পাকিস্তানি সমর্থকদের উদ্দেশে বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে ২০০৭ সালে দু'টি টেস্ট ম্যাচে নির্বাসিত হতে হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকার প্রাক্তন ব্যাটসম্যান হার্শেল গিবস-কে। সেই ঘটনার তেরো বছর বাদে দক্ষিণ আফ্রিকার এই প্রাক্তন তারকা স্বীকার করে নিলেন, ঘটনার দিন পাক সমর্থকদের 'পশু'-র সঙ্গে তুলনা করে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। 

টুইটারে এক ভক্তের প্রশ্নর জবাবেই এ কথা জানিয়েছেন গিবস। তাঁর কাছে ওই ভক্ত জানতে চেয়েছিল, ২০০৭ সালে পাক সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি কী বলে শাস্তি পেয়েছিলেন?

জবাবে গিবস বলেন, 'কিছু অভব্য পাক সমর্থককে পশু বলেছিলাম আমি। ওরা আমার স্ত্রী এবং সন্তানকে উত্যক্ত করে মাঠে বসার জায়গা থেকেই তুলে দিয়েছিল।' ২০০৭ সালে সেঞ্চুরিয়নের মাঠে এই ঘটনা ঘটেছিল। বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করার অভিযোগে গিবস-কে দুই টেস্ট- এর জন্য নির্বাসিত করে আইসিসি। শাস্তি কমানোর আবেদন করেও সাড়া পাননি দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা ব্যাটসম্যান। স্টাম্প মাইকেও গিবস-এর বর্ণবিদ্বেষমূলক মন্তব্য শোনা গিয়েছিল। সেখানে তাঁকে বলতে শোনা যায়, পাক সমর্থকরা 'পশুর মতো আচরণ করছে।'

আরও পড়ুন- ধাওয়ানের জন্য জোড়া বদলি, নিউজিল্যান্ড যাচ্ছেন সঞ্জু- পৃথ্বী

আরও পড়ুন- সচিন, ওয়ালস, পন্টিং, ওয়ার্ন - চার কিংবদন্তি একসঙ্গে ফিরছেন ক্রিকেট মাঠে

এর আগেও অবশ্য নিজের আত্মজীবনী 'টু দ্য পয়েন্ট'-এ এই ঘটনার উল্লেখ করেছিলেন স্মিথ। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন, পাকিস্তানি সমর্থকদের অভব্যতায় গোটা দক্ষিণ আফ্রিকা দলই যারপরনাই বিরক্ত হয়েছিল। মাঠের মধ্যে  হইহল্লা করার পাশাপাশি তারা তাঁর স্ত্রী লিজেল এবং পুত্র রাশার্ড-কে লাথিও মারে তারা। 

নিজের আত্মজীবনীতে অবশ্য গিবস দাবি করেছিলেন, তিনি কখনও বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্য করেননি। তিনি লেখেন, 'আমাকে যা ইচ্ছে তাই বলা যেতেই পারে, তাই বলে বর্ণবিদ্বেষী বলাটা একটু বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। বিশেষত মুসলিমদের নিয়ে তো নয়ই। প্রথমত আমি নিজে শেতাঙ্গ নই। তাছাড়া আমার চারজন মুসলিম আত্মীয়া রয়েছেন এবং অন্তত দশজন মুসলিম ভাইবোন আছেন। আমি কীভাবে বর্ণবিদ্বেষী হব?'

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ৯০টি টেস্ট এবং ২৪৮টি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন গিবস। যথাক্রমে ৬১৬৭ এবং ৮০৯৪ রান করেন তিনি। দেশের হয়ে ২৩টি টি টোয়েন্টি ম্যাচেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন গিবস।