দেশ জুড়ে ক্রমেই বেড়ে চলেছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। প্রতিদিনই আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যার রেকর্ড গড়ছে ভারত। একের পর এক লকডাউন করেও আটকানো যাচ্ছে না মারণ ভাইরাসের সংক্রমণ। করোনা ভাইরাসের প্রকোপ যত বাড়ছে ততই কালো মেঘ গাঢ় হচ্ছে দেশের ক্রীড়া জগতে। কোভিড ১৯ এর কারণে বন্ধ রয়েছে দেশের সংস্ত ধরনের স্পোর্টিং ইভেন্ট। অনির্দিষ্ট কালের জন্য বাতিল স্থগিত করা হয়েছে আইপিএল। স্থগিত হয়েছে জাতীয় গেমসও। ফুটবলের ক্ষেত্রেও অবস্থা তথৈবচ। এই পরিস্থিতিতে দেশের ফুটবল মরসুমের কী ভবিষ্যৎ হবে তা নিয়ে একটা সংশয় চলছিলই। বিভিন্ন সূত্রে খবর মিলছিল যে পিছিয়ে যেতে পারে দেশের ফুটবল মরসুমও। অবশেষে করোনা পরিস্থিতি বিচার করে সেই সিদ্ধান্তই নিয়ে ফেলল সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। 

আরও পড়ুনঃফোর্বসের বার্ষিক উপার্জনের নিরিখে ঘোষিত তালিকায় ৬৬ নম্বরে কোহলি, শীর্ষে ফেডেক্স

আসন্ন ২০২০-২১ ফুটবল মরশুম পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল এআইএফএফ। ফিফা এবং ভারত সরকারের প্রস্তাবিত গাইডলাইন পর্যালোচনা করে ফুটবল মরশুম পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহ করল দেশের ফুটবল সংস্থার কর্তারা।  এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা ইতিমধ্যেই পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের ফুটবলের গভর্নিং বডিগুলোর কাছে।এক বিবৃতি মারফৎ এআইএফএফ জানিয়েছে, ‘অতিমারীর সাম্প্রতিক যা পরিস্থিতি তাতে স্বাভাবিক জননীবন কবে ফিরে আসবে কিংবা দেশের মাটিতে পুনরায় কবে স্পোর্টস ইভেন্ট চালু করা সম্ভব হবে সে বিষয়ে অনিশ্চিত আমরা। তাই সবকিছু বিচার করে এআইএফএফ ২০২০-২১ ফুটবল মরশুম পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। মরশুম কবে শুরু হবে সে বিষয়ে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া হবে।’

আরও পড়ুনঃক্রিকেটে সব ম্যাচই 'ফিক্সড',সৎভাবে হয়না কোনও খেলা, বিস্ফোরক দাবি বুকি সঞ্জীব চাওলার

আরও পড়ুনঃকরোনা আবহেই ৫৫ জন ক্রিকেটারকে অনুশীলনে ফেরার অনুমতি দিল ইসিবি

গত বছর আইএসএল শুরু হয়েছিল ২০ অক্টোবর এবং আই লিগ শুরু হয়েছিল ৩০ নভেম্বর। কিন্তু করোনার জেরে চলতি বছর দেশের দুই লিগ কবে শুরু হবে তা নিয়ে আপাতত ধোঁয়াশায় ফুটবল ফেডারেশন। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আগামী মরশুমে দলবদলের বাজারেও প্রভাব পড়তে চলেছে। ফিফা নির্দেশিত আসন্ন মরশুমে ফুটবলারদের রেজিষ্ট্রেশন সংক্রান্ত যে মেয়াদকাল রয়েছে তাতে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে আলোচনা সাপেক্ষে পরিবর্তন আনা হতে পারে বলে জানিয়েছে এআইএফএফ। শুধু তাই নয়, বন্ধ রয়েছে বিভিন্ন রাজ্য ভিত্তিক ঘরোয়া ফুটবল লিগগুলিও। দেশের অবস্থা যেদিকে যাচ্ছা আর ফুটবল যেহেতু সবথেকে শারীরিক সংঘর্ষের খেলা তাই কোনও রকম ঝুঁকি নিতে চাইছেন না ফেডারেশনের কর্তারা। পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর ফুটবল মরসুম নিয়ে ভাবনা চিন্তা করা হবে বলে জানানো হয়েছে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার তরফে।