রবিবার থেকে শুরু হয়ে ভারতীয় ফুটবল মরসুম। দেশের এক নম্বর লিগের তকমা নিয়ে যাত্রা শুরু আইএসএলের। প্রতিবারের মতই চমকে ভর করে এবার বলিউডি টাচ রেখে শুরু ভারতীয় ফুটবলের মিলিয়ন ডলার লিগ। ওপর থেকে দেখলে মনে হবে এই লিগ বিশ্বের বিভিন্ন বড় লিগকে টক্কর দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু বাস্তবে চিত্রটা কী তাই ? একটু খতিয়ে দেখলে এমন অনেক কথাই উঠে আসছে যা চমকের আড়ালে থেকে যাচ্ছে, যা আগামী দিনে আশঙ্কর একটা বার্তা রেখে দিচ্ছে। 

১৪ বছরের বান্ধবীকে বিয়ে করলেন নাদাল, ছবির কোলাজে সম্পর্কের রসায়ন

এবারের আইএসএল শুরুর আগেই পুণে ফ্রাঞ্চাইজি লিগ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে। হায়দরাবাদের কাছে ফ্রাঞ্চাইজির দায়িত্ব তুলে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন পুণের কর্তারা। দেশের রাজধানী শহরও এবার আর আইএসএলে নেই। কারণ দিল্লি ডায়নামোজ এবার রাজধানী ছেড়ে ওড়িশায় চলে এল। কিন্তু কেন ? আসলে অর্থিক সঙ্কট যে ক্রমশ থাবা বসাতে শুরু করেছে লিগে। প্রথম দুই বা তিন বছর বাদ দিলে কোনও ফ্রাঞ্চাইজি লাভের মুখ দেখেনি। বরং বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েছে তারা। তথ্য বলছে প্রতি মরসুমে  চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ কোটি টাকাও ক্ষতি হয়েছে কোনও কোনও ফ্রাঞ্চাইজির। এতবড় অঙ্কের ক্ষতি সামলে কি ভাবে এগিয়ে যাবেন তারা? গতমরসুমে পুণে ফুটবলারদের বেতন দিতে পারছিল না। তাই সব দিক দেখে ফ্রাঞ্চাইজি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাদের। ডায়নামোজ কতৃপক্ষের দিল্লি থেকে সরে ওড়িশায় আসার অন্যতম কারণ খরচ কমানো। 

সপ্তাহ খানের আগেই এএফসির সদর দপ্তরে ভারতীয় ফুটবলের সব স্টেক হোল্ডারদের নিয়ে এএফসি ভারতীয় ফুটবলের আগামীর রূপরেখা তৈরি করেছে। যেখানে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ মরসুম থেকে আইলিগ চ্যাম্পিয়ন ক্লাব আইএসএল খেলবে। আইএসএল থেকে অবনম হয়ে যাওয়া ক্লাব চলে আসবে আইলিগে। কিন্তু অনেকের মতে ততদিন আইএসএল থাকবেতো? কারণ ব্যবসার দিক থেকে যে ফ্রাঞ্চাইজিগুলি খুব একটা ভালও জায়গায় নেই।  

আরও পড়ুন - ড্যামেজ কন্ট্রোলই সৌরভের প্রথম লক্ষ্য, দশ মাসেই কিছু করে দেখাতে চান মহারাজ

এদিকে রবিবার থেকে ছাক ছোল পিটিয়ে আইএসএল শুরু হলেও আইলিগ নিয়ে এখনও কোনও সিদ্ধান্তই নিতে পারল না ফেডারেশন। টিভি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা তো দুরের কথা, এখনও পর্যন্ত আইলিগের সূচিই করে উঠতে পারেনি ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন। ক্লাবগুলি অন্ধকারে। নিজেদের উদ্যোগেই টিভি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও করার উদ্যোগ নিয়েছে অনেক ক্লাব। কিন্তু তাতেও যে খুব ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে তেমনটা নয়। তাই আইলিগ নিয়ে অবহেলার সীমা নেই। আইএসএলর মত আইলিগের ক্লাব গুলিও আর্থিক সমস্যায় জেরবার। গত কয়েক বছরে একাধিক ক্লাব বন্ধ হয়েছে। তা নিয়েও যে ফেডারেশনের কোনও হেলদোল নেই। অথচ এই আইলিগ ফেডারেশেনর নিজস্ব টুর্নামেন্ট। 

এবার আসা যাক ফুটবলের দিকে। প্রথম দিকটা বাদ দিলে আইএসএল কি সত্যিই ভারতীয় ফুটবলে বিরাট উন্নতি করতে পেরেছে? খুব আত্মবিশ্বাসী হয়ে হ্যাঁ বলার লোক খুব কমই পাওয়া যাবে। কারণ এখনও বিভিন্ন আইএসএল ফ্রাঞ্চাইজি গুলি মুখ হিসেবে যাদের তুলে ধরছে তারা কেউই যে তাদের আবিস্কার নয়। আইলিগ থেকে বিখ্যাত হওয়া ফুটবলাররা নাম লেখাচ্ছেন আইএসএলে। বলা যায় আইএসএলের জন্য ফুটবলার তৈরি করছে আইলিগ ক্লাব গুলি। হাতের কাছেই সব থেকে বড় উদাহরণ হিসেবে পাওয়া যায় জবি জাস্টিনের নাম। কেরল থেকে ইস্টবেঙ্গলে এসে ভারতীয় ফুটবল মানচিত্রে তারকা হয়ে উঠলেন জবি। আর এবার নাম লেখালেন এটিকেতে। প্রতিবছরই এমন একাধিক উদাহরণ। ভাল মানের বিদেশি ফুটবলাও যে আইএসএল খেলতে আসছে তেমনটা নয়। তাই অনেক দর্শকই মুখ ফিরিয়েছেন মিলিয়ন ডলার ফুটবল থেকে। গত মরসুমে আইএসএলের থেকে আইলিগের টিভি রেটিং অনেক বেশি ছিল। 

আরও পড়ুন - চরম বিপদের মুখে ভারতের এই তরুণ ফুটবল প্রতিভা, কেরিয়ারে প্রশ্নচিহ্ন

কিন্তু এই সব কিছুই চমকের আড়ালে চলে যাচ্ছে। তাই ভারতীয় ফুটবলের আগামী দিন যে খুব উজ্জ্বল তেমনটা বলা যাচ্ছে না। কিন্তু প্রশ্ন আড়ালে চলে যাওয়া এই বিশয় গুলি সামনে আনার দায়িত্ব যাদের সেই ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনও যে চুপ করেই বসে আছে। জাতীয় দলের জার্সিতে সুনীলদের পারফরম্যান্স অনেকের মনে হচ্ছে ঘুমন্ত দৈত্য যেগে উঠছে। কিন্তু বাস্তব যে তেমন কোনও ইঙ্গিত দিতে পারছে না।