নিকলাস পুরান ও শাই হোপ ভারতীয় দলকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। ৩৮৮ রান তাড়া করতে নেমেও হাল ছাড়তে রাজি ছিলেন না ক্যারিবিয়ানরা। কিন্তু দুই ভারতীয় ওভারের দুটি ওভার ম্যাচের রংটাই পুরো বদলে দিল। প্রথমে দুরন্ত ছন্দে থাকা পুরানকে ৭৫ রানে ফেরালেন সামি। তারপর প্রথম বলেই প্যাভেলিয়ানের রাস্তা দেখিয়ে দিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক পোলার্ডকে। পরপর দুটি বলে উইকেটে তুলে হ্যাটট্রিক সামনে নিয়ে এসেছিল সামিকে। কিন্তু বুধবারের হ্যাটট্রিকটা লেখা ছিল কুলদীপের নামে। শাই হোপ, জেসন হোল্ডার ও আলজারি জোসেফকে পরপর তিনটি বলে ফিরিয়ে দিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন একটা ইতিহাস লিখলেন কুলদীপ। তিনিই প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার যিনি একদিনের ক্রিকেটে দুটি হ্যাটট্রিক করলেন। এর আগে ইডেনে হ্যাটট্রিক করেছিলেন কুলদীপ। সামি কুলদীপে দাপটে  রানের গুটিয়ে গেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। টিম ইন্ডিয়া ১০৭ রানে ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনল। 

 

 

আরও পড়ুন - পাকিস্তানে টেস্ট খেলতে যাবে না বাংলাদেশে, বিসিবি’র ঘোষণায় ক্ষুব্ধ পিসিবি

টস হেরে টিম ইন্ডিয়া যখন আবার প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমেছিল তখন একটা হলেও চাপে ছিলেন সবাই। বিশাখাপত্তনমে যে চেজ করটা অনেক সহজ। কিন্তু দুই ভারতীয় ওপেনার অন্য পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন। ২২৭ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপের পর প্রথম উইকেট হারাল ভারত। ১০৪ বলে ১০২ রানের ইনিংস খেলে ফিরলেন লোকেশ রাহুল।  হিটম্যান রোহিত যে ভাবে ব্যাটিং করছিল তাতে মনে হচ্ছিল তিনি বুধবার আরও একটা ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকাবেন। কিন্তু ১৩৮ বলে ১৫৯ রানের ইনিংস খেলে ফিরলেন তিনি। রোহিতের এই ইনিংস রোহিতকে চলতি বছরে একদিনের ক্রিকেটে সব থেকে বেশি রানে পৌছে দিল। রোহিত ২০১৯ সালে এখনও পর্যন্ত ১৪২৭ রান করেছেন তিনি। আরও একটি ম্যাচ আছে হিটম্যানের কাছে। তারপর শুরু হল শ্রেয়স ও ঋষভের তান্ডব। ৩২ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেললেন শ্রেয়স। মারলেন তিনটি চার। চারটি ছয়। অন্যদিকে ১৬ বলে ৩৯ রান করলেন ঋষভ। তিনি মারলেন তিনটি চার। চারটি ছয়। ৫০ ওভারে ৩৮৭ রান করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ব্যাটফুটে ঠেলে দেয় ভারত।

আরও পড়ুন - রবিবার হচ্ছে না কলকাতা ডার্বি, নিরাপত্তার কারণে ম্যাচ পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত

ব্যাট করতে নেমে চাপে ছিল তারা। হেটমায়ার এদিন ভাল কিছু করে উঠতে পারলেন না। কিন্তু পুরান ও শাই হোপ কিছুটা হলেও চাপে ফেলে দিয়েছিল টিম ইন্ডিয়াকে। কিন্তু সামি-কুলদীপের সামনে সব শেষ। বিরাট কোহলি নিজের চারশো তম আন্তর্জাতিক ম্যাচে রান করতে না পারলেও তাঁকে জয় উপহার দিল দল। কিন্তু গোটা ম্যাচে টিম ইন্ডিয়ার ফিল্ডিং শেষ ম্যাচের আগে বিরাটের চিন্তা বাড়িয়ে দেবে। এদিনও একের পর এক ক্যাচ পরেছে। ২২ তারিখ সিরিজের ফয়সালার ম্যাচ হবে ওড়িশার কটকে। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাতে পারলে, প্রথম কোনও দলের বিরুদ্ধে দশটি একদিনের সিরিজে জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করবে ভারত। 

আরও পড়ুন - আবার চমক স্মিথের, দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং পরামর্শদাতার পদে জ্যাক কালিস