Drishyam Inspired Murder: রুপোলি পর্দার ক্রাইম থ্রিলার দেখে নিখুঁত অপরাধের ছক। নিজের লোকেশন ট্র্যাকিং এড়াতে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার সফর। শেষরক্ষা হলো না। জনপ্রিয় বলিউড সিনেমা 'দৃশ্যম' দেখে ফন্দি এঁটে বাবাকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল যুবকের বিরুদ্ধে।

Drishyam Inspired Murder: রুপোলি পর্দার ক্রাইম থ্রিলার দেখে নিখুঁত অপরাধের ছক। নিজের লোকেশন ট্র্যাকিং এড়াতে প্রায় ২ হাজার কিলোমিটার পথ সফর। তা সত্ত্বেও শেষরক্ষা হলো না। জনপ্রিয় বলিউড সিনেমা 'দৃশ্যম' (Drishyam) দেখে ফন্দি এঁটে জন্মদাতা বাবাকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। বিহারের সমস্তিপুর জেলায় ঘটে যাওয়া এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মাস্টারপ্ল্যান বানচাল করে দিল অভিযুক্তের নিজেরই করা এক মিনিটের একটি ভুল সিদ্ধান্ত। পুলিশি জালে এখন ঠাঁই হয়েছে ঘাতক ছেলের।

বাবার সঙ্গে তিক্ত সম্পর্ক

পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত যুবকের নাম শিব শঙ্কর সাহনি (২৬)। সে তার স্ত্রীসহ গুজরাটের সুরাটে থেকে কাজ করত। বিহারের সমস্তিপুরের দরবা গ্রামে থাকতেন শিব শঙ্করের ৫০ বছর বয়সি বাবা, কৃষক রঘুবীর সাহনি। পারিবারিক জমি বিক্রি নিয়ে মতবিরোধ ও বাবার কাছ থেকে লাগাতার মানসিক নির্যাতনের কারণে দু'জনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র তিক্ততা চলছিল।

কী বলছেন তদন্তকারীরা

তদন্তকারীরা জানান, সম্প্রতি সুরাটের একটি সিনেমা হলে অজয় দেবগণ অভিনীত 'দৃশ্যম' দেখার পর বাবাকে খুন করার চরম সিদ্ধান্ত নেয় শিব শঙ্কর। সিনেমায় দেখানো পুলিশকে বিভ্রান্ত করার কৌশল থেকেই সে শিখেছিল নিজের একটি ভুয়া 'টাইমলাইন' তৈরি করা এবং প্রযুক্তির নজরদারি এড়িয়ে চলা।

পরিকল্পনা কী ছিল

পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুরাট থেকে রওনা দেওয়ার সময় নিজের মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে দেয় অভিযুক্ত, যাতে সবাই ভাবে সে গুজরাটেই আছেই। এরপর ট্রেন ধরে পটনা ও হাজিপুর হয়ে ২৬ জুলাই সন্ধ্যায় সমস্তিপুরের পটেরি স্টেশনে এসে পৌঁছায়। কিন্তু চিনে ফেলার ভয়ে সেখান থেকে অটো ও প্রায় ৪ কিলোমিটার ক্ষেতের পথ হেঁটে গভীর রাতে গ্রামে নিজের বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে ঢোকে শিব শঙ্কর। বাড়ির ভিতরে থাকা কুঠার দিয়েই বাইরে খাটিয়ায় ঘুমিয়ে থাকা বাবার ওপর নৃশংসভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে সে। ঘাড় ও মাথায় একাধিক কোপ মেরে রঘুবীরকে হত্যা করে রক্তমাখা অস্ত্রটি অকুস্থলেই ফেলে রেখেই চম্পট দেয় সে।

খুনের পর কী পরিকল্পনা

খুনের পর নিজের পরিকল্পনা সফল হয়েছে ভেবেছিল শিব শঙ্কর। পটেরি স্টেশনে ফিরে সুরাটগামী ট্রেন ধরে সে। কিন্তু সেখানেই ঘটে যায় বড় ভুল। স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার জন্য কয়েক মিনিটের জন্য মোবাইল ফোনটি চালু করে সে। স্ত্রীকে ফোন করে ফের ফোন বন্ধ করে দিলেও ততক্ষণে তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হাতে পেয়ে গিয়েছে পুলিশ।

কীভাবে পুলিশের সন্দেহ হয়

ঘটনার তদন্তে নেমে সমস্তিপুর পুলিশ টেকনিক্যাল সার্ভেল্যান্স ও মোবাইল টাওয়ারের 'ডাম্প ডাটা' খতিয়ে দেখার সময় দেখে, ২৬ জুলাই রাতে শিব শঙ্করের বন্ধ ফোনের নেটওয়ার্ক হঠাৎ করেই পটেরি স্টেশনের কাছে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তার ঠিক ৩৬ ঘণ্টা পর ফোনটির লোকেশন ফের সুরাটে দেখা যায়। পাশাপাশি, বাবার মৃত্যুর পর শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে শিব শঙ্করের অনুপস্থিতি পুলিশের সন্দেহ আরও বাড়িয়ে তোলে। ফরেনসিক রিপোর্ট থেকেও ইঙ্গিত মেলে যে আততায়ী নিহতের অত্যন্ত পরিচিত কেউ।

কল ডিটেল রেকর্ডস থেকে সমাধান

কল ডিটেল রেকর্ডস (CDR) ধরে সুরাটে পৌঁছায় পুলিশ এবং পয়লা অক্টোবর শিব শঙ্করকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশি জেরায় শিব শঙ্কর নিজের অপরাধ স্বীকার করে জানায় যে, সিনেমার গল্প অনুকরণ করেই সে পুলিশকে ধোঁকা দেওয়ার ছক কষেছিল। ধৃতকে আপাতত বিচার বিভাগীয় হেফাজতে জেলে পাঠানো হয়েছে।