চকোলেটের লোভে তিন বছর বয়সে ক্যামেরার সামনে এসেছিলেন ঋষি কাপুর। রাজ কাপুরের ‘শ্রী ৪২০’ সিনেমায় ‘পেয়ার হুয়া ইকরার হুয়া’ গানের একটি দৃশ্যে শিশু অভিনেতা হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। কিশোর বয়সে  ঋষি কাপুর বলিউডে পা রেখেছিলেন ‘মেরা নাম জোকার’ ছবি দিয়ে। এই ছবির জন্য জাতীয় পুরষ্কারও অর্জন করেছিলেন তিনি। আর নায়ক হিসেবে ঋষি কাপুর জনপ্রিয়তা পান ‘ববি’ সিনেমায়। এই সিনেমার জন্য সেরা অভিনেতার ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি। অমিতাভ বচ্চন ও বিনোদ খান্নার মত নায়কদের মারদাঙ্গা অভিনয়ের যুগে ঋষি কাপুরকে দেখা যেত শান্ত এবং রোমান্টিক প্রেমিক হিসেবে। একারণেই বলিউডের ‘চকলেট বয়’ বলা হতো সুদর্শন ঋষি কাপুরকে।

আরও পড়ুন: 'ববি'র শুটিং ফ্লোরে পরস্পরের প্রেমে পড়েছিলেন, কিন্তু 'কাকা'র কাছে হার মানতে হয় লাজুক ঋষিকে

তবে জীবনের প্রথমার্ধে রোমান্টিক হিরো হিসাবে একের পর এক হিট ছবি করলেও সেখানে তাঁর অভিনয়ের ধরণ ছিল মোটামুটি একই ধরণের। তার তুলনায় সাম্প্রতির সময়ের ভুঁড়িওয়ালা ঋষি যেন অভিনয়ের দিক থেকে ছিলেন এনেক বেশি সপ্রতিভ। । একের পর এক চরিত্রে তাঁর ভার্সেটাইল অভিনয় নজর কেড়েছে দর্শকদের। 

ঋষির বলিউডে নতুন ইনিংস শুরু করার পর বেশ কয়েকটি ছবি মনে দাগ কেটে যাওয়ার মতো। এর মধ্যে ঋত্বিক রোশন অভিনীত  ‘অগ্নিপথ’ ছবির  রিমেকে ঋষির  খলচরিত্র ‘রউফ লালা’র কথা না বললেই নয়। এছাড়াও ‘ইয়ে হ্যায় জালওয়া’, ‘তেহজিব’, ‘হামতুম’, ‘ফানা’, ‘নামাস্তে লন্ডন’, ‘লাভ আজকাল’, ‘পাতিয়ালা হাউজ’, ‘ডি ডে’কাপুর অ্যান্ড সন্স’, ‘মুল্ক’ ও ‘শুদ্ধ দেশি রোমান্স’, ‘দো দুনি চার’, ‘১০২ নট আউট’, ‘ডি ডে’ ছবিতে তার অভিনয় প্রশংসিত হয়। ঋষি কাপুরকে শেষ দেখা গিয়েছে ইমরান হাসমির বডি ছবিতে। গত বছরের ডিসেম্বরে মুক্তি পায় ছবিটি।

আরও পড়ুন: ১৪ বছরের নীতুকে দেখলেই খুনসুটি শুরু করতেন ঋষি, বিয়ের দিন জ্ঞান হারিয়েছিলেন মিয়া-বিবি

তবে ঋষির দ্বিতীয় ইনিংসে এসবের মাঝে একটি সিনেমার কথা আলাদা করে বলতেই হবে, তার নাম  ‘ডি ডে’কাপুর অ্যান্ড সন্স’। এই ছবিতে আশি বছরের এক বৃদ্ধের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন ঋষি। বিশাল বপু নিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁর রক্তে রয়েছে অভিনয়। ঋষির মৃত্যুর পর সেই ছবির একটি ছোট্ট ক্লিপিংস সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছেন তাঁর এক গুনমুগ্ধ। যেখানে তাঁর সপ্রতিভ অভিনয় ঋষির চলে যাওয়ার দুঃখের মাঝেও ঠোঁটের কোনে এক চিলতে হাসি নিয়ে আসছে। 

 

 

কাপুর অ্যান্ড সন্স আশি বছরের দাদু চাইতেন পরিবারের সকলের সঙ্গে মিলে ফ্যামিলি ছবি তুলতে। কারণ কোনদিন তিনি চলে যাবেন, আর সেই সাধ অপূর্ণ থেকে যাবে। কিন্তু পরিবারের সকলের ব্যস্ততায় তা আর পূর্ণ হয়ে উঠছিল না। তাঁর নিখুঁত অভিনয় চরিত্রটিকে প্রাণবন্ত করে তুলেছিল। প্রতিটি পরিবারের খুঁতগুলোই এই ছবিতে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলে ধরা হয়েছিল। যেখানে প্রাক্তন সেনা আধিকারিক অমরজিৎ কাপুরের চরিত্রে ঋষি ছিলেন অনবদ্য।