বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একমাসের টালবাহানার পর মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন সম্পূর্ণ হয়েছে। এনসিপি ও কংগ্রেসের সমর্থনে মসনদে বসেছেন শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে। তবে এই সরকারের চলার পথটা একেবারেই মসৃণ হবে না বলে মনে করা হচ্ছে। তার অন্যতম কারণ এনসিপি-কংগ্রেস শিবির ও শিবসেনা শিবিরের নীতিগত ও সংস্কৃতিগত ফারাক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা সত্যি করে একেবারে সরকারের পথ চলার প্রথম দিন থেকে এই ফারাকটা আরও বাড়াতে নেমে পড়ল বিজেপি। ফাটল লক্ষ্য করে ছোড়া হল গডসে বোমা।

আ্ররও পড়ুন - একবার পুড়েছে মুখ, ফের মহারাষ্ট্র মুখ্যমন্ত্রী পেতেই তুরন্ত টুইট মোদীর

বুধবার সংসদে মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারী নাথুরাম গডসে-কে দেশপ্রেমী আখ্যা দিয়েছেন বিজেপি সাংসদ সাধ্বী প্রজ্ঞা। তারপর থেকেই এই নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে। মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনের পরই বিজেপির পক্ষ থেকে মনে করিয়ে দেওয়া হল, মহারাষ্ট্রে যাদের নিয়ে সরকার গঠন করল কংগ্রেস, সেই শিবসেনাই কিন্তু অতীতে গডসে-র প্রশংসা করেছিল। প্রশ্ন ছোড়া হল এর জন্যই কি গান্ধী পরিবার লজ্জা পেয়ে উদ্ধবের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান এড়িয়ে গেল?

আরও পড়ুন - 'সুলতানশাহি'র কাছে আত্মসমর্পন 'গডসে ভক্ত'দের, 'সামনা'র হবে 'সনিয়ানামা'

বিজেপির মুখপাত্র, জিভিএল নরসিমা রাও টুইট করে সরাসরি রাহুল গান্ধীকে 'ভণ্ড' বলে সমালোচনা করলেন। মনে করিয়ে দিলেন শিবসেনার মুখপত্র 'সামনা'-তেই গডসে-কে দেশপ্রেমিক বলা হয়েছিল। সংসদে বুধবার সাধ্বীর ওই মন্তব্যের পর থেকে কংগ্রেস বিজেপি-কে গডসে প্রশ্নে লাগাতার আক্রমণ করে চলেছে। এমনকী রাহুল গান্ধী এক টুইটে সাধ্বীকেও সন্ত্রাসবাদী বলেছেন।

আরও পড়ুন - যবনিকা পতন, বালাসাহেবের পা ছুঁয়ে ফড়নবিশের নাকের ডগায় শপথ নিলেন হলেন উদ্ধব

বুধবার রাতেই গান্ধী পরিবার ও মনমোহন সিং-কে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আদিত্য ঠাকরে নিজে গিয়েছিলেন সনিয়া গান্ধী ও মনমোহন সিং-এর বাড়ি। এদিন রাহুল, সনিয়া মনমোহন কেউই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে আসেননি। চিঠি পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তবে সনিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে অনুষ্ঠানে ছিলেন আহমেদ প্যাটেল, কপিল সিব্বল, কমল নাথ-রা।

আরও পড়ুন - সত্যি হল না গুজব, শেষ পর্যন্ত 'ধর্মনিরপেক্ষ' হল শিবসেনা