দেশীয় পঞ্জম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি হবে এই রাজ্যে, কারখানা তৈরিতে ৬০০ একর জমি
অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ভারতের প্রথম দেশীয় স্টেলথ যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA) নির্মাণের জন্য ৬০০ একর জমি অনুমোদন করেছে। রাজ্য মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ভারতের প্রথম দেশীয় স্টেলথ যুদ্ধবিমান অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট (AMCA) নির্মাণের জন্য ৬০০ একর জমি অনুমোদন করেছে। রাজ্য মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কারখানাটি শ্রী সত্য সাই জেলায় অবস্থিত হবে। এখানে ফাইনাল অ্যাসেম্বলি, প্রোটোটাইপ তৈরি, গ্রাউন্ড টেস্টিং, একটি ফ্লাইট কমপ্লেক্স এবং বিজ্ঞানীদের আবাসনের সুবিধা থাকবে।
এই কেন্দ্রটি প্রায় ১৪০টি AMCA স্টেলথ জেট উৎপাদন করবে। এই প্রকল্পে প্রায় ১ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেমস, এলঅ্যান্ডটি এবং ভারত ফোর্জের মতো বেসরকারি সংস্থাগুলো অংশীদারিত্বে কাজ করবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই প্রকল্পে এইচএএল (হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড)-কে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং কাজের গতি বাড়বে।
এই স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছে কারণ এটি বেঙ্গালুরুর অ্যারোনটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ADA)-র খুব কাছে, যেখানে AMCA-র নকশা ও উন্নয়নের কাজ ইতোমধ্যেই চলছে। এই এলাকায় একটি এয়ারস্ট্রিপও রয়েছে, যা পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু ২০২৫ সালেই এই প্রকল্পের জন্য অন্ধ্রপ্রদেশকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। এখন, মন্ত্রিসভা এটি অনুমোদন করেছে।
আমকা হল ভারতের পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ ফাইটার জেট। এটি শত্রুপক্ষের রাডারে অদৃশ্য থাকবে। এতে থাকবে উন্নত প্রযুক্তি, সুপারক্রুজ গতি, উন্নত অ্যাভিওনিক্স এবং বহুমুখী সক্ষমতা। এটি রাফাল এবং এসইউ-৩০ এমকেআই-এর মতো বর্তমান জেটগুলির চেয়েও বেশি উন্নত হবে। এর প্রোটোটাইপটি ২০২৭ সালের মধ্যে নির্মাণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই প্রকল্পটি ভারতকে বিদেশি জেটের উপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করবে। বেসরকারি সংস্থাগুলির অংশগ্রহণ প্রযুক্তি হস্তান্তরকে ত্বরান্বিত করবে এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করবে। সামগ্রিকভাবে, এই প্ল্যান্টটি ভারতের মহাকাশ শিল্পকে উন্নত করবে।
১৪০টি আমকা জেটের উৎপাদন ভারতীয় বিমান বাহিনীকে শক্তিশালী করবে। এই প্রকল্পটি রফতানির সুযোগও উন্মুক্ত করতে পারে। সরকারের লক্ষ্য হল ২০৩০ সালের মধ্যে ভারতকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের একটি প্রধান রফতানিকারক দেশ হিসেবে গড়ে তোলা। এই প্রকল্পটি অন্ধ্রপ্রদেশে শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থান উভয়ই বৃদ্ধি করবে।