- Home
- India News
- Guwahati Earthquake: গুয়াহাটিতে ভূমিকম্পের পরেও রয়েছে সতর্কবার্তা! কেন কাঁপল অসম? সামনে আরও বড় বিপদ?
Guwahati Earthquake: গুয়াহাটিতে ভূমিকম্পের পরেও রয়েছে সতর্কবার্তা! কেন কাঁপল অসম? সামনে আরও বড় বিপদ?
৮ সেপ্টেম্বর সকাল ৯:৫৭ মিনিটে অসমের গোয়ালপাড়ায় ৪.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়। ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, এর কেন্দ্রস্থল ছিল গুয়াহাটি থেকে প্রায় ৮১ কিমি পশ্চিমে এবং ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিমি গভীরে।

ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (NCS) অনুসারে, মঙ্গলবার সকাল ৯:৫৭ মিনিটে অসমের গোয়ালপাড়ায় ৪.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১০ কিমি গভীরে এবং গুয়াহাটি থেকে প্রায় ৮১ কিমি পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে।
কম্পনটি মাঝারি হলেও, এটি আবারও অসমের দীর্ঘদিনের ভূমিকম্পের ঝুঁকিকে সামনে এনেছে। অসম সিসমিক জোন ৫-এর অন্তর্গত, যা ভারতের সর্বোচ্চ ভূমিকম্প ঝুঁকিপ্রবণ এলাকা। এর কারণ এখানকার জটিল টেকটোনিক গঠন এবং বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস।

ভূ-ত্বকের ভেতরে জমে থাকা শক্তি হঠাৎ মুক্তি পেলে শিলাস্তর একে অপরের উপর পিছলে যায় বা ভেঙে যায়, তখনই ভূমিকম্প হয়।
অসম একটি অত্যন্ত সক্রিয় টেকটোনিক অঞ্চলে অবস্থিত, যেখানে ভারতীয় প্লেট ইউরেশীয় প্লেট এবং ইন্দো-বর্মা অঞ্চলের টেকটোনিক সিস্টেমের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এই ক্রমাগত সংঘর্ষ উত্তর-পূর্বের নীচের শিলাস্তরে চাপ সৃষ্টি করে।
এই চাপ সবসময় সঙ্গে সঙ্গে ভূমিকম্প তৈরি করে না। চাপ জমতে থাকে এবং যখন তা শিলাকে ধরে রাখা ঘর্ষণ শক্তির চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন শিলাস্তর হঠাৎ সরে যায়। এই সরণের ফলেই শক্তি নির্গত হয় এবং ভূপৃষ্ঠে কম্পন অনুভূত হয়।
মঙ্গলবারের ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে, NCS এই ৪.১ মাত্রার ঘটনাটি ১০ কিমি গভীরে রেকর্ড করেছে, যার স্থানাঙ্ক ছিল ২৫.৯৭৪° উত্তর এবং ৯০.৯৪১° পূর্ব। সংস্থাটি এই ঘটনাটি পর্যালোচনা করেছে।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল গোয়ালপাড়ায়, যা গুয়াহাটি থেকে প্রায় ৮১ কিমি পশ্চিম-দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিমি গভীরে হওয়ায়, এর ফলে সৃষ্ট তরঙ্গ কাছাকাছি এলাকাগুলিতে বেশ ভালোভাবে অনুভূত হয়েছে।
তবে, কোনও নির্দিষ্ট স্থানে কম্পন কতটা অনুভূত হবে, তা নির্ভর করে কেন্দ্র থেকে দূরত্ব, গভীরতা, স্থানীয় ভূতত্ত্ব এবং ভবনগুলির ধরন ও অবস্থার উপর।
গুয়াহাটির জন্য এটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শহরের বিভিন্ন অংশের মাটি ও ভূতাত্ত্বিক অবস্থা ভিন্ন। অসমের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ গুয়াহাটির জন্য সিসমিক হ্যাজার্ড এবং মাইক্রোজোনেশন গবেষণা করেছে, যাতে স্থানীয় মাটির অবস্থা ভূমিকম্পের ঝুঁকিকে কীভাবে প্রভাবিত করতে পারে তা মূল্যায়ন করা যায়।
অসমে ভূমিকম্পের ঝুঁকি নতুন কিছু নয়। রাজ্যটি ভারতের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের অংশ।
অসম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষের মতে, রাজ্যটি সিসমিক জোন ৫-এর মধ্যে পড়ে এবং এখানে ১৮৯৭ ও ১৯৫০ সালের মতো ভয়াবহ ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
