মোদী সরকারের জাতি গণনার পদ্ধতিকে 'ত্রুটিপূর্ণ' বলে আক্রমণ করলেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ। তাঁর দাবি, প্রশ্নপত্রে যা খুশি লেখার সুযোগ না দিয়ে, একটি নির্দিষ্ট জাতির তালিকা থাকা উচিত। সঠিক তথ্য ও সামাজিক ন্যায়ের জন্য এটা জরুরি, নাহলে পুরো প্রক্রিয়াটাই ব্যর্থ হবে বলে তিনি মনে করেন।
বুধবার কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ জাতি গণনা নিয়ে দলের পুরনো দাবিই আবার তুলে ধরলেন। তিনি বলেন, প্রশ্নপত্রে কোনো নির্দিষ্ট জাতির তালিকা না রেখে, সবাইকে নিজের মতো করে জাতি লেখার যে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, তা বাতিল করতে হবে। এর বদলে একটি সার্টিফায়েড বা অনুমোদিত জাতির তালিকা যোগ করার দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস। এই দাবির সমর্থনে দেশজুড়ে ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ১৭টি সাংবাদিক বৈঠকও করেছে দল।
রমেশের যুক্তি, জাতি গণনা শুধু বিভিন্ন জাতির জনসংখ্যা গোনার জন্য নয়। এর আসল উদ্দেশ্য হল 'সঠিক তথ্য' ব্যবহার করে সামাজিক ন্যায় এবং সকলের সঠিক অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করা।
'এটা একটা মারাত্মক ভুল'
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-এ একটি পোস্টে কংগ্রেস সাংসদ বলেন, “জাতি গণনা শুধু জাতি গোনার বিষয় নয়, এটা সামাজিক ন্যায় নিশ্চিত করার একটা উপায়। সঠিক প্রশ্ন → সঠিক তথ্য → সঠিক অংশীদারিত্ব → সামাজিক ন্যায়। কংগ্রেস বারবার দাবি করা সত্ত্বেও মোদী সরকার জাতি গণনার বর্তমান ফর্ম্যাটে ড্রপডাউন তালিকার বদলে যা খুশি লেখার সুযোগ রেখেছে। এটা একটা মারাত্মক ভুল। মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী মোদী চাইছেন, একই জাতির মানুষ ভিন্ন ভিন্ন নাম, উপ-জাতি বা বানান লিখুক, যাতে পুরো জাতি গণনার প্রক্রিয়াটাই ব্যর্থ হয়ে যায়।”
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আপত্তি
এই প্রসঙ্গে তিনি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা একটি চিঠির কথাও উল্লেখ করেন। জয়রাম রমেশ জানান, “কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেখানে সঠিক পদ্ধতিতে জাতি গণনা করার মূল দাবির কথা বলা হয়েছিল, কিন্তু এখনও তার কোনো জবাব আসেনি। গত ২০ আগস্ট লেখা ওই চিঠিতে দুই শীর্ষ নেতাই জাতি গণনার বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিলেন।”
রমেশ আরও লেখেন, “চিঠিতে দাবি করা হয়েছিল যে বর্তমান প্রশ্নপত্র বাতিল করে সার্টিফায়েড জাতির তালিকার ভিত্তিতে একটি নতুন প্রশ্নপত্র তৈরি করা হোক। তেলেঙ্গানা এবং বিহারে যেভাবে আগে থেকে তৈরি করা সার্টিফায়েড জাতির তালিকা অনুযায়ী গণনা হয়েছে, সেটাই এর জন্য বাস্তবসম্মত সমাধান। নতুন প্রশ্নপত্র তৈরির জন্য রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার দাবিও করা হয়েছিল চিঠিতে। এই দাবিগুলো নিয়েই কংগ্রেস গত চারদিনে দেশজুড়ে ১৭টি সাংবাদিক বৈঠক করেছে।”
বিহার-তেলেঙ্গানা মডেলের দাবি
কংগ্রেস ২০২৭ সালের জনগণনায় জাতি গণনার দাবি তুলেছে। গত ১৪ আগস্ট জাতি গণনা সংক্রান্ত যে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল, তার সমালোচনা করে কংগ্রেস তেলেঙ্গানা এবং বিহারের মডেলে এই গণনা করার দাবি জানিয়েছে।


