বলিউডে আদর্শ দম্পদিতের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ঋষি কাপুর ও নীতু সিং। সেই কিশোর বয়সের প্রেম কিছুটা রাজ কাপুরের শাসনেই পরিণতি পেয়েছিল ১৯৮০ সালের ২২ জানুয়ারি। তারপর দীর্ঘ ৪০ বছরের পথ চলা।  শোনা যায় তাঁদের দাম্পত্য জীবনে এক সময় অশান্তির কালো মেঘ জমে উঠলেও বিচ্ছেদ পর্যন্ত তা গড়ায়নি। বরং  বলিউডে সুখি দম্পতি হিসেবেই পরিচিত তারা। এমনকি ঋষি কাপুরের ক্যানসার ধরার পর বরাবর তাঁর পাশে থেকেছেন নীতু সিং। আমেরিকায় ঋষির  চিকিৎসা চলার সময় তাঁর ঢাল হয়ে সাহস যুগিয়েছেন একসময় বলিউডের নামকরা নায়িকা।

 

 

এখন ছেলে রণবীর যেমন বিয়ের নাম শুনলেই দূরে পালান, শোনা যায় একটা সময়  ঋষি কাপুরও নাকি তেমনই ছিলেন। এমনকি তিনি যে নিতুকে ভালোবাসেন, সে উপলব্ধিও নাকি তাঁর হয়েছে অনেক পরে। তাঁদের প্রেমের বড় একটা সময় কেটেছে বন্ধুত্বের পরিচয়ে ঢাকা পড়ে। নীতু সিং ঋষিকে ভালোবাসতেন ঠিকই, কিন্তু ঋষি এই  সম্পর্ককে নিছকই  বন্ধুত্বই মনে করতেন। ১৯৭৪ সালে জেহরিলা ইনসান ছবির সেটে দেখা হওয়ার পর দু'জনের এরতাই বন্ধুত্ব তৈরি হয়েছিল যে ঋষি নীতুকে তাঁর সব প্রেমিকার গল্প শোনাতেন। কোনো প্রেমিকার কাছ থেকে কষ্ট পেলে নিতুর কাঁধে মাথা রেখে কাঁদতেনও নাকি ঋষি। একে অপরকে খ্যাপাতেন, ঝগড়া করতেন। আর সাংবাদিকেরা তাঁদের এই খুনসুটির সম্পর্কের নাম জানতে চাইলে বলতেন ‘উই আর জাস্ট ফ্রেন্ডস’।

 

 

বলিউডের চকোলেট বয়ের সঙ্গে নীতুর যখন আলাপ হয়, তাখন তাঁর বয়স মাত্র ১৪ বছর। আর ঋষি তখন ১৯ বছরের সদ্য যৌবনে পা দেওয়া যুবক। সেই সময় তারকা হয়ে যাওয়া ঋষির চারপাশে নায়িকাদের ভিড় লেগেই থাকত। আর নীতুকে দেখলেই নাকি মজা করতে শুরু করতেন ঋষি। ঝগড়া থেকেই নাকি প্রেমের সূত্রপাত হয়েছিল দু'জনের। তবে ধীরে ধীরে ঋষির এই স্বভাবই ভাল লাগতে শুরু করে। শেষে খেল খেলমে ছবি করার সময় তাঁদের প্রেম গাঢ় হয়। প্রেম করলেও ঋষি অবশ্য বিয়ে করার ব্যাপারে অতটা সিরিয়াস ছিলেন না। তবে বাবা রাজ কাপুরের ধমকানিতেই ১৯৮০  সালের জানুয়ারিতে বিয়ের পিঁড়িতে বসেন ঋষি। তবে সেখানও রয়েছে মজার গল্প। শোনা যায় বিয়ের দিন ঋষি ও নীতু দুজনেই অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন। তবে কারণ ছিল আলাদা, আলাদা। বিয়ে করতে যাওয়ার সময় ঘোড়ায় চড়তে গিয়ে ভিড় দেখে মাথা ঘুড়ে যায় ঋষির। আর নিতু নাকি ভারি লহেঙ্গা সামলাতে না পেরে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলেন।

নিতু-ঋষি জুটি সত্তর ও আশির দশকে বলিউডে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ‘কাভি-কাভি’, ‘অমর আকবর অ্যান্টনি’, ‘রাফু চক্কর’সহ ১৫টি ছবিতে  একসঙ্গে অভিনয় করেন তাঁরা। তবে বিয়ের পর আর ছবি করেনি নীতু। আর এই নিয়েই তৈরি হয়েছিল নতুন বিতর্ক। গুঞ্জন রটে, কাপুর পরিবারের চাপেই একের পর এক ছবি ছেড়ে দিচ্ছেন নীতু সিং। যদিও তিনি স্বেচ্ছায় ছবি ছেড়ে দিয়ে সংসার করতে চান বলে বিবৃতি দেন অভিনেত্রী।

আরও পড়ুন: নারী প্রধান ছবিতে অভিনয় করতেন অম্লানবদনে, চলে গেলেন বলিউডের 'ভদ্র প্রেমিক'

আরও পড়ুন: 'ববি'র শুটিং ফ্লোরে পরস্পরের প্রেমে পড়েছিলেন, কিন্তু 'কাকা'র কাছে হার মানতে হয় লাজুক ঋষিকে

নয়ের দশকে বলিউডের অসংখ্য সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম ও বেশ কয়েকটি দৈনিকে প্রকাশিত হল, ঋষি মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছেন। মদ্যপ অবস্থায় নীতুকে মারধরের অভিযোগও উঠেছিল ঋষির বিরুদ্ধে। নীতু নাকি বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু সব কিছুকে পিছনে সরিয়ে এবারও ফিরে আসেন নীতু। কপূর পরিবারের পাশেই দাঁড়ান তিনি। নীতু পরবর্তীতে একটি সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘‘সব সম্পর্কেই ওঠানামা থাকে, থাকে টানাপড়েনও। সব ভুল বোঝাবুঝি মিটিয়ে ভালবাসার মানুষের পাশে থাকাটাই আসল।’’ এর পর আর কখনও ঋষি বা নীতুকে নিয়ে কোনও গুঞ্জন সামনে আসেনি।