১৮৯৭ সালের গ্রেট অসম ভূমিকম্প এবং ১৯৫০ সালের অসম ভূমিকম্প—দুটিই ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টও ১৯৫০ সালের অসম ভূমিকম্পকে ভারতের ৮ বা তার বেশি মাত্রার বড় ভূমিকম্পের তালিকায় রেখেছে।
এই ইতিহাসই ব্যাখ্যা করে কেন একটি ছোট ভূমিকম্পও এই অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদী ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়।
তবে ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পের অর্থ এই নয় যে, এর পরেই একটি বড় ভূমিকম্প হতে চলেছে। ভূমিকম্প বিজ্ঞানীরা এখনও পর্যন্ত কোনও ভূমিকম্পের সঠিক তারিখ, সময়, স্থান এবং মাত্রা সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারেন না। একটি মাঝারি কম্পনকে ভিত্তি করে বড় ভূমিকম্পের নির্ভরযোগ্য সতর্কতা দেওয়া সম্ভব নয়।
একই সাথে, ভবিষ্যদ্বাণী করা যাচ্ছে না মানে এই নয় যে অঞ্চলটি বিপদমুক্ত। অসমের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভূমিকম্পের ইতিহাস মাথায় রেখে সবসময় প্রস্তুতি থাকা জরুরি, তা সে পরের ভূমিকম্প তাড়াতাড়ি হোক বা না হোক।
গুয়াহাটি কি বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে আছে?
গুয়াহাটি নিঃসন্দেহে বড় ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। কিন্তু ৮ মাত্রার একটি নির্দিষ্ট ভূমিকম্প 'আসন্ন' বা তার তারিখ বলে দেওয়া—এই ধরনের দাবি বিজ্ঞানসম্মত নয়।
অসমের সরকারি গবেষণায় বিভিন্ন বড় ভূমিকম্পের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়েছে, যার মধ্যে ১৮৯৭ সালের গ্রেট শিলং ভূমিকম্পের উপর ভিত্তি করে ৮.৭ মেগাওয়াট (Mw) মাত্রার পরিস্থিতিও রয়েছে। এই ধরনের পরিস্থিতি ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকল্পনার জন্য ব্যবহার করা হয়, কোনো নির্দিষ্ট সময়ে ভূমিকম্পের ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে নয়।
রাজ্যের নিজস্ব ঝুঁকি মূল্যায়ন রিপোর্টেও বলা হয়েছে যে, ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি শুধু মাত্রার উপর নির্ভর করে না, বরং স্থানীয় মাটির অবস্থা, ভবন এবং পরিকাঠামোর উপরেও নির্ভর করে।
ভূমিকম্পের প্রস্তুতি কেন জরুরি?
মঙ্গলবারের কম্পন থেকে সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল, বড় ভূমিকম্প আসন্ন—এমনটা নয়। বরং, অসমের ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাস্তব এবং এর জন্য প্রস্তুতি প্রয়োজন।
গুয়াহাটির ঝুঁকি এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় অনেকটাই আলাদা হতে পারে, কারণ সেখানকার মাটি ও ভূমির গঠনে পার্থক্য রয়েছে। ঘনবসতি, দুর্বল ভবন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যাতায়াতের সীমিত সুযোগ একটি বড় ভূমিকম্পের পরিণতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
অসমের বিপর্যয় মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যেই গুয়াহাটিতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি মূল্যায়ন, খোলা জায়গা এবং প্রস্তুতির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
বাসিন্দাদের জন্য প্রাথমিক প্রস্তুতি জরুরি: বাড়ির মধ্যে নিরাপদ স্থান চিনে রাখা, জরুরি সামগ্রী প্রস্তুত রাখা, ভারী আসবাবপত্র সুরক্ষিত করা এবং সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশাবলী অনুসরণ করা ঝুঁকি কমাতে পারে।
তাই মঙ্গলবারের ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পকে অসমের ভৌগোলিক বাস্তবতার একটি অনুস্মারক হিসেবে দেখাই ভালো, বড় কোনও কম্পনের ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে নয়।

