একটি বহুজাতিক কোম্পানির অ্যাসোসিয়েট অপারেটরকে সুরাট নগরের বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাবার ঝুলন্ত অবস্থা দেখার সময় তাঁর সাত বছর বয়সি ছেলে মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিল এবং সেই সময় তাঁর স্ত্রী তাঁকে নামানোর জন্য চিৎকার করছিলেন।

একটি বহুজাতিক কোম্পানির অ্যাসোসিয়েট অপারেটরকে সুরাট নগরের বাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাবার ঝুলন্ত অবস্থা দেখার সময় তাঁর সাত বছর বয়সি ছেলে মোবাইল ফোনে একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিল এবং সেই সময় তাঁর স্ত্রী তাঁকে নামানোর জন্য চিৎকার করছিলেন। পুলিশের তথ্যমতে, মৃত ব্যক্তির নাম সঞ্জীব যাদব (৩৬), যিনি ডেনসো (Denso) কোম্পানিতে অ্যাসোসিয়েট অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। তিনি অমৃতসরের বাসিন্দা ছিলেন এবং গুরুগ্রামের সুরাট নগর এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন।

স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদ চেয়েছিলেন

সঞ্জীবের বোন কিরণ অভিযোগ করেন যে, তাঁর ভাই ও স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলছিল। তাঁর স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদ চেয়েছিলেন। তা না হলে তাঁর ভাই আত্মহত্যা করতেন না। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ স্ত্রীকে আটক করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সঞ্জীব যাদবের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই সময় বাড়িতে কেবল তাঁর স্ত্রী মনপ্রীত কৌর এবং সাত বছরের ছেলে উপস্থিত ছিলেন। মনপ্রীত সঙ্গে সঙ্গে নিজের পরিবার ও সঞ্জীবের বাবা-মাকে আত্মহত্যার খবরটি জানান।

খুনের অভিযোগ পরিবারের

সঞ্জীবের বাবা রামসেবক যাদব জানান, সঞ্জীব ও তাঁর স্ত্রী মনপ্রীত কৌরের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলছিল। তিনি সন্দেহ করছেন যে, তাঁর পুত্রবধূ সহযোগীদের নিয়ে ষড়যন্ত্র করে তাঁর ছেলেকে হত্যা করেছেন। কিরণ জোর দিয়ে বলেন যে, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যুর পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি অবশ্যই তদন্ত করা উচিত, কারণ তিনি আত্মহত্যা করেননি। ফ্যানের সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের ঝুলন্ত অবস্থার ভিডিওটি তাঁর কাছে সন্দেহজনক মনে হয়েছে; তিনি উল্লেখ করেন যে তাঁর ভাইয়ের ওজন ১০০ কেজির বেশি ছিল। তিনি আরও বলেন, ভাইয়ের স্ত্রী তাঁর কাছ থেকে বিবাহবিচ্ছেদ চেয়েছিলেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সঞ্জীব এবং আম্বালার বাসিন্দা মনপ্রীত কৌরের মধ্যে ২০১৮ সালের ২৯ এপ্রিল প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল। গুরুগ্রামের 'ডেনসো' কোম্পানিতে কাজ করার সময় প্রায় আট বছর আগে তাঁদের পরিচয় হয় এবং পরে তাঁরা বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই সঞ্জীব গুরুগ্রামে বসবাস করছিলেন। ২০১৯ সালে মনপ্রীত এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন এবং এরপরই চাকরি ছেড়ে দেন। পুলিশ জানিয়েছে, "ময়নাতদন্তের পর আমরা মৃতদেহটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছি এবং সব দিক থেকে তদন্ত চালাচ্ছি। আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি, যা থেকে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে এবং সেই অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"