল বলছেন,'তার পরের ম্যাচটাই ছিল পুণেতে। আমি ধোনিকে বলেছিলাম, তুমি প্রতিটা বলই বাউন্ডারি মারার চেষ্টা করো কেন? কেন জমিতে শট নেওয়ার কথা চিন্তা করো না? আমরা ২৬০-এর মতো রান তাড়া করছিলাম। যে ধোনি আগের ম্যাচে পাওয়ার হিটিং করেছিল, পরের ম্যাচে সম্পূর্ণ বিপরীত খেলা খেলল।'জেতার জন্য যখন ঠিক ২০ রান দরকার, তখন ধোনি পরিবর্ত ক্রিকেটার আরপি সিংহের মাধ্যমে চ্যাপেলকে জিজ্ঞাসা করেন, এ বার ছক্কা হাঁকাবেন কি না? চ্যাপেল তখনই ছক্কা মারতে নিষেধ করেন। ঠিক যখন ৬ রান দরকার, ধোনি ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জেতান। চ্যাপেল বলছেন,ম্যাচ শেষ করে আসার জন্য আমি সবসময়ে ধোনিকে চ্যালেঞ্জ করতাম। আর উইনিং রান ওর ব্যাট থেকে বেরলেই ধোনির মুখে হাসি খেলা করত।' 

আরও পড়ুনঃ১৯৮৩-র ফাইনালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হারের কারন কী ছিল, জানালেন মাইকেল হোল্ডিং

আরও পড়ুনঃগভীর সঙ্কটজনক অবস্থায় হকি লেজেন্ড বলবীর সিং সিনিয়র, রয়েছেন ভেন্টিলেশনে

চ্যাপেলের এই মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই ভাজ্জি তাঁকে আক্রমণ করেন। টিম ইন্ডিয়ার সর্বকালের সেরা অফস্পিনার বলেন, তিনি ধোনিকে মাঠে রেখে খেলতে বলেছিলেন কারণ কোচ চাইতেন সবইকে স্টেডিয়ামের বাইরে বের করে দিতে, তিনি অন্যরকম গেম খেলতেন।” হরভজনের সুরে সুর মিলিয়ে চ্যাপেলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন যুবরাজও। তিনি মনে করিয়ে দেন, চ্যাপেল তাঁকে আর ধোনিকে বলেছিলেন ‘শেষ দশ ওভারে কোনও ছক্কা হাঁকাবে না।’ একটি টুইটে তিনি শুধু চ্যাপেলের সেই উক্তিটি লেখেন এবং একটি হাসির ইমোজি দেন। ধোনি এই বিষয়ে কোনও কথা না বললেও, ধোনি সম্পর্কে চ্যাপেলের মন্তব্য যে তার সতীর্থরা ভালভাবে নেননি, হরভজন ও যুবরাজ লিং সেই প্রমাণই দিলেন।