আজ শেষ হচ্ছে অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ। ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। আজ ম্যাচের ফল যাই হোক না কেন এরমধ্যেই অনেক ভারতীয় জুনিয়র ক্রিকেটারের ওপর নজর পড়েছে সবার। বেশ কিছু সম্ভাবনাময় ক্রিকেটারকে এর মধ্যেই বিশেষজ্ঞরা চিহ্নিত করেছেন ভবিষ্যতের তারকা হিসাবে। 

আরও পড়ুন- ফের গুরুতর অসুস্থ, হাসপাতালে ভর্তি কিংবদন্তি ফুটবলার পি কে বন্দ্যোপাধ্যায়

অতীতে অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্স করে ভারতীয় দলে তারকা হয়ে উঠেছেন এমন উদাহরণের অভাব নেই। মহম্মদ কাইফ, যুবরাজ সিং, চেতেস্বর পূজারা, বিরাট কোহলির মতো তারকারাও প্রথমে অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপে ভালো পারফরম্যান্স করেছেন। তারপর ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন ভারতীয় জাতীয় দলের সম্পদ। কিন্তু এমন উদাহরণেরও অভাব নেই যেখানে আশা থাকা সত্ত্বেও তারকা হয়ে উঠতে ব্যর্থ হয়েছেন সেই ক্রিকেটাররা। ২oo৮ অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপে ভারতের উইকেটকিপার ছিলেন শ্রীবৎস গোস্বামী। বিরাট কোহলির পর তিনি শ্রীবৎস গোস্বামী ছিলেন ভারতীয় দলের টপ স্কোরার। কিন্তু তিনি কোনদিন ভারতের জাতীয় দলে সুযোগ পাননি। ২০১২ সালে ভারতের অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপের অধিনায়ক উন্মুক্ত চাঁদ কে নিয়েও অনেক আশা ছিল সকলের। অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সেঞ্চুরি করে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কোনওভাবে তিনিও নিজের রাস্তা হারিয়ে ফেলেন। 

আরও পড়ুন- বিশ্বকাপ ফাইনালে আজ অন্য মাত্রা পাবে এশিয়ান দ্বৈরথ, নজিরের সামনে দাঁড়িয়ে দু-পক্ষই

এর মধ্যে বেশ কয়েকজনকে ভবিষ্যতের তারকা হিসাবে এর মধ্যেই চিহ্নিত করে ফেলেছেন বিশেষজ্ঞরা। এখন শুধু তাদের পারফরম্যান্সই দেখছেন দর্শকেরা। কিন্ত তাদের সফল পারফরম্যান্স এর পেছনে যে পরিশ্রম রয়েছে তার সম্পর্কে খুব কম লোকই জানেন। আমরা সকলে এখন অসাধারণ পারফরম্যান্স করতে দেখছি ভারতের ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল কে। কিন্তু ১০ বছর আগে তার উত্তরপ্রদেশ থেকে কষ্ট করে মুম্বাই আসার গল্প খুব বেশি লোক জানেন কি? ২০২০ তে রাজস্থান রয়্যালস বিশাল দরে কিনে নেওয়ার আগে অবধি তাকে এহেন কাজ নেই যা করতে হয়নি। এক সময় তাকে ফুচকাও বিক্রি করতে হয়েছিল। তবু ক্রিকেট খেলা ছাড়েননি তিনি।

আরও পড়ুন- ব্যাটিং ব্যর্থতায় ফের হার ভারতের, এবার কোহলিদের সামনেই হোয়াইওয়াশ- এর আশঙ্কা

ভারতের অনুর্ধ ১৯ বিশ্বকাপ দলের অধিনায়ক প্রিয়ম গর্গের গল্প খুব বেশি লোকের জানা নেই। মাত্র ১১ বছর বয়সে তিনি মা-কে হারিয়েছিলেন। এই সময় তার পরিবারের কাছে ক্রিকেটের সরঞ্জাম কেনারও পয়সা ছিল না। বন্ধুর কাছ থেকে ধার নিয়ে তাকে ব্যাট এবং প্যাড কিনে দিয়ে খেলে যেতে উদ্বুদ্ধ করেন তার বাবা। আজ প্রিয়ম যে এই জায়গায় পৌঁছেছেন তাতে যে তার বাবার অবদান সবথেকে বেশি তা নিজের মুখে স্বীকার করেন প্রিয়ম। বর্তমানে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ প্রিয়ম কে কিনেছেন ১ কোটি ৯০ লাখ টাকার বিনিময়ে। ভারতের অনুর্ধ ১৯ দলের পেসার কার্তিক ত্যাগীর বাড়ি উত্তরপ্রদেশে। তার বাবা একজন সাধারণ চাষী। ধার দেনা করে তাকে ক্রিকেট খেলতে পাঠান তার বাবা। যে দেনা এখনো শোধ হয়নি। কার্তিক ত্যাগীকে বড় অংকের বিনিময়ে কিনেছে রাজস্থান রয়্যালস। এবার সেই ধার শোধ দিতে পারবেন তিনি।  এই রকম ভাবে অনেক অনুর্ধ ১৯ ক্রিকেটারকেই উঠে আসতে হয়েছে অনেক বাঁধা বিপত্তি পেরিয়ে। সে গুলোর খবর রাখেন কজন...