বুধবার মুম্বইতে মারা গিয়েছেন ইরফান খান। গত সপ্তাহে প্রয়াত হন ইরফানের মা। লকডাউনের কারণে শেষযাত্রায় মাকে ভিডিও কনফারেন্সে দেখতে হয় ইরফানকে। মায়ের সঙ্গে শেষবার না দেখা হওয়ার আক্ষেপ ছিল অভিনেতার। বৃহস্পতিবার সকালে ঋষি কাপুরের মৃত্যুর পর একই পরস্থিতির সম্মুখীন হতে হল কাপুর পরিবারকে। লকডাউনে দিল্লিতে শ্বশুরবাড়িতে রয়েছেন ঋষির একমাত্র মেয়ে ঋদ্ধিমা। ফোনে বাবা নেই, জানার পর থেকেই কান্না থামছে না অভিনেতার আদরের কন্যার। কিন্তু দিল্লি থেকে মুম্বইয়ের দূরত্ব ১৪০০ কিলোমিটার। লকডাউনের কারণে বন্ধ বিমান চলাচল। এই পরিস্থিতিতে ঋষির অন্তিম যাত্রায় ঋদ্ধিমা এসে পৌঁছতে পারবেন কিনা তা নিয়ে কাপুর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়। যদিও ইতিমধ্যে বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে ঋদ্ধিমা রওনা দিয়ে দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: 'ববি'র শুটিং ফ্লোরে পরস্পরের প্রেমে পড়েছিলেন, কিন্তু 'কাকা'র কাছে হার মানতে হয় লাজুক ঋষিকে

দিল্লির এক ব্যবসায়ী পরিবারে বিয়ে হয়েছে ঋষি কাপুর ও নীতু সিং-এর কন্যা ঋদ্ধিমা কাপুরের। লকডাউনের কারণে দিল্লিতেই নিজের পরিবারের সঙ্গে ছিলেন  ঋদ্ধিমা।  বাবা ঋষি কাপুরের মৃত্যুর খবর পেয়ে লকডাউনের কারণেই তিনি  এখনও মুম্বইতে এসে পৌঁছতে পারেননি ৷ তবে সূত্রের খবর, স্থানীয় প্রশাসনকে ঋষি কন্যা অনুরোধ করেছেন তাঁকে মুম্বইতে যাওয়ার অনুমতি দিতে ৷ তিনি জানিয়েছেন, শেষবারের মতো বাবাকে দেখতে চাই ৷ দয়া করে আমাকে মুম্বই যাওয়ার জন্য অনুমতি দিন ৷

 

 

বুধবার গভীর রাতে হাসরাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল ঋষি কাপুরকে। সেই খবর শুনেই তাঁর মেয়ে ৩৯ বছরের ঋদ্ধিমা মুম্বই ফিরবেন বলে ঠিক করেন। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের কাছে ঋদ্ধিমা আবেদন করেন তাঁকে চার্টার্ড বিমানে ফেরার অনুমতি দেওয়া হোক। তাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানায়, এই অনুমতি শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দিতে পারবেন। তারপরেই গাড়িতে করে ফেরার অনুমতি চান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে অনুমতি মেলে। 

আরও পড়ুন: ১৪ বছরের নীতুকে দেখলেই খুনসুটি শুরু করতেন ঋষি, বিয়ের দিন জ্ঞান হারিয়েছিলেন মিয়া-বিবি

জানা গিয়েছে, দিল্লি থেকে মুম্বই ১৪০০ কিলোমিটার রাস্তা যেতে প্রায় ২৪  ঘণ্টা সময় লাগার কথা। আশা করা হচ্ছে, বাবার শেষকৃত্যের আগেই মুম্বই পৌঁছে যাবেন মেয়ে। শেষ দেখা দেখতে পাবেন তিনি। ঋদ্ধিমার আসার অপেক্ষাতেই রয়েছেন ঋষি কাপুরের স্ত্রী নীতু কাপুর, ছেলে রণবীর কাপুর এবং কাপুর পরিবারের অন্য সদস্যরা।

দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ডিসিপি জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে দশটার সময় ঋদ্ধিমা কাপুরকে মুম্বই যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ঋদ্ধিমা সহ পাঁচজনকে সড়কপথে মুম্বই যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি তাঁর পিতার শেষকৃত্যে যোগ দিতে পারেন।  এদিকে  চন্দনওয়াড়ি শ্মশানে ইতিমধ্যেই ঋষি কাপুরের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন পুরোহিতরা। মেয়ে সামারা ও স্বামী ভরত সাহানির সঙ্গে মুম্বই ফিরছেন ঋদ্ধিমা। শুধু মেয়ে ঋদ্ধিমাই নয়, নাতনি সামাইরাও ঋষি কাপুরের সবচেয়ে আদরের। তাই লকডাউনেও যে কোনও মূল্যে মুম্বই ফিরতে মরিয়া ঋষি কাপুর কন্যা। তবে ঋষি কাপুরের শেষদর্শন করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ এই লম্বা পথ সড়কপথে পার করতে প্রায় চব্বিশ ঘন্টা সময় লাগবে। 

এদিকে ঋষি কাপুরের মৃত্যু খবর পাওয়ার  পর ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন বার্তাও পোস্ট করেন ঋদ্ধিমা। বাবার সঙ্গে একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, 'বাবা তুমি জানো আমি তোমাকে কতটা ভালোবাসি। ভালো থেকো আমার সবচেয়ে শক্তিশালী যোদ্ধা, আমি তোমাকে প্রতিদিন মিস করব, তোমার ফেসটাইম কল আরও বেশি করে মিস করব! আবার দেখা হবে...ভালোবাসা নিও পাপা...'