ভারতীয় চলচ্চিত্রের এক মাইলস্টোন ছবি হল ববি। ১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া এই সিনেমা বলিউডে টিনএজ প্রেমের এক নতুন হিল্লোল তুলেছিল। আর প্রথম ছবি থেকেই  স্টার হয়ে গিয়েছিলেন ঋষি কাপুর। শোনা যায় 'ববি'র শুটিং  চলার সময় বলিউডের প্রথম চকোলেট বয়ের সঙ্গে নাকি ডিম্পল কাপাডিয়ার বেশ বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল। পরস্পরের প্রেমেও নাকি পড়েন তাঁরা। নিজের আত্মজীবনি  'খুল্লাম খুল্লা' তে সেই কথা বলেও গেছিলেন ঋষি। কিন্তু ডিম্পল ও ঋষি দুজনেই একে অপরকে পছন্দ করলেও কেন দানা বাঁঝল না সেই সম্পর্ক, তা নিয়ে অনেকের মনেই সেই সময় উঠেছিল প্রশ্ন। 

আরও পড়ুন: ১৪ বছরের নীতুকে দেখলেই খুনসুটি শুরু করতেন ঋষি, বিয়ের দিন জ্ঞান হারিয়েছিলেন মিয়া-বিবি

আরও পড়ুন: নারী প্রধান ছবিতে অভিনয় করতেন অম্লানবদনে, চলে গেলেন বলিউডের 'ভদ্র প্রেমিক'

ববিতে ঋষি কাপুরকে নায়ক হিসাবে রাজ কাপুর লঞ্চ করলেও তার পেছনে ছিল এক গল্প। ঋষির প্রথম ছবি ববি নয় বরং মেরা নাম জোকার। ১৯৭০ সালের এই ছবিতে বাবা রাজ কাপুরের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল ঋষিকে। প্রথম ছবিতেই কিশোর অভিনেতা হিসেবে ক্রিটিশকেদর প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন ঋষি। পেয়েছিলেন  ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও। কিন্তু  ‘মেরা নাম জোকার’ সমালোচকদের প্রশংসা পেলেও বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়নি। সে কারণে প্রচুর ঋণ জমে যায় রাজ কাপুরের। ব্যবসায়িক ক্ষতি সামলাতে তিনি নতুন ছবি নির্মাণের পরিকল্পনা করেন। আর মুম্বাইয়ে সফল বাণিজ্যিক ছবি তৈরির অব্যর্থ ফর্মুলা হলো প্রেম। সে সময় বলিউডের সুপারস্টার রাজেশ খান্না ছিলেন প্রেমের ছবির একচেটিয়া নায়ক। কিন্তু রাজ কাপুরের তখন বেশ টানাটানি চলছে। রাজেশ খান্নাকে ছবিতে নেওয়া মানেই বিপুল অর্থ ব্যয়। তাই রাজ কাপুর এক অন্য পন্থা নিলেন। ভাবলেন আনকোড়া নতুন মুখ নিয়ে টিনএজ প্রেমের ছবি বানাবেন। আর তাতেই খরচ কমাতে নিজের মেজ ছেলেকে নেন নায়কের চরিত্রে। 

 বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে  রাজ কাপুর ববির জন্য নায়িকা হিসাবে ঘোষণা করেছিলেন ডিম্পল কাপাডিয়ার নাম। প্রচার চালানো হয়  শত শত মেয়ের মধ্য থেকে তাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।  সব ফিল্মি পত্রিকার প্রচ্ছদে তখন ববিরূপী ডিম্পলের ছবি। ছবির শুটিং ফ্লোর কিশোর নায়ক-নায়িকার মধ্যে রসায়ন ভালই জমে উঠেছিল। ছবির স্বার্থে এই রসায়নকে প্রশয় দিয়েছিলেন রাজ কাপুরও। কিন্তু এর মধ্যেই তখন সুর কাটেন সেই সময়ের সুপারস্টার রাজেশ খান্না। রাজেশের  দুর্দান্ত গ্ল্যামারের কাছে প্রেমের যুদ্ধে হেরে যান অনভিজ্ঞ লাজুক তরুণ ঋষি। ডিম্পল হয়ে যান মিসেস খান্না। আর এই পরাজয় বিনা প্রতিবাদেই মেনে নিয়েছিলেন তিনি।

 

 

রাজেশের কাছে প্রেমের যুদ্ধে কেবল হারাই নয়, ব্যক্তিগত জীবনেও ডিম্পলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার মাশুল গুনতে হয়েছিল সেই সময় ঋষিকে। ডিম্পলের সঙ্গে ঋষির বন্ধুত্ব দেখে সেই সময় তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন পার্সি বান্ধবী ইয়াসমিন মেহতা। সেকথা পরে স্বীকারও করেন তিনি। তবে প্রেম লাইফ একেবারেই ব্যর্থ যায়নি ঋষির। ১৯৭৪ সালে জেহরিলা ইনসান থবির সেটে নীতু সিং-এর সঙ্গে বন্ধত্ব গড়ে ওঠে ঋষির। সেই বন্ধুত্বই পরে পরিনীতি পায় বিয়েতে। শোনা যায় সেই সময় কোনও প্রেমিকার থেকে কষ্ট পেলে নিতুর কাঁধে মাথা রেখেই কাঁদতেন কাপুর পরিবারের আদরের চিন্টু।