পশ্চিম এশিয়া সংকটের মধ্যেও দেশে জ্বালানির দাম স্থিতিশীল থাকবে। সরকার জানিয়েছে, দু'মাসের অপরিশোধিত তেল মজুত আছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও পেট্রোল, ডিজেল বা LPG-র দাম আপাতত বাড়ছে না।
পশ্চিম এশিয়ায় সংকট চললেও ভারতে তেলের অভাব হবে না। সরকার জানিয়েছে, আগামী দু'মাসের জন্য যথেষ্ট পরিমাণে অপরিশোধিত তেল মজুত করা হয়েছে। বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানিয়েছেন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা। জ্বালানির জোগান স্থিতিশীল রাখার আশ্বাস দিয়ে শর্মা বলেন, "আমাদের রিফাইনারিগুলো পুরোদমে কাজ করছে। কোনও পেট্রোল পাম্পে তেল শেষ হয়ে যাওয়ার খবর নেই।"
বিশ্ববাজারে দাম বাড়লেও দেশে স্থিতিশীল
আন্তর্জাতিক বাজারে দামের প্রবণতা তুলে ধরে তিনি বলেন, "মাস দুয়েক আগেও ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল ব্যারেল প্রতি প্রায় ৭০ ডলার। এখন তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে।" এই বিপুল দাম বৃদ্ধি সত্ত্বেও, তিনি জোর দিয়ে বলেন, "দেশের সাধারণ মানুষের জন্য পেট্রোল বা ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি।" তিনি আরও জানান, "২০২২ সালের ৬ এপ্রিলের পর থেকে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়েনি। বরং ২০২৪ সালের মার্চ মাসে দাম ২ টাকা কমানো হয়েছিল, যা এখনও চলছে।"
সরকারের পদক্ষেপ ও বাজারের অবস্থা
সরকারি পদক্ষেপের বিষয়ে শর্মা বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা থেকে দেশের মানুষকে বাঁচাতে ভারত সরকার এক্সাইজ ডিউটি কমিয়েছে, যাতে দাম না বাড়ে।” তবে তিনি স্বীকার করেন, "দাম স্থিতিশীল রাখতে গিয়ে আমাদের তেল বিপণন সংস্থাগুলোকে (OMCs) পেট্রোল ও ডিজেল, দুটোতেই লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।" তিনি আরও বলেন, "দেশের বাজারে ATF (জেট ফুয়েল) এবং ডিজেলের জোগান নিশ্চিত করতে ভারত সরকার রফতানির ওপর লেভি বা কর চাপিয়েছে।"
জোগানের আশ্বাস ও জনগণের কাছে আবেদন
আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়ে শর্মা বলেন, "আমি সবাইকে আশ্বস্ত করতে চাই যে আমাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পেট্রোল ও ডিজেল মজুত আছে। তাই দয়া করে অযথা আতঙ্কিত হয়ে তেল কিনবেন না।" প্রাকৃতিক গ্যাসের জোগান নিয়ে তিনি বলেন, "বাড়িতে রান্নার গ্যাস এবং গাড়ির CNG-র ১০০ শতাংশ জোগান নিশ্চিত করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান যে সংযোগ বাড়ানোর কাজ চলছে। "মার্চ মাসে প্রায় ৩ লক্ষ ২৫ হাজার বাড়িতে গ্যাস সংযোগ দেওয়া হয়েছে, ২ লক্ষ ৮৫ হাজার নতুন সংযোগ দেওয়া হয়েছে এবং ৩ লক্ষ ৫০ হাজার নতুন গ্রাহক সংযোগের জন্য নাম লিখিয়েছেন।"
LPG ও কেরোসিনের পরিস্থিতি
LPG প্রসঙ্গে শর্মা বলেন, "আমাদের প্রায় ৬০ শতাংশই আমদানি করতে হয়।" তিনি উল্লেখ করেন, "আন্তর্জাতিক বাজারে LPG-র দাম (সৌদি সিপি বেঞ্চমার্ক) ৫২২ ডলার থেকে বেড়ে ৭৮০ ডলারে পৌঁছেছে। তা সত্ত্বেও, বাড়িতে ব্যবহারের LPG সিলিন্ডারের দাম বাড়ানো হয়নি।" তিনি যোগ করেন, "এই দাম বাড়ার ফলে তেল বিপণন সংস্থাগুলোকে (OMCs) আবার ক্ষতির মুখে পড়তে হবে, যেমনটা আগেও হয়েছে।" সরকারি সহায়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "২০২৩ সালে সরকার OMC-গুলোকে প্রায় ২২,০০০ কোটি টাকা দিয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের জন্য এই ক্ষতি সামাল দিতে প্রায় ৩০,০০০ কোটি টাকা অনুমোদন করা হয়েছে।"
জোগানের অবস্থা নিয়ে শর্মা বলেন, "কোনও LPG ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ার খবর নেই। গতকালই প্রায় ৬০ লক্ষ সিলিন্ডার ডেলিভারি করা হয়েছে।" তিনি আরও জানান, "বাণিজ্যিক LPG-র ক্ষেত্রে সরকার প্রায় ৭০ শতাংশ জোগান নিশ্চিত করেছে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোকে অতিরিক্ত কেরোসিনও দেওয়া হয়েছে।"
কালোবাজারি রুখতে পদক্ষেপ
কালোবাজারি রুখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেই প্রসঙ্গে শর্মা বলেন, "গুজব এবং আতঙ্ক ছড়ানো রুখতে রাজ্য সরকারগুলোকে সাহায্য করতে বলা হয়েছে। প্রায় ২,৮০০টি অভিযান চালানো হয়েছে এবং প্রায় ৫০০টি সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।" তিনি আবারও আবেদন জানিয়ে বলেন, "আমি সবাইকে অনুরোধ করছি, পেট্রোল, ডিজেল বা LPG কেনার জন্য আতঙ্কিত হবেন না। বাড়িতে ব্যবহারের জন্য LPG, পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানো হয়নি।" ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা ও ইজরায়েলের ইরানে হামলা এবং তার জবাবে ইরানের প্রত্যাঘাতের পর থেকেই পশ্চিম এশিয়ায় এই সংকট শুরু হয়েছে।


