কী এই নতুন নোট, কেন আনা হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষের ওপর এর কী প্রভাব পড়তে পারে…..জানুন বিস্তারিত….

ভারতে চালু হবে প্লাস্টিকের নাোট! কবে থেকে পাবেন এই নতুন টাকা? ভারতে শীঘ্রই চালু হতে পারে পলিমার (প্লাস্টিক) ব্যাংকনোট। কেন্দ্র সরকার রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-কে পরীক্ষামূলকভাবে ২০০ কোটি পলিমার নোট ছাপার অনুমোদন দিয়েছে। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে ১০ টাকার ১০০ কোটি এবং ২০ টাকার ১০০ কোটি পলিমার নোট মুদ্রণ করা হবে। লোকসভায় এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধুরী।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, আপাতত কাগজের নোট সম্পূর্ণভাবে তুলে দেওয়ার কোনও পরিকল্পনা সরকারের নেই। পরীক্ষামূলক প্রকল্প সফল হলে কাগজের নোট এবং পলিমার নোট—দুই ধরনের মুদ্রাই একসঙ্গে প্রচলনে থাকবে।

পলিমার নোট সাধারণ কাগজের পরিবর্তে বিশেষ ধরনের টেকসই প্লাস্টিক ফিল্ম দিয়ে তৈরি হয়। প্রচলিত কাগজের নোটের তুলনায় এগুলি জল, ময়লা এবং দৈনন্দিন ব্যবহারে অনেক বেশি টেকসই। এছাড়া এতে উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য যুক্ত করা যায়, ফলে জাল নোট তৈরি করাও তুলনামূলকভাবে কঠিন হয়ে পড়ে। বিশ্বের একাধিক দেশ ইতিমধ্যেই সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে পলিমার নোট ব্যবহার করছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দেশ হল—

অস্ট্রেলিয়া: সব প্রচলিত ব্যাংকনোটই পলিমারে তৈরি।

কানাডা: জাল নোট রোধ ও দীর্ঘস্থায়িত্ব বাড়াতে সব নিয়মিত নোট পলিমারে ছাপা হয়।

যুক্তরাজ্য: £৫, £১০, £২০ ও £৫০—সব নোটই এখন পলিমারের।

নিউজিল্যান্ড: বহু বছর ধরে পলিমার নোট ব্যবহার করছে, যা বেশি পরিষ্কার, নিরাপদ ও টেকসই।

সিঙ্গাপুর ও ব্রুনেই: উভয় দেশেই পলিমার নোট প্রচলিত। বিশেষ চুক্তির কারণে দুই দেশের নোট একে অপরের দেশে সমমূল্যে গ্রহণ করা হয়।

ভিয়েতনাম: অধিকাংশ উচ্চ মূল্যমানের নোট পলিমারে তৈরি।

রোমানিয়া: দীর্ঘদিন ধরে সব প্রচলিত মূল্যমানের নোট পলিমারে ছাপা হচ্ছে।

নাইজেরিয়া: কিছু নির্দিষ্ট মূল্যমানের নোট পলিমারে চালু করেছে।

মালয়েশিয়া: নির্বাচিত প্রচলিত ও স্মারক নোটে পলিমার ব্যবহার করা হয়।

এ ছাড়াও পাপুয়া নিউ গিনি, ফিজি, সলোমন দ্বীপপুঞ্জ, সামোয়া, ভানুয়াতু, মালদ্বীপ, মরিশাস, চিলি এবং ত্রিনিদাদ ও টোবাগোসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশে পলিমার নোট ব্যবহৃত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পলিমার নোট কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি দিন ব্যবহারযোগ্য। ফলে বারবার নোট ছাপার প্রয়োজন কমবে এবং দীর্ঘমেয়াদে মুদ্রণ ব্যয়ও হ্রাস পেতে পারে। পাশাপাশি উন্নত নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের কারণে জাল নোট প্রতিরোধেও এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে ভারতে এই উদ্যোগ শুধুমাত্র পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে। ফিল্ড ট্রায়াল সফল হলে ভবিষ্যতে দেশও পলিমার নোট ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হতে পারে। তবে সরকার জানিয়েছে, কাগজের নোট সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার কোনও সিদ্ধান্ত এখনই নেওয়া হয়নি এবং উভয় ধরনের নোটই একসঙ্গে প্রচলনে থাকবে